মেডিকেল ভর্তিচ্ছুদের আন্দোলনে সংহতি জানানো পর ওএসডি করা হয়েছে চিকিৎসক-গবেষক মুহাম্মদ মুশতাক হোসেনকে। ডাকসুর সাবেক জিএস। জাসদ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি। ৯০’র ছাত্রগণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মুশতাক রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) মেডিকেল সোসিওলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
ডা. মুশতাক হোসেনকে ওএসডি করা নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিয়ন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক আলী রিয়াজ।
তিনি লিখেছেন, ‘মুশতাক ভাইয়ের (Mushtuq Husain) সঙ্গে আমার পরিচয় সম্ভবত ১৯৭৮-৭৯ সালে; ঢামেকসু নির্বাচনের অব্যবহিত আগে। তারপরে আমরা একই সঙ্গে রাজনীতি করেছি কিছুটা সময়, সেই সূত্রে তার সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা হয়েছে। তার কাছ থেকে শিখেছি অনেক। তারপরে রাজনীতির অঙ্গনে আমাদের পথ ভিন্ন হয়েছে। আরো কিছুটা সময় দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর আমার এক্টিভিস্ট জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে। মুশতাক ভাইয়ের সঙ্গে আমার এই আছে-এই নেই করে এক ধরণের যোগাযোগ থেকেছে, আমি তার কথাবার্তার খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করি। ফেসবুকে তার মন্তব্য আমি পড়ি। টেলিফোনে কথা বলার সুযোগও হয়েছে। তার সঙ্গে এখন আমার পথের যেমন মিল নেই, মতেরও তেমনি ভিন্নতা; কিছু বিষয়ে আমরা ঐকমত্যও পোষণ করি।’
তিনি স্ট্যাটাসে আরো বলেন, ‘আজ যখন ‘জনস্বার্থে’ তাকে তার পদ – প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা থেকে সরিয়ে ‘ওএসডি’ করার খবর দেখলাম তখন আমার বিস্ময় জাগলো। আমার পরিচিতদের মধ্যে মুশতাক ভাই-ই প্রথম ব্যক্তি নন যাকে ওএসডি করার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচিত সরকারের আমল শুরু হবার পর থেকে, অর্থাৎ ১৯৯১ সাল থেকে, জনপ্রশাসনে কর্মরত আমার অনেক বন্ধুকেই এই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে ওই সরকারের বিরোধী হতে পারে এমন সন্দেহই যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়েছে, কারো কারো ক্ষেত্রে এতটুকুও দরকার হয় নি।’
আলী রিয়াজ বলেন, ‘ কেউ কেউ সরকার বদলের পরে মর্যাদায় নিজের আসনে আসীন হয়েছেন, কেউ কেউ ওএসডি হিসেবেই অবসরে গেছেন। সরকার বদল হয়েছে, কিন্ত এই প্রক্রিয়ার, অর্থাৎ ওএসডি করার এই রীতির অবসান হয়নি। কিন্ত এগুলো যে প্রশাসনের ভেতরে পেশাদারীত্বের জন্যে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে তা বুঝতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে হয় না।’
রিয়াজ আরো বলেন, ‘ ১৯৯৬ সালে প্রত্যক্ষভাবে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসনকে স্থবির করে দেয়ার ঘটনা থেকে এর শুরু না তার সূচনা আরো আগে তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে কিন্ত প্রশাসনের জন্যে এগুলো ইতিবাচক হয়নি সেটি বিতর্কাতীত। কিন্ত রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) মেডিকেল সোসিওলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত ড মুশতাক হোসেন জনপ্রশাসনের লোক নন, তদুপরি তিনি ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দলের নেতা। তার বিরুদ্ধে সম্ভবত অভিযোগ এই যে, তিনি মেডিকেল ভর্তিচ্ছুদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছিলেন। আমি আশা করি মুশতাক ভাই’র বিরুদ্ধে নেয়া এই ব্যবস্থা অচিরেই পরিবর্তিত হবে। অবশ্যই ড মুশতাক হোসেন এই শাস্তি পেতে পারেন না, আমার সহমর্মিতা মুশতাক ভাইয়ের সঙ্গে । কিন্ত এই ঘটনা বিরাজমান অবস্থার একটা ইঙ্গিত দেয়, আশা করি সেটা কারোই মনোযোগ এড়িয়ে যাবে না।’






