ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর খবর জানার পর বাবার সঙ্গে তোলা ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার একমাত্র ছেলে নাভিদুল হক। শোকাহত ছেলের সংক্ষিপ্ত এই লেখায় উঠে এসেছে একজন ব্যস্ত আনিসুল হক কেমন ছিলেন, সন্তান-পরিবারসহ সমাজ ও দেশের প্রতি তার দায়িত্ববোধ এবং তার সামগ্রিক জীবনের একটি খণ্ড চিত্র। ইংরেজিতে লেখা এ পোস্টে বাবার সঙ্গে তার কিছু স্মৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি সবাইকে ধন্যবাদ দিয়েছেন; যারা তার বাবার পাশে থেকেছেন, দোয়া করেছেন।
বাবার ব্যস্ততার কারণে তার সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটানোর সুযোগ হয়নি জানিয়ে নাভিদুল হক লিখেছেন: নিজের ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়া ছাড়াও সুশীল সমাজের একজন সক্রিয় প্রতিনিধি এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় শৈশব থেকেই তার সঙ্গে আমার খুব বেশি স্মৃতি নেই।
এত ব্যস্ততা থাকার পরেও নিজের জীবনে বাবার গভীর প্রভাবের কথা স্মরণ করে তিনি লেখেন: আমি বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও ঘনিষ্ঠতর হয়েছে। তিনি ছিলেন আমার পরাপর্শক, আমার সঙ্গী, আমার গুরু এবং আমার পথ চলার ক্ষেত্রে আলোর দিশারি।
মানুষের মনে বেঁচে থাকার তীব্র ইচ্ছা আনিসুল হকের ছিল জানিয়ে পরিবারের বড় সন্তান নাভিদ লিখেছেন: তিনি সবসময় চাইতেন যখন মেয়র থাকবেন না তখনও মানুষ যেন তাকে মনে রাখে।
‘আব্বু যখন তুমি জান্নাত থেকে তাকিয়ে থাকবে, দেখবে লাখো মানুষ তোমার কথা মনে রেখেছে। প্রতিটি দিন আমি তোমাকে অনেক মিস করবো।’
আনিসুল হকের সঙ্গে যাদের সময় কাটানোর সৌভাগ্য হয়েছে তাদের মাঝে তার দরাজ কণ্ঠ, হাসি, জ্ঞান, কবিতা ও স্পর্শ সবসময় জীবন্ত থাকবে বলে বিশ্বাস ছেলে নাভিদের। নিজের বাবাকে একজন কিংবদন্তি হিসেবে উল্লেখ করে তার ছেলে হতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন তিনি।
‘‘তিনি আমাদের মধ্যে প্রোথিত করে গেছেন শ্রেষ্ঠ মূল্যবোধ, সততা ও বিনয়ের সঙ্গে জীবনযাপন; যা যেকোন অর্জনের চেয়েও বেশি কিছু।’’
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাবার পাশে থাকার কিছু ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান: বাবা যখন ঢাকা উত্তরের মেয়র হলেন তখন আমি ছিলাম তার নির্ভরযোগ্য সহযোগী যার সঙ্গে তিনি তার সব কর্মকাণ্ড, পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা বলতেন।
সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন: বাবাকে উৎসর্গ করে দেখা ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলো পড়ে আমার চোখে পানি এসে গেছে। যারা আমার বাবার প্রতি ভালোবাসা, সম্মান প্রদর্শন করেছেন ও তার জন্য প্রার্থনা করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই।
বাবা আনিসুল হক সম্পর্কে ভবিষ্যতে আরও লিখে সবাইকে জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন আনিসুল হক ও রুবানা হক দম্পতির বড় সন্তান নাভিদুল হক।








