খরাপীড়িত সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় বন্য উট অতিরিক্ত পরিমাণে পানি খেয়ে ফেলছে, তাই সেসব অঞ্চলে ১০ হাজারের বেশি উট গুলি করে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
হেলিকপ্টার থেকে পেশাদার বন্দুকধারীরা গুলি করে এসব উটকে মারবেন।
দি অস্ট্রেলিয়ান জানিয়েছে, সাউথ অস্ট্রেলিয়ার আনাগু পিতজান্তজাতজারা ইয়াংকুনিটজাতজারা (এপিওয়াই) অঞ্চলের আদিবাসী নেতাদের নির্দেশ পাওয়ার পর স্থানীয় সময় বুধবার থেকে উট হত্যার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খরার কারণে প্রাণীগুলো পানির জন্য আরও বেশি অস্থির হয়ে উঠেছে। যেখানে মানুষেরও পানির সংকট, সেখানে এসব বন্য উট পানির সন্ধানে লোকালয়ে দল বেঁধে হানা দিচ্ছে, বেড়া-ছাউনি ভেঙে ফেলছে, ট্যাপ, ট্যাংক বা চৌবাচ্চা, যেখানে পানি পাচ্ছে সেখান থেকেই সবকিছু তছনছ করে পানি খেয়ে যাচ্ছে।
এমনকি বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্রিনহাউজ গ্যাসও উট বিপুল পরিমাণে নির্গমন করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে দি অস্ট্রেলিয়ান। বলেছে, প্রাণীগুলো প্রতি বছর এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের সমান মিথেন বাতাসে ছেড়ে দেয়।
সাউথ অস্ট্রেলিয়া পরিবেশ ও পানি বিভাগের এক মুখপাত্র অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যম নিউজ.কম’কে জানিয়েছেন, এই বন্য উটের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকার কারণে অঞ্চলটিতে নানারকম সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, এর ফলে এলাকার অবকাঠামো গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পানির জন্য পাগলাটে হয়ে থাকা প্রাণীগুলোর কারণে বিপদের মুখে পড়ছে সেখানকার অধিবাসী পরিবার ও জনগোষ্ঠীগুলো। এপিওয়াইয়ের তৃণভূমিতে বাড়তে থাকা পশুচারণের কারণে ভূমির উর্বরতা বিপজ্জনকভাবে কমে যাচ্ছে, খরার প্রবণতা আরও বাড়ছে এবং এর সঙ্গে পানির পরিমাণ কমতে থাকায় দাবানলের আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে।
শুধু তাই নয়, পানির উৎসের কাছে পৌঁছানোর জন্য উটগুলো একে অন্যের সঙ্গে মারামারি করতে গিয়ে বা অনেক সময় পানির অভাবে মারা যায়। সেসব মৃতদেহ ওই শুষ্ক এলাকার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পানির উৎসে পড়ে থেকে পানি নষ্ট করে ফেলে বলে জানান ওই মুখপাত্র।
এই সবকিছু মিলিয়েই ব্যবস্থা হিসেবে ১০ হাজার উট মেরে ফেলা হবে। পুরো অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১২ লাখ বন্য উটের আবাস। তাই এগুলো থেকে বেছে বেছে উট হত্যার কাজ শেষ হতে বুধবার থেকে ৫ দিনের মতো সময় লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
হত্যার পর মৃতদেহগুলোকে রোদে শুকিয়ে পরে পুড়িয়ে ফেলা হবে বা মাটিতে পুতে ফেলা হবে বলে জানিয়েছে এবিসি নিউজ।








