ছোট্ট লেখকের বয়স মাত্র আট। এই বয়সেই তার বয়সী পাঠকদের জন্য লিখে ফেলেছে দুই দুটি বই। সেই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদে বই লেখক।
অবশ্য এবারই প্রথম নয় এর আগেও তার লেখা একটি বই এসেছিলো অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। ক্ষুদে এই লেখকের নাম অলীন বাসার। এক ঝাঁক কচিকাঁচাকে সঙ্গে নিয়ে মোড়ক উন্মোচন করা হয় সবচেয়ে ছোট লেখক অলীন বাসার এর দ্বিতীয় বই ‘ভুতুড়ে’র। লেখক আনিসুল হক ও নাট্যকার খায়রুল বাসার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
লেখকের বাবা সাংবাদিক রফিকুল বাসার বলেন, ওকে শাসন করার ধরণটা কিন্তু আমাদের একটু ভিন্নরকম। কোনো বিষয়ে রাগ হলে আমরা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করি। দেখা যাচ্ছে ওর সঙ্গে কথা বলছি না। একবার রাগ করেছিলাম কিন্তু পরে দেখি আমাদের এই অভিমান নিয়েই ও একটি গল্প লিখে ফেলেছে। পড়ে দেখলাম। বেশ ভালো লাগলো। এরপর থেকেই চলছে ওর লেখালেখি। দেখতে দেখতে তার লেখা গল্প নিয়ে দুটি বইও হয়ে গেলো।
রাতে গল্প না শুনলে ঘুম আসেনা অলীনের। রাত জেগে হয় বাবাকে কিছু শোনাতে হবে, না হলে মা নাজনীন আক্তারকে। গল্প না শুনলে রাগমুখে ঘুমাতে যায় অলীন। সেই অলীনই পুরো একটি গল্পের বই লিখে ফেললো অন্যদের জন্য। তাতে বাবার আনন্দও সীমাহীন।
তিনি বলেন, ‘ভূত নেই তবু ভয় পাই, তাই ভূতের নামে উৎসর্গ করলাম।’ এই লাইনটা সে লিখেছে বইটির উৎসর্গপত্রে। অলীনের লেখা এই সাদামাটা সত্যি কথাটাও আমার খুবই পছন্দের।
তবে শুধু লেখালেখিই নয়, পড়াশোনা, ছবি আঁকা আর খেলাধুলা সবখানেই আছে অলীন। রফিকুল বাসার বলেন, ওকে কোনো নতুন খাতা বা কলম এনে দিলেই সে নতুন করে গল্প লেখা শুরু করে। আর লিখতে লিখতে দেখা যায় লেখার মাঝে মাঝে সে কোনো ছবি আঁকছে। তারপর আবার হয়তো লেখা শুরু করেছে। আগে গানও গাইতো, এখন কেন যেন আর গাইতে চায় না।
অবশ্য এই ক্ষুদে লেখক অলীন বলেন, আমার লিখতেই ভালো লাগে, পড়তেও ভালো লাগে। আর খেলাধুলাতে পছন্দ ক্রিকেট। প্রিয় ক্রিকেটার মুস্তাফিজ।
এত ছোট বয়সেই লেখালেখি শুরু অলীনের। তবে এটা তার জন্য কোনো চাপ নয়, মজা করেই লিখে সে। উপভোগ করে লেখালেখিটা। তাছাড়া লেখালেখি তো তার বংশগতই। অলনের বাবা রফিকুল বাসাররা ছয় ভাই। ছয় ভাইয়েরই কোনো না কোনো বিষয়ে লেখা বই রয়েছে। লেখালেখির মধ্যেই আছেন সবােই। সেটাই কোনোভাবে ছড়িয়ে পড়েছে অলীনের মধ্যেও।
লেখালেখির জন্য দরকার পড়াশোনা। সেই পড়াশোনাটাও ঠিকঠাক চলছে অলীনের। রফিকুল বাসার বলেন, ওকে এরই মধ্যে বেশ কিছু বই পড়তে দিয়েছি। তবে ভাবছি এখন থেকে খুব বেছে বেছে পড়তে দিবো ওকে। সব বই এখনই ওকে দিতে চাই না। ও তো লিখতে বসলেই একটা গল্প লিখে ফেলতে পারে। সেটাই ধরে রাখতে চাই।
গল্প লিখতে একজন লেখকের মধ্যে যেসব বিষয় থাকা দরকার তার সবই আছে অলীনের মধ্যে। এখন শুধু সেগুলোর চর্চা দরকার। ভবিষ্যতে ছেলে একজন ভালো প্রতিষ্ঠিত লেখক হবে, এমনটাই চাওয়া বাবা রফিকুল বাসারের। অবশ্য লেখক নিজেও নিজেকে লেখালেখিতেই রাখতে চান। এই ছোট বয়সেই সে স্বপ্ন দেখে সে একদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়ে উঠবে।
অমর একুশে বই মেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সিসিমপুর মঞ্চে এই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করে আনিসুল হক বলেন, অলীন সুন্দর সুন্দর গল্প লিখেছে।
অলীনের প্রথম বইটি প্রকাশিত হয়েছিলো ২০১৫ সালের বইমেলায়। তার নাম ছিলো ‘অন্ধকারে ভূতের ছায়া’। আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র অলীন।
‘ভুতুড়ে’ বইটিতে মোট ১৩টি গল্প আছে। প্রতিটি গল্পের বিষয় আঙ্গিক আলাদা আলাদা। সুন্দর ভূতের ছবির সাথে পুরো চার রং এর ভুতুড়ে বইটি প্রকাশ করেছে সাঁকোবাড়ি প্রকাশন। শিরীন আক্তারের প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণে বইটির দাম রাখা হয়েছে একশত টাকা।






