জিম্মি, আত্মসমর্পণ এবং সর্বশেষ গ্রেফতার নাটকের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো মিশরের প্লেন ছিনতাইয়ের ঘটনা। জিম্মি নাটকের কয়েক ঘণ্টা পর নিরাপত্তা বাহিনী কাছে আত্মসমর্পণ করেন ঘটনার মূল হোতা ইব্রাহীম সামাহ। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে ছিনতাই হয় মিশরের সরকারি এয়ারলাইন্স ‘ইজিপ্ট এয়ার’ এর এমএস১৮১ প্লেনটি। আলেকজান্দ্রিয়া থেকে উড্ডয়নের পর প্লেনটি ছিনতাই হয়। প্লেনটিতে ৮০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিল। আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের হুমকি দিয়ে প্লেনটি সাইপ্রাসে অবতরণে বাধ্য করে ছিনতাইকারী।
প্রথমে চার বিদেশী ও ক্রু বাদে ছিনতাই হওয়া প্লেনটি সব যাত্রীকে ছেড়ে দেয় ছিনতাইকারী। পরে বিদেশী নাগরিক ও ক্রুকে ছেড়ে দিয়ে নিজে আত্মসমর্পণ করেন সামাহ।
সামাহ’র আত্মসমর্পণ ও গ্রেফতারের কথা নিশ্চিত করে সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক টুইট বার্তায় জানায়, ‘ঘটনার সমাপ্তি, ছিনতাইকারী গ্রেফতার।’
তবে ছিনতাইয়ের আসল ঘটনা এখনো পর্যন্ত অস্পষ্ট হলেও এর আগে মিশর ও সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যক্তিগত কোনো কারণে প্লেনটি ছিনতাই করেছে ছিনতাইকারী। এমনও বলা হয়, ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ের’ উদ্দেশ্য প্লেনটি ছিনতাই করা হয়েছে।
পরে সাইপ্রাস ব্রডকাস্টিং (সিওয়াইবিসি) জানায়, সাইপ্রাসে বসবাস করা বিচ্ছেদ হওয়া বউয়ের দেখা পেতে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন সামাহ। কিন্তু আরেকটি সূত্র বলছে, মিশরে কয়েকজন নারী কারাবন্দীকে মুক্ত করার লক্ষ্যে প্লেন ছিনতাই করে সামাহ।
সাইপ্রাস ব্রডকাস্টিংয়ের বরাতে বিবিসি জানায়, ঘটনা শেষ দিকে মিশরীয় ওই নাগরিক দু-হাত উঁচু করে আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে প্লেন থেকে নেমে আসেন। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর অল্প সময় আগেই প্লেন থেকে বের হয়ে আসেন জিম্মি সর্বশেষ চার বিদেশী যাত্রী ও প্লেনের ক্রু।







