নিম্ন আদালতের বিচারকদের আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করায় সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা ক্ষুণ্ন করা হয়নি বরং কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
তিনি বলেছেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধিতে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাতে উচ্চ আদালতের মর্যাদা বেড়েছে। যারা সমালোচনা করেছেন তারা গেজেট না বুঝে, না পড়েই সমালোচনা করেছেন।’
মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজ দফতরে বিচারকদের আচরণবিধির গেজেট প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
এসময় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই শৃঙ্খলাবিধির কারণে বিচার বিভাগের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়নি বরং বেড়েছে।’
তিনি বলেন, যারা সংবিধান নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছে তাদের সেই ষড়যন্ত্র ভেঙে গেছে। সংবিধান নিয়ে আর কাউকে ফুটবল খেলতে দেওয়া হবে না। বিএনপি ১৯৭৬ সাল থেকে শুরু করে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সংবিধান নিয়ে ফুটবল খেলছে। আমরা এখন সংবিধান নিয়ে আর ফুটবল খেলতে দিব না।
এসময় মন্ত্রী বিএনপির করা সমালোচলার জবাবে বলেন, ‘বিএনপি নেতারা কি বলতে চান? ওনারা কি আচরণবিধি বোঝেন? আপনারাই বলেন? আচরণবিধি নিয়ে উচ্চ আদালতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলো কিভাবে? উচ্চ আদালতের সঙ্গে তো পরামর্শ করেই এ আচরণবিধি গেজেট আকারে প্রকাশিত হলো। সুপ্রিম কোর্টও বলবে না তাদের সাথে আলোচনা করা হয়নি।’
অসংখ্যবার সময় নেওয়ার পর সোমবার নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধির গেজেট প্রকাশ করে সরকার।
১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় (বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ) ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।
আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় শৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি খসড়া বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিমকোর্টে পাঠায়। কিন্তু গত বছরের ২৮ আগস্ট আপিল বিভাগ খসড়ার বিষয়ে বলেন, শৃঙ্খলা বিধিমালা সংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী।
এরপর সুপ্রিম কোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একই সঙ্গে ৬ নভেম্বর ২০১৬ এর মধ্যে খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করে প্রতিবেদন আকারে আদালতকে জানাতে আইন মন্ত্রণালয়কে বলা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ থেকে খসড়া বিধিমালা প্রকাশের জন্য বার বার সময় নেয়া হয়।









