বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড.আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের রুমের বাইরে নিরাপত্তা প্রহরীর বসার চেয়ার নিয়ে তোলপাড় কাণ্ড বাধিয়েছেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ডিন সাদেকা হালিম। একই সাথে অধ্যাপক আরেফিনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ সদস্য এবং এক স্টাফের সাথেও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের অধ্যাপক আরেফিনের ২২৯ রুমের সামনে একাধিক চেয়ার সরিয়ে ফেলতে এবং রুমের সামনে যেন কোন ভিড় না হয় সেই নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। আরেফিনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ সদস্য মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সকালে ম্যাডাম নিজে এসে আরেফিন স্যারের রুমের সামনে একাধিক চেয়ার কেন জানতে চান। কোন উত্তর দেওয়ার আগেই তিনি আমাকে বকাঝকা করেন, এবং চেয়ার সরিয়ে নিতে বলেন। এছাড়া রুমের সামনে যেন কোন প্রকার ভিড় না হয় সেই বিষয়েও কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
এরআগে ডীন অফিসের স্টাফরা রুমের সামনের রাখা টেবিলটি নিয়ে যায়। তিনি যখন আমাকে বকাঝকা করেন সেসময় অধ্যাপক আরেফিন রুমেই ছিলেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিকরা সাদেকা হালিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিতভাবে বলেন, নিউজ করার জন্য অসংখ্য বিষয় ক্যাম্পাসে রয়েছে। তোমরা যদি শুধু মাত্র একটা চেয়ার-টেবিল নিয়ে কথা বলতে আসো তাহলে আমি কিছু বলতে চাই না। সামনে ঘ ইউনিটের পরীক্ষা আমি এখন শান্তিতে কাজ করতে চাই। আমি চাই না আামার অনুষদে বিনা কারণে মানুষের ভিড় বাড়ুক।
সাংবাদিকরা অধ্যাপক আরেফিনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্য কোথায় বসবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের হাউজের বড় বড় সাংবাদিকদের সাথে আমি কাজ করেছি। তথ্য কমিশনার হিসেবে কাজ করার সময় আমার বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ করতে পারেনি। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম তখন তোমাদের অনেকের জন্ম হয়নি। আরেফিন স্যার চাইলে পুলিশ সদস্যকে নিজের রুমে নিয়ে রাখতে পারেন।
অধ্যাপক আরেফিনের রুমকে অনুষদের আওতাধীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘ ইউনিটের পরীক্ষা শেষে আরেফিন স্যারের রুম সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে থাকবে কিনা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সেসময় সাদেকা হালিমের সাথে উপস্থিত কলা অনুষদের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী অধ্যাপক আরেফিনের নিরাপত্তায় পুলিশ কেন থাকবে প্রশ্ন করে বলেন, একজন শিক্ষকের সাথে পুলিশ কেন থাকবে? অতীতে কখনো কোন শিক্ষকের সাথে পুলিশ দেখিনি। পুলিশ থাকায় অনুষদের নিয়মও লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অবহিত করেন তিনি।
এ বিষয়ে অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, রুচিহীন আচরণ নিয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। এটাই আমার প্রতিক্রিয়া। আর পুলিশ রাখা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার নিরাপত্তার প্রয়োজনে পুলিশ রাখার আদেশ সরকারই দিয়েছে।
অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক ভিসি থাকাকালীন সময়ে তার ওপর একাধিকবার হত্যার হুমকি আসলে সরকারি আদেশেই নিরাপত্তার খাতিরে পুলিশ রাখার অনুমতি পান তিনি।









