যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে মেসির হাত ধরে ৯৩’র পর আবারও ল্যাটিন চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরবে আর্জেন্টিনা নাকি নেইমার রঙে নতুন রঙ পাবে সেলেসাও ফুটবল! সে প্রশ্নের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৭ জুন নিউ-জার্সির মেটালাইফ স্টেডিয়ামে কোপা আমেরিকা ২০১৬’র পর্দা নামা পর্যন্ত। কোপা আমেরিকা মানেই; বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমীদের কাছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ফুটবলের আভিজাত্যের লড়াই। চায়ের দোকানে পেলে না ম্যারাডোনা মতো সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত ইস্যুতে তর্কে মেতে ওঠা আনন্দ।
২০০৭’র পর থেকে দু’দলের কারও হাতে শিরোপা না ওঠলেও ১৬’তে এসেও বাঙালির কাছে বিন্দু মাত্র আকর্ষণ কমেনি কোপার। বরং, বৈশ্বিক শিরোপা না হলেও বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো প্রতিযোগিতা মূলক আসরে দেশকে শিরোপা পাইয়ে দিতে দেখে মেসির অমরত্বের জন্য আরও গলা চড়া করা কিংবা সুয়ারেজ-উইলিয়ান-রদ্রিগেজদের মেসির কাতারে তুলে ধরার প্রয়াসে ঢুলুঢুলু চোখে টিভি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকবে কোটি ফুটবল পাগল বাঙালি।
তবে মেসি-সুয়ারেজের ওপর স্পট লাইট থাকলেও আলোটা নিজের করে নেওয়ার মতো ফুটবলার কমতি নেই এবারের কোপায়। মেসি-নেইমারেরই ক্লাব সতীর্থ লুইজ সুয়ারেজ তো রয়েছেনই। স্প্যানিশ ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার জার্সি গায়ে লা লিগায় ৩৫ ম্যাচে ৪০ গোল করে মেসি-রোনালদোকে পেছনে ফেলে জিতে নিয়েছেন স্প্যানিশ লিগের পিচিচি অ্যাওয়ার্ড। তবে লিগ ফুটবলের শেষ দিকের ইনজুরি উরুগুইয়ান ফুটবল ভক্তদের চিন্তার কারণ হয়ে থাকবে।
সম্প্রতি সময়ে দুর্দান্ত ফুটবল খেলা চিলির হয়ে চমক দেখানোর অপেক্ষায় রয়েছেন অ্যলেক্সিস সানচেজ। এফএ কাপে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে অসাধারণ এক গোলে আর্সেনালকে শিরোপা এনে দেওয়া সানচেজ হতে পারেন চিলিইয়ানদের তুরুপের তাস। এডিনসন কাভানি, হামেস রদ্রিগেজের কথা তো আর আলাদা করে বলার কিছু নেই। ইতিমধ্যে স্বঃমহিমায় তারা ফুটবল বিশ্বকে নিজেদের আলাদা ভাবে চেনাতে সমর্থ হয়েছেন। এছাড়া বার পোস্টের নিচে দাঁড়িয়েও হিরো হয়ে ওঠতে পারেন কাতালায়ন নির্ভরতার প্রতীক চিলিইয়ান গোল রক্ষক ক্লদিও ব্রাভো।
তবে ক্লাব ফুটবলের যুগে এসকল তারকাকে অনেকটাই নিজেদের বাঁচিয়ে খেলতে হয়। আর ল্যাতিন ফুটবল রাফ ট্যাকেলিং জন্য বিখ্যাত। ১৯১৬ সালে টুর্নামেন্ট শুরু হলেও প্রথম ২১ বছরের মধ্যে কাউকে কার্ড দেখানো হয়নি। ১৯৩৭ আর্জেন্টিনার মাটিতে অনুষ্ঠিত কোপায় উরুগুইয়ান ফুটবলার হুয়ান এমিলিও পিরিজকে প্রথম বারের মতো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন চিলির বিপক্ষে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছে ১৬৯ জন খেলোয়াড়।
বিশ্বমঞ্চের মতো অবশ্য ব্রাজিল তাদের শৈল্পিক ফুটবলে কোপাকে আচ্ছন্ন করতে পারেনি। উরুগুয়ে-আর্জেন্টিনার যেখানে রয়েছে ১৫ ও ১৪টি শিরোপা জেতার কৃতিত্ব; সেখানে ব্রাজিল শিরোপার মুকুট মাথায় তুলেছে মাত্র ৮বার। তবে সব চেয়ে বেশিবার ফাইনাল খেলার কৃতিত্ব রয়েছে আর্জেন্টিনার। ১৪ বার শিরোপা জেতার পরও ১৩ বার শ্রেষ্টত্বের মুকুট থেকে নিঃশ্বাস দূরত্ব থেকে ফিরতে হয়েছে আলবিসেলেস্তাদের। এর মধ্যে ১৯২৩ থেকে ৩৭ পর্যন্ত টানা সাতবার ফাইনাল খেলেছে দলটি। যার মধ্যে চারবার পেয়েছে শিরোপার স্বাদ।
এক্ষেত্রে কোপা অনেকটাই নিরাশ করেছে ব্রাজিলকে। ১৯ বার ফাইনালে দলকে তুলে নিয়েও শিরোপা জিতে ঘরে ফিরতে পেরেছে মাত্র ৮ বার। চিরপ্রতিদ্বন্দী আর্জেন্টিনার যেখানে রয়েছে ৪৫-৪৬-৪৭ এ হ্যাটট্রিক শিরোপার রেকর্ড সেখানে ব্রাজিল ৯৭-৯৯ শিরোপা ঘরে তুললেও ৯৫ এ উরুগুয়ের কাছে শিরোপা খুইয়ে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব থেকে বঞ্চিত হয় পেলের উত্তরসূরীরা। শিরোপার দাবিদারদের কাতারে এবার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রেরও নাম। তবে প্রথম বারের মতো আয়োজকের সম্মান পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাবনাও এবার খাটো করে দেখার উপায় নেই।








