ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা গেলে স্মার্ট যুগে প্রবেশ সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমান সময়ের আলোচিত এবং উন্নত বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত একটি বিষয়। আইওটি হল মূলত ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিভাইস সংযুক্ত করা যা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করবে বা বিভিন্ন কাজে সাহায্য করবে। ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) বিষয়টির উদাহরণ হিসেবে স্মার্ট ফ্রিজের কথা বলা যায়। এই আইওটি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা গেলে স্মার্ট ফ্রিজ হবে এমন একটি যন্ত্র যা নিজ থেকেই ভেতরে প্রয়োজনীয় খাদ্য আছে কিনা তা শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে ফ্রিজের ভেতরে ক্যামেরা স্থাপন করা হবে যা ফ্রিজের ভেতরের অবস্থা পরিদর্শন করে গ্রাহককে টেক্সটের মাধ্যমে সামগ্রিক অবস্থা জানাবে।
সম্প্রতি রাজধানীতে ‘প্রেজেন্টেশন ক্লাবের আয়োজনে, ক্লাবটির প্রধান কার্যালয়ে ‘সাইবার সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। লক্ষ্য নিউজ প্রেজেন্টেশন একাডেমির সহযোগিতায় সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিন (আইবিএম) এর কর্মকর্তা ড. মাহমুদুর রহমান।
সাইবার বিশেষজ্ঞ ড. মাহমুদুর রহমান মনে করেন, আইওটির মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য সুরক্ষার জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা যেতে পারে। যার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ও অ্যাপ্লিকেশন সুরক্ষিত থাকবে।
‘এছাড়া আপনি আপনার বাড়ির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন। যাতে করে আপনার বাড়িতে চোর ঢুকতে না পারে। কিন্তু এর নেতিবাচক দিক হচ্ছে, আপনার সকল তথ্য ওয়েবসাইটে থাকছে। আপনার দৈনন্দিন কাজে ফিটনেস ট্র্যাকার ডিভাইসে জিপিএস ট্র্যাকার থাকলে হ্যাকাররা আপনার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে। এর মাধ্যমে হ্যাকাররা আইডি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে অন্যান্য ডিভাইসও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে। কারণ আইওটি নেটওয়ার্কে ডিভাইজগুলো চেইনের মতো কাজ করে।’
তিনি জানান, ‘২০১৬ সালে সেপ্টেম্বরে ‘মিরাই বটনেট’ অ্যাটাক হয়েছিলো। ওই অ্যাটাকে হ্যাকারদের একটা দল বিশ্বের বেশ কিছু দেশে বিপুল সংখ্যক ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এরকম হতে পারে ওয়াইফাই পাসওয়ডের্র ক্ষেত্রেও। আপনি যখন ওয়াইফাই নিচ্ছেন, তখন সব তথ্য দেয়া লাগছে সেই তথ্য পরিবর্তন না করলে তা হ্যাকারদের হাতে চলে যাচ্ছে। হ্যাকারদের হাতে সম্বপূর্ণ তথ্য থাকায় তারা পুরো ওয়েবসাইটকে জব্দ করতে পারে।’
ওয়াইফাই, ফেসবুক, গুগুল, ব্যাংক একাউন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ সাইট বা একাউন্টে শুরুতে দেয়া পাসওয়ার্ড ও ইউজার আইডির নাম পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েবসাইটে ঢুকে হোক অথবা ডিভাইস থেকে এগুলো পরিবর্তন করে নিলে বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইম অর্ধেক কমিয়ে আনা যেতে পারে বলে জানান এই সাইবার বিশেষজ্ঞ।
তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ কোন ওয়েবসাইটের একটি একাউন্টও যদি কোন হ্যাকার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে তবে পুরো ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে থাকে। কারণ আপনার যোগাযোগ, ফটো, ভিডিও, অবস্থান, স্বাস্থ্য ও আর্থিক তথ্যের মতো বিষয়গুলো তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।’
সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেজেন্টেশন ক্লাবের সহ-সভাপতি মোনাসিব রোমেলসহ অন্যান্যরা। এসময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রেজেন্টেশন ক্লাবের সভাপতি রাইসুল হক চৌধুরীর।








