আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক মাঠ সরগরম হয়ে উঠছে। দেশের প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি নেতাদের পাল্টাপাল্টি যুক্তিতর্ক বুঝিয়ে দিচ্ছে, সামনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন আসছে। কদিন ধরে আবার আগাম নির্বাচনেরও একটি গুঞ্জন বাতাসে ভাসছে। কয়েকদিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য সে গুঞ্জনকে সত্যতার দিকে ধাবিতও করছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, যদি সরকার চায় তাহলে আগাম নির্বাচনের জন্যও ইসি প্রস্তুত। এদিকে আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে ঘিরে নিজেদের প্রার্থীতা বাছাইয়ের কাজও শুরু করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে বিএনপি কি আগাম নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত? এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি এদেশের সবচেয়ে বড় জনসমর্থিত রাজনৈতিক দল। আমরা সবসময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকি।
“যেকোন সময় নির্বাচন দিলে বিএনপি তাতে অংশ নিবে”-বলেন মওদুদ। তবে আগাম জাতীয় নির্বাচন দেয়ার মতো সাহস সরকারের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তিনি শর্ত দিলেন সেই আগের শর্তই দিলেন “আগাম নির্বাচন দিলেও সেই নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। একই সাথে নির্বাচনের ৯০ দিন আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে”।
যেকোন সময় নির্বাচনের জন্য বিএনপি এক পায়ে খাড়া বলে মন্তব্য করে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, শেখ হাসিনা যদি পদত্যাগ করে, সংসদ যদি ভেঙে দেয় তাহলে আজ নির্বাচনের ঘোষণা দিলে কাল নির্বাচনে যাবো। তবে তা হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে।
তিনি বলেন, এ সংবিধান অনুযায়ী করলে হবে না। তা পরিবর্তন করে সহায়ক সরকার দিতে হবে। ২০১৪ সালের মতো কোন নির্বাচনে বিএনপি যাবে না।
আগাম নির্বাচন বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার নয়াপল্টনে সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী বলেন, আগাম নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বলে ওবায়দুল কাদের ও সিইসি’র একই সুর প্রমাণ করে সিইসি সরকারের নির্মিত সেই পুরনো পথেই হাঁটবেন। অথচ একটি স্বাধীন সার্বভৌম নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব দেশে অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে চাকরি রক্ষার্থে বর্তমান সিইসি অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়টি আমলে নিবেন না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, আমি বিএনপি’র পক্ষ থেকে আবারো দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই- প্রধান নির্বাচন কমিশনার মহোদয় আপনি আওয়ামী সরকারের অশুভ ইচ্ছা পূরণের ‘খাঁচায় বন্দী তোতা পাখি হবেন না’। কেননা ষড়যন্ত্র চক্রান্ত আর বড় বড় বুলির মায়াজাল সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের ঘাতক প্রতিহিংসাপরায়ণ শেখ হাসিনা ও তার সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন এদেশের জনগণ মেনে নেবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ কোন নীলনকশার ফাঁদে পা দিবে না।








