চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে তামিম-সৌম্যের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে সাউথ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দিয়ে ৯ উইকেটের বিশাল জয় পেয়েছে টিম বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ পরবর্তী এটি টাইগারদের টানা তৃতীয় সিরিজ জয়।এই জয়ে ঈদের মাত্র কয়েক দিন আগে আবারও বাঘের গর্জন শুনলো ক্রিকেট বিশ্ব।
টসে জিতে সাউথ আফ্রিকা নির্ধারীত ৪০ ওভারে সংগ্রহ করে ১৬৮ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৮৩ বল হাতে রেখেই ৯ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপ পরবর্তি সময়ে পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করার পর ভারতের বিপক্ষে ২-১ এ সিরিজ জয়। মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে হ্যাট্টিক শিরোপা জয়। বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ে সিরিজ ধরলে এটি টাইগারদের টানা চতুর্থ সিরিজ জয়।
বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা নামিয়ে আনা হয় ৪০ ওভারে।
১৭০ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের পক্ষে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন দুই টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। দুজনের জুটি থেকে আসে ১৫৪ রান। জয় থেকে মাত্র ১৬ রান দূরে থাকতে ৯০ রান করা সৌম্য সরকারকে ফেরান ইমরান তাহির। হাশিম আমলার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন টানা দুই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করা এ বাহাতি ব্যাটসম্যান।
বাকি কাজটুকু লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে সারেন তামিম ইকবাল। তামিম রানে ৬১ ও লিটন ৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
টসে জিতে ব্যাট করতে নামা সাউথ আফ্রিকার মাত্র ৫০ রানের মধ্যে কুইন্টন ডি কক, ডু প্লেসিস, হাশিম আমলা ও রাইলি রুশোর উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে।
সফরকারীদের ব্যাটিং লাইন আপে প্রথম আঘাত হানেন ‘ওয়ান্ডর বয়’ মুস্তাফিজুর রহমান। কুইনন্টন ডি কককে বোল্ড করেন তিনি। স্কোর বোর্ডে রান তখন মাত্র ৮।
এর পরের সাফল্য সাকিবের হাত ধরে। অষ্টম ওভারের প্রথম বলে ডু প্লেসিস সাকিবের বলে মিস টাইমিং করলে তা উইকেটের পাশেই সোজা উপরে উঠে যায়। সেই বল গ্লাবস বন্দী করতে ভুল করেননি উইকেট রক্ষক মুশফিকুর রহিম।
১৩ ওভারের আবারও সাকিবের আঘাত। ওভারের তৃতীয় বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আমলা।
১৫ ওভারের ফেরেন রুশো। ওভারের প্রথম বলে তাকে ফিরিয়ে উইকেটের খাতা খোলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।২৩ ওভার শেষে বৃষ্টি শুরু হলে আড়াই ঘন্টার জন্য বন্ধ থাকে। খেলা নামিয়ে আনা হয় ৪০ ওভারে।
বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে ডেভিড মিলার কে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আবারও সাফল্য এনে দেন ক্যাপ্টেন ম্যাশ । মাশরাফির বলে পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ‘কিলার’ মিলার। সাব্বিরের দুর্দান্ত ক্যাচে প্রোটিয়াদের ৬৩ রানের প্রতিরোধ জুটি ভাঙে।
৩৫ ওভারের প্রথম বলে ফারহান বেহারডিয়েনকে ফেরান সাকিব। ফারহানের ক্যাচটিও নিয়েছেন সাব্বির রহমান। লং অনে সীমার কাছ থেকে দুর্দান্ত ভাবে ক্যাচটি লুফে নেন তিনি।
মিলার-ফারহানের পর রাবাদকে সরাসরি বোল্ড করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরান মুস্তাফিজুর রহমান। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৪০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে প্রোটিয়ারা। কিন্তু কার্টেল ওভারের সৌজন্যে ১ রান বেড়ে বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় ১৭০ রান।
সফরকারিদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান সংগ্রহ করেন জেপি ডুমিনি। সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান।
স্কোর: বাংলাদেশ-সাউথ আফ্রিকা তৃতীয় ওয়ানডে( বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী)
বাংলাদেশ:
তামিম ইকবাল ৬১ ,লিটন দাস ৫
আউট:সৌম্য সরকার(৯০)
ইমরান তাহির: ৬.১-০১-৩৭
সাউথ আফ্রিকা: ১৬৮/৯
কুইন্টন ডি কক(৭), হাশিম আমলা(১৫), জেপি ডুমিনি(৫১), ডেভিড মিলার(৪৪), রাইলি রুশো(১৭), ফারহান বেহারডিয়েন(১২), ফাফ ডু প্লেসিস(৬), কাগিসো রাবাদা(১), কাইল অ্যাবট(৫), মরনে মরকেল(১*), ইমরান তাহির।
বোলিং: সাকিব ০৮-০৩-৩৩, মুস্তাফিজুর রহমান ০৮-০২-২৪, রুবেল হোসেন ০৬-০২-২৯।






