গত ৮ আগস্ট মারা যান লিওনেল মেসির বাবা হোর্সে মেসি। বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে ধীরে ধীরে ফুটবলে ফিরছেন লিওনেল মেসি। কঠিন এই সময়ে মাঠই যেন আর্জেন্টাইন তারকার মানসিক স্বস্তির জায়গা হয়ে উঠেছে। ইন্টার মায়ামির কোচ গিলের্মো হোয়োস জানিয়েছেন এমনই।
বাবার মৃত্যুর চার দিন পর, ১২ আগস্ট প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরেন মেসি। লিগস কাপে লিওনের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। মাঠে নামার সময় সমর্থকদের কাছ থেকে পান সমর্থন। এরপর ন্যাশভিলের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই খেলেন মেসি। তবে সেই ম্যাচে ৪-১ গোলে হেরে যায় ইন্টার মায়ামি। পেনাল্টি মিস করলেও টেলাসকো সেগোভিয়াকে দিয়ে একটি গোল করান তিনি।
বাবাকে হারানোর পর মেসির মানসিক অবস্থা কেমন, তা নিয়ে আগ্রহ ভক্তদের। সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন হোয়োস। জানালেন, ‘মাঠে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছেন তার অধিনায়ক।
বলেছেন, ‘তাকে ভালোই দেখাচ্ছে। মাঠে নিজেকে প্রকাশ করছে, এমন একটি জায়গায় যেখানে সে খুব ভালোভাবে নিজেকে চেনে। সে শান্তিতেও আছে।’
মেসির এই প্রত্যাবর্তন অবশ্য শোক কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত নয়। বরং ব্যক্তিগত এই কঠিন সময়ের মধ্যেও ফুটবলে ফেরার চেষ্টা করছেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর আবেগঘন এক বার্তায় হোর্হে মেসির প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। মেসিকে সমবেদনা জানিয়েছেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রাও। লিওনের বিপক্ষে ম্যাচের পর ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কাসেমিরো মেসির মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, ‘সে দারুণ উদাহরণ তৈরি করেছে। নিশ্চয়ই সে খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারপরও খেলোয়াড় ও ক্লাবের প্রতি তার যে দায়বদ্ধতা, তা অবিশ্বাস্য। জীবনে এমন কিছু আমি আগে দেখিনি।’
এদিকে মাঠের ফল অবশ্য ইন্টার মায়ামির পক্ষে যাচ্ছে না। টানা তিন ম্যাচ হেরেছে তারা। লিগস কাপ থেকেও বিদায় নিয়েছে দলটি। এর মধ্যেই ব্যস্ত সূচি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন কোচ হোয়োস। অল্প সময়ের ব্যবধানে ম্যাচ, দীর্ঘ ভ্রমণ ও প্রচণ্ড গরমে খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে বলে মনে করেন তিনি।
বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের অনেক সময় অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয়। ভ্রমণ, ম্যাচের সূচি ও গরমের কারণে পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধারের সময় থাকে না। খেলোয়াড়রা যেভাবে নিজেদের উজাড় করে দেয়, তাদের এই মানসিকতা প্রশংসনীয়। তবে খেলাটির মান উন্নত করতে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।’










