বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো অক্টোবর মাসের প্রথম শুক্রবার, মানে আগামীকাল (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশে পালিত হবে বিশ্ব হাসি দিবস। নানা অনিয়মে ভারাক্রান্ত এদেশের সমাজ বাস্তবতায় সবাই যেনো হাসছে। তবে সেই হাসি দুঃখের, অক্ষমতার। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমন হাসির কথাই বলেছেন।
রাজেকুজ্জামান রতন লিখেছেন,
“৭ অক্টোবর বিশ্ব হাসি দিবস …
আমাদের কি দিবস ধরে হাসতে হবে ? আমরাতো সব সময় হেসেই যাচ্ছি ।
ভোট দিতে গিয়ে হাসি, ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে না পেরেও হাসি
বাজারে গিয়ে বড় মাছ দেখে হাসি, তার আকাশছোয়া দাম শুনেও হাসি
কেউ কিনে আত্মতৃপ্তিতে হাসে, কেউ কিনতে না পেরে অক্ষমতায় হাসে
কেউ ফাঁস করা প্রশ্ন কিনে হাসে, পরীক্ষা ভাল দিয়েও চান্স না পেয়ে হাসে
ফ্লাইওভার, হাইওয়ে দেখে হাসি, এসবে কত টাকা লুট হলো তা জেনেও হাসি
উন্নয়নের চমক দেখে হাসি, সবাইকে পিছনে ফেলে কারো উল্লম্ফনেও হাসি
কারো সন্তানের সাফল্যে হাসি, কারো অধঃপতন দেখেও হাসি
এ রকম কত উপলক্ষ্য আছে হাসির
সব হাসি এক নয়, সব হাসি হাসায় না, হাসি কখনও কান্নার অন্য নাম।
ফসল নিয়ে বাজারে এসে ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষকের মলিন হাসি কি দেখেছি ?
দেখেছি কি, বেতন পেয়ে সংসারের হিসাব মিলাতে না পারা শ্রমিকের বোকা বোকা হাসি ?
সবাইকে ধোঁকা দিয়ে নিজের আখের গোছানো সফল মানুষদের হাসি তো থামতেই চায় না ।
গরীব পাবলিককে ধন্য করে ক্ষমতাসীনদের মুখের হাসি চওড়া হতেই থাকে, হতেই থাকে ..
মুখ জুড়ে তাদের হাসি কিন্তু সেখানে নির্মল হাসি খুঁজেই পাওয়া যায় না ।
এত হাসির মাঝে সবচেয়ে ঘৃণ্য হাসি যা এখন সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তা হলো তোষামোদের তেলতেলে হাসি ,
আর সবচেয়ে বেদনাময় হাসি দেখছি মায়ের মুখে ,
সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে না পারার কষ্টে ম্লান হাসি হেসে যখন বলে, “কি করমু ভাই, পয়সা যে নাই।”
কিন্তু প্রতারিত হতে হতে, সর্বস্বান্ত হয়েও যে মানুষ হাসতে চায় !
নির্ভরতার হাসি ।
মুনাফার লোভে মানুষের হাসি কেড়ে নেয় যারা দিনকে দিন ,
যাদের কারণে শুভ্র হাসি বিষাদ মেখে হয় মলিন ,
তাদেরকে আজো চিনবো না ?”









