সিলেট থেকে: দেশের সাতটি টেস্ট ভেন্যুর ছয়টিতেই অভিষেক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। তবে স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী মঞ্চে কখনোই জয়োৎসব করতে পারেনি স্বাগতিকরা। শনিবার অষ্টম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরু করছে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। নয়নাভিরাম ভেন্যুটিতে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে শুরুটা স্মরণীয় করতে চান টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
ভেতরে নান্দনিক কাঠামো আর বাইরে ছায়াশীতল প্রাকৃতিক পরিবেশ। টিলা, চা বাগান, ছড়িয়ে থাকা সবুজের সমারোহের মাঝে দাঁড়িয়ে অনিন্দ্যসুন্দর স্টেডিয়ামটি দেখে মুগ্ধ সকলেই। টাইগার ক্রিকেটারদের মাঝেও অনাবিল প্রশান্তি। সেটি ধরে রাখতে ম্যাচটাও জিততে চায় বাংলাদেশ। অধিনায়কের চোখ সেদিকেই নিবদ্ধ, ‘এই ভেন্যুটা অনেক সুন্দর। আমরা সবাই জয় দিয়ে সিলেটের অভিষেক উদযাপন করতে চাইব।’
ক্রিকেটের ঐতিহ্য লালনে স্টেডিয়ামটির গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের সামনে বসানো হয়েছে পিতলের ঘণ্টা। যেটি বাজিয়ে শুরু করা হবে ম্যাচের আনুষ্ঠানিকতা। যারাই মাঠে প্রবেশ করছেন, চোখও আটকে যাচ্ছে ঘণ্টায়। মাহমুদউল্লাহর ভেতরেও কাজ করছে অন্যরকম অনুভূতি, ‘ঘণ্টাটা ভালো লাগছে দেখতে। এই জিনিসটা আমরা লর্ডসে দেখি। এটা আমাদের এখানেও হচ্ছে। দেখে ভালো লাগছে।’

টেস্ট দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে লেগেছে লম্বা সময়। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে বাংলাদেশ জানান দিয়েছে অভিজাত সংস্করণেও এখন দারুণ দল লাল-সবুজরা। ইংল্যান্ডকে তিন দিনে, আর অস্ট্রেলিয়াকে সাড়ে তিন দিনে হারানোর মধুর স্মৃতি বাড়িয়ে দিয়েছে প্রত্যাশাও।
সিলেট টেস্টের টিকিট কিনতে স্টেডিয়াম সংলগ্ন কাউন্টারে আসা ক্রিকেটভক্তদের মাঝেও প্রত্যাশার সেই পারদটা লক্ষ্য করা গেল- তিন দিনেই হয়তো টেস্ট শেষ হবে! শুক্রবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহর কাছেও তুলে ধরা হল ভক্তদের প্রত্যাশার কথা, ‘ম্যাচ কয় দিনে যাবে এইসব নির্ভর করে আমরা কিভাবে পারফর্ম করছি ও জিম্বাবুয়েকে আমরা কীভাবে নিচ্ছি।’ অধিনায়কের খেলোয়াড়ি জবাব।
বাংলাদেশ নিজেদের অভিষেক টেস্ট খেলেছিল ২০০০ সালের নভেম্বরে। ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতের কাছে ৯ উইকেটে হেরে শুরু টেস্ট যাত্রা। যদিও ভেন্যুটির টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ১৯৫৫ সালের জানুয়ারিতে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে।
২০০১ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের টেস্ট অভিষেকে জিম্বাবুয়ের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।

২০০৬ সালে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে তিনটি ভেন্যুর টেস্ট অভিষেক হয় বাংলাদেশে। মার্চে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের অভিষেকে শ্রীলঙ্কার কাছে ৮ উইকেটে হার, ওই মাসেই বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার কাছে ১০ উইকেটে হার, আর এপ্রিলে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের অভিষেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আশা জাগিয়েও ৩ উইকেটে হেরে যায় স্বাগতিক বাংলাদেশ।
২০০৭ সালের মে মাসে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অভিষেকে ভারতের কাছে ইনিংস ও ২৩৯ রানে হার মানে বাংলাদেশ। সবশেষ ২০১২ সালের নভেম্বরে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের অভিষেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১০ উইকেটে ম্যাচ হারায় স্বাগতিক দল। অভিষেকের মঞ্চে হারের তিক্ত স্বাদ বারবার পেলেও এখনকার দৃশ্যপট ভিন্ন। বাংলদেশ এখন বদলে যাওয়া দল। চোখ রাঙায়, সমীহ আদায় করে যেকোনো প্রতিপক্ষের থেকেই। জিম্বাবুয়েকে তো মুখোমুখি দেখায় সবশেষ চার টেস্টেই হারের স্বাদ দিয়েছে বাংলাদেশ।









