চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গত ৩ মাসে আমানত বেড়েছে ৬০ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা

খরা কেটেছে ব্যাংকের আমানতে। গত তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) আমানত বেড়েছে ৬০ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বেড়ে যাওয়া, আমদানি কমে যাওয়া ও আমানতের সুদ বাড়ানো এবং সঞ্চয়পত্রের উপর কড়াকড়ি আরোপের কারণে ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ বেড়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতেও ব্যাংকে আমানতের জন্য হাহাকার ছিল। সুদহার বাড়িয়েও আমানত সংগ্রহ করতে পারছিল না ব্যাংকগুলো। মানুষের আমানতের একটা বড় অংশ চলে যেত সঞ্চয়পত্রে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত এই এক বছরে ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম ৯ মাসে বেড়েছে ৬০ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। আর শেষ ৩ মাসে বেড়েছে ৬০ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। অথচ এ বছরের প্রথম ৩ মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) এর পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ হাজার ১৭ কোটি টাকা।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমদানি কমেছে। ঋণ বিতরণে ধীর গতি। এছাড়াও সঞ্চয়পত্রের উপর সরকারের কড়াকড়ি রয়েছে। এসব কারণে আমানত বাড়ছে। আমানত বৃদ্ধির এই ধারা আগামী কয়েকমাস অব্যাহত থাকতে পারে।

আমানত বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে মনে করেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েছে। রপ্তানি আয় বেড়েছে, বিপরীতে আমদানির পরিমাণ কমেছে। এছাড়া সবচেয়ে বড় কারণ হলো- ব্যাংকগুলো এখন ডাবল ডিজিটে আমানতের বিপরীতে সুদ দিচ্ছে। এসব কারণে ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে সঞ্চয়পত্রের উপর কড়াকড়ি আরোপের কারণেও আমানত বাড়তে পারে বলে মনে করেন মাহবুবুর রহমান।

সঞ্চয়পত্রের সুবিধা সাধারণত নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য বরাদ্দ হলেও ধনীরা এর সুফল ভোগ করছে। এ কারণে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই অর্থবছরে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া ১ লাখ টাকার বেশি টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে শেষ ৩ মাসে বেড়েছে ৪০ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা।

জানা গেছে, আমানত কমে যাওয়ায় ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছিল। এরপর গত কয়েক মাস ধরে কোনও কোনও ব্যাংক ডাবল ডিজিটে সুদ দিয়ে আমানত সংগ্রহ করছে। কেউ আবার ৫ বছরে টাকা দ্বিগুণ করার অফার দিয়ে আমানত সংগ্রহ করছে। যদিও বছরখানেক আগে আমানতে সুদহার ছিল ৮ থেকে ৯ শতাংশের মত।

বন্যা-কৃষিঋণ-বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের থেকে ঋণ আদায়বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, আমানত বেশি বেড়েছে বেসরকারি ব্যাংকে। এসব ব্যাংকে শেষ ৩ মাসে (এপ্রিল-জুন) বেড়েছে ৪৬ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। আর গত অর্থবছরে (২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত) আমানত বেড়েছে ৯৫ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা।

অন্যদিকে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ১ বছরে আমানত বেড়েছে ১৪ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা। বিশেষায়িত ২ ব্যাংকে বেড়েছে ১ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। এ সময় বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে ৯ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে ১ বছরে (জুন পর্যন্ত) ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। একই সময়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি ব্যাংকে মোট আমানত রয়েছে (জুন পর্যন্ত) ৭ লাখ ৯৬ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। সরকারি ব্যাংকে রয়েছে ৩ লাখ ৯৯৯ কোটি টাকা। বিশেষায়িত ব্যাংকে রয়েছে ৩০ হাজার ৫৮ কোটি টাকা। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকে আমানত রয়েছে ৫৪ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন