তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব খাতে প্রত্যক্ষ নজর দিয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম অর্থখাত। ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজারসহ নানা অর্থবিষয়ক সংস্থায় এসেছে নানা ইতিবাচক পরিবর্তন।
আজ রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০১৬-১৭ বিতরণ অনুষ্ঠানে বলেছেন: রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নতুন বাজার ও পণ্য বহুমুখীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে কাজ করে যাচ্ছি। রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কেও কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। ব্যবসায়ীরাই ব্যবসা করবে। তাদের কাজে আমরা সহযোগিতা করবো।
প্রধানমন্ত্রীর কথার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে নানা তথ্য-উপাত্তে। ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের অর্থখাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) আমানত বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত এই এক বছরে ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম ৯ মাসে বেড়েছে ৬০ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। আর শেষ ৩ মাসে বেড়েছে ৬০ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। অথচ এ বছরের প্রথম ৩ মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) এর পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ হাজার ১৭ কোটি টাকা।
কিছুদিন আগে আমানত কমে যাওয়ায় ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছিল, সে অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে ধীরে ধীরে। গত কয়েক মাস ধরে কোনও কোনও ব্যাংক ডাবল ডিজিটে সুদ দিয়ে আমানত সংগ্রহ করছে। কেউ আবার ৫ বছরে টাকা দ্বিগুণ করার অফার দিয়ে আমানত সংগ্রহ করছে। এসব কারণে ব্যাংকিংখাতের এই পরিবর্তন। বিষয়গুলো খুবই ইতিবাচক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, আমানত বেশি বেড়েছে বেসরকারি ব্যাংকে। এসব ব্যাংকে শেষ ৩ মাসে (এপ্রিল-জুন) বেড়েছে ৪৬ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। আর গত অর্থবছরে (২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত) আমানত বেড়েছে ৯৫ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ১ বছরে আমানত বেড়েছে ১৪ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা। বিশেষায়িত ২ ব্যাংকে বেড়েছে ১ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। এ সময় বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে ৯ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ১ বছরে (জুন পর্যন্ত) ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। একই সময়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
দুর্নীতি দমনে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ আর প্রশাসনের সাহসী উচ্চারণের ফলে অর্থখাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসতে শুরু করেছে বলে খাতসংশ্লিষ্টদের অভিমত। আমাদের আশাবাদ, মন্ত্রণালয়-বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ অর্থখাতের এই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।







