আবারো অাগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর সবচেয়ে বড় বস্তি হিসেবে পরিচিত মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে। বুধবার দিবাগত রাতে লাগা এ আগুন প্রায় ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট। তবে তার আগেই পুড়ে যায় বস্তির কয়েকশো ঘর। এ নিয়ে গত এক বছরেই বস্তিটিতে কমপক্ষে চারবার আগুন লাগলো। এর আগে গত বছরের ১৫ মার্চ, ২১ নভেম্বর ও ৪ ডিসেম্বর সেখানে আগুন লাগে। এসব ঘটনায় প্রত্যেকবারই পুড়েছে বস্তির অসংখ্য ঘর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। গুলশান লেকের দুইপাশে প্রায় দেড়শ একর সরকারি জমির প্রতিষ্ঠিত বস্তিটিতে কয়েক লাখ লোক বসবাস করে। তাদের বেশির ভাগই নিম্ন আয়ের মানুষ; যারা দিন এনে দিন খান। এদের মধ্যে আছেন পোশাক শ্রমিক, রিকশাচালক, পরিবহন ও বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিক। মূলতঃ মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে এসব নিম্ন আয়ের মানুষ সেখানে থাকার সুযোগ পেয়ে থাকেন। গণমাধ্যমে প্রকাশ, এই বস্তিকে কেন্দ্র গড়ে উঠেছে বিশাল এক সিন্ডিকেট যাদের নিয়ন্ত্রণে হাজার কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য। বিশেষ করে অবৈধ মাদক ব্যবসা চলে। আর এসব অবৈধ ব্যাণিজ্যের পেছনে আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা। বলা হয়ে থাকে, কড়াইল বস্তি যাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে; রাজধানীতে তাদের ক্ষমতা অনেক বেশি। আমরা বিভিন্ন সময় তার প্রমাণও দেখেছি; এই বস্তির দখল নিতে একাধিক খুন-পাল্টা খুনের ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, বস্তিবাসীর অনেকেরই বিশ্বাস সেখানে লাগা আগুনের বেশিরভাগের পেছনেই আছে প্রভাবশালী মহলের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। এসব প্রভাবশালীর হাতে সেখানে জিম্মি হয়ে আছে কয়েক লাখ নিরীহ বস্তিবাসীর জীবন। আমরা আগেও দেখেছি, আগুন লাগার পর তার কারণ অনুসন্ধানে এক বা একাধিক তদন্ত কমিটি করা হয়। তাদেরকে একটা সময়ও বেঁধে দেয়া হয় প্রতিবেদন দিতে। কিন্তু সেই তদন্ত প্রতিবেদন আর আলোর মুখ দেখে না। কেউ কখনও জানতেও পারে না সেই আগুন লাগার কারণ। আমাদের প্রশ্ন এভাবে আর কতদিন চলবে? সব হারিয়ে নিঃস্ব হবে আর কত পরিবার? কতদিন রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিযোগিতার শিকার হবে নিরপরাধ মানুষ? আমরা এর শেষ দেখতে চাই।









