প্রথম ম্যাচে ৩৮১ তুলে আয়ারল্যান্ডকে রানপাহাড়ে চাপা দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ত্রিদেশীয় সিরিজে দ্বিতীয় দেখায় সেটা কিছুটা ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে আইরিশরা। তবে ক্যারিবীয়দের ৩২৮ রানের লক্ষ্য দিয়েও স্বাগতিকরা ম্যাচটা হেরেছে ৫ উইকেটে।
এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে উইন্ডিজ। এক ম্যাচ হাতে রেখে ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে তারা। বাকি ম্যাচটায় সোমবার বাংলাদেশের বিপক্ষে নামবে হোল্ডারের দল। সেখানে হার-জিত তাদের শিরোপা লড়াইয়ে থাকায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
সেখানে আয়ারল্যান্ডের সম্ভাবনা অনেকটাই শেষ হয়ে গেছে! কাগজে-কলমে যেটুকু সম্ভাবনা আছে তাদের ফাইনালে যাওয়ার, সেজন্য বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচটা তো জিততে হবেই, সঙ্গে তাকিয়ে থাকতে হবে টাইগার-ক্যারিবীয় ম্যাচের দিকেও।
আপাতত ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে মাশরাফীরা। হাতে থাকা দুম্যাচের একটি জিতলেই ফাইনাল নিশ্চিত। যেটুকু অনিশ্চয়তা, সেটি দুটি ম্যাচে হারলেই। তখন আয়ারল্যান্ডের বোনাস পয়েন্ট বা রানরেট পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে টাইগারদের। আপাতত পয়েন্টের সঙ্গে রানরেটেও লাল-সবুজরা অনেকটা এগিয়ে আইরিশদের (২ পয়েন্ট) চেয়ে।
শনিবার ডাবলিনে শুরুতে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেটে ৩২৭ রান তোলে আয়ারল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে ১৩ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে নোঙর ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
লক্ষ্যটা বড়। শুরুটা সেই মতোই করে ক্যারিবীয়রা। শাই হোপ ৩০ করে ফিরে গেলেও সুনিল আমব্রিস চালিয়ে খেলতে থাকেন। তাকে কিছুক্ষণ সঙ্গ দেন ব্রাভো (১৭)। পরে ৪৬ রান করা চেজ।
এরমাঝেই শতক তুলে নেন আমব্রিস। ৮৯ বলে ক্যারিয়ারে প্রথমবার তিনঅঙ্কে পৌঁছান। শেষঅবধি থামেন ১৪৮ রানে। ১৯ চার ও এক ছক্কায় ১২৬ বলের ঝলমলে ইনিংস সাজিয়ে।
আমব্রিসের পরিশ্রমে পূর্ণতা দিতে শেষদিকে জ্বলে ওঠেন কার্টার ও হোল্ডার। অধিনায়ক হোল্ডার ২৪ বলে ৩৬ রানের অবদান রেখে ফিরলেও ২৭ বলের ঝড়ে ৪৩ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন কার্টার।
এর আগে ব্যাট হাতে অন্য আয়ারল্যান্ডের দেখা মেলে রৌদ্র ঝলমলে দিনে। প্রথম ম্যাচে যেখানে আইরিশদের একজন ব্যাটসম্যান কেবল হাফসেঞ্চুরি পেয়েছিলেন, এদিন দুজনের হাফসেঞ্চুরি, সঙ্গে যোগ হয়ে এক সেঞ্চুরিও।
১৯ রানের প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দেড়শ’র কাছাকাছি (১৪৬) রানের জুটি গড়েন অ্যান্ড্রু বেলব্রিনে ও পল স্টার্লিং। হাফসেঞ্চুরি তুলে স্টার্লিং আউট হলেও সেঞ্চুরি তুলে নেন বেলব্রিনে। ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে আউট হন ১৩৫ রানে। আর ক্যারিয়ারের ১৯তম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করে স্টার্লিং ফেরেন ৭৭ রানে।
বেলব্রিনে ও স্টার্লিংয়ের গড়ে দেয়া ভিতটা শেষের ঝড়ে পোক্ত করেন কেভিন ও’ব্রায়েন। ৩৭ বলে ক্যারিয়ারের ১৮তম ফিফটি করার পর আউট হন ৪০ বলে ৬৩ রান করে। ও’ব্রায়ানের সঙ্গে ১৩ বলে ২৫ রান করে দলের স্কোর ৫ উইকেটে ৩২৭ রানে পৌঁছে দেন মার্ক আদির।
দুই উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফল বোলার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।







