অনেকে তার অন্তর্ভুক্তিতে বিস্মিত হলেও তিনি মনে করেন, তৃণমূলের রাজনীতি এবং তৃণমূল থেকে নির্বাচনে দলকে বারবার জয় এনে দেওয়ার পুরস্কার হচ্ছে আওয়ামী লীগের মতো বড় দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রাপ্তি। যেহেতু আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির মূল লক্ষ্য আগামীর নির্বাচন তাই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে মূল্যায়ন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নতুন মুখ ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তিনবারের নির্বাচিত মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মহিবুল হাসান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘তৃণমূলের রাজনীতি করে আওয়ামী লীগকে তিনবার নির্বাচনে জয়ী করিয়ে এনেছি। আমাদের রয়েছে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার অভিজ্ঞতা। আর এই অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।’
১৯৯৪ সাল থেকে টানা সাড়ে ১৬ বছর চট্টগ্রামের মেয়র ছিলেন তারা বাবা মহিউদ্দিন চৌধুরী। 
তবে অনেকটা হঠাৎ করেই এমন গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদ পাওয়াটাকে মহিবুল ভাবছেন তৃণমূলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পুরস্কার হিসেবে। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের রাজনীতি থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছি। তৃণমূলের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নিদের্শে কাজ করার জন্যেই এই মূল্যায়ন।’
‘ঢাকার লাইম লাইটের‘ রাজনীতিতে না থাকলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন অনেক দিন ধরেই। তাই দলের এত বড় পদে আসাটা নিজের কাছেও চমক মানলেও অপ্রত্যাশিত মনে করছেন না নওফেল। নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি ২০১৪ সাল থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সদস্য ছিলাম। সেই কমিটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। এছাড়াও একই সময় থেকেই আমি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগেরও সদস্য।’
তবে এরও আগে থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে আছেন জানিয়ে মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, পদ না থাকলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম অনেক আগে থেকেই। ছোটবেলা থেকেই ‘আমরা রাসেল’ নামের চট্টগ্রাম জেলাভিত্তিক একটি সংগঠনের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
এছাড়া বিদেশ থেকে গ্রহণ করা উচ্চশিক্ষাও পদপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে মুল্যায়িত হয়েছে বলে মনে করেন লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্স থেকে স্নাতক করা মহিবুল। ঢাকা বারের আইনজীবী মহিবুল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিরও সদস্য। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বিজয় টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি।
১৯৮৩ সালের ২৬ জুন চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নওফেল। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাবার পক্ষে কাজ করে আলোচনায় আসেন তিনি।
জাতীয় সম্মেলনের দুই দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর আংশিক নাম ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। এবারের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দুই নতুন মুখের একজন ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল । অন্যজন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এনামুল হক শামীম।
তবে, মহিবুলের অন্তর্ভুক্তি অনেকের কাছে বিস্ময়ের মনে হয়েছে। দলের বড় অংশের কাছে তার নামটাও অপরিচিত ছিল। এমনকি কমিটি ঘোষণার সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুধু নাম পড়ে গেলেও তার ক্ষেত্রে বিস্তারিত পরিচয় তুলে ধরেন। সাধারণ মানুষ তখনই জানতে পারেন, চট্টগ্রামের সাবেক সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে আওয়ামী লীগের নতুন সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।








