সৌম্য আর তামিমকে আম্পায়ার যখন থামালেন, তখন গলের আকাশে ঘনকালো মেঘ। বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে কোনো উইকেট না হারিয়ে রান ৬৭। জয়ের জন্য করতে হবে ৩৯০। দিনের সম্ভাব্য ১১ ওভার বাকি। এই ১১ ওভারে দুই উদ্বোধকের যে কেউ ‘ক্ষতবিক্ষত’ হতে পারতেন। যেভাবে ব্যাট চালাচ্ছিলেন, তাতে সেই শঙ্কাই বারবার উঁকি দিচ্ছিলো।
আগেভাগে আলো কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ শেষদিন দশ ব্যাটসম্যানকেই পাচ্ছে। কঠিন পথ। পাড়ি দিতে দৃঢ়তার পরিচয় দিতে হবে। গলে চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়া করে জেতার ইতিহাসটি সর্বোচ্চ ৯৯ রানের। শুধু তাই নয়; শেষ ইনিংসে এই মাঠে কোন দল এখন পর্যন্ত ৩০০’র বেশি রানই করতে পারেনি। এমন পরিসংখ্যান মাথায় রেখে বাংলাদেশ কত পথ পাড়ি দিতে পারবে সেটাই দেখার বিষয়।
এই টেস্ট জিতে গেলে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ে ফেলবে। টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৮ রানের বেশি তাড়া করে জেতার নজির নেই।
চতুর্থদিন পর্যন্ত উইকেট খুব একটা খারাপ আচরণ করেনি। লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা অনায়াসে ব্যাট চালিয়েছেন। উপুল থারাঙ্গা সেঞ্চুরি তুলে স্বাগতিকদের কাজটা সহজ করে দেন। ৬ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ পর্যন্ত যাওয়ার পর ইনিংস ঘোষণা করে দলটি। প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকা ১৮২ রান মিলে তাতে লিডটা সাড়ে চারশো পেরিয়ে যায় স্বাগতিকদের।
একদিকে শুভাশিস রায়। আরেকদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ। চতুর্থদিন সকালে এভাবে শুরু করেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। এর মাঝে একটি সুযোগও এসেছিল। সাকিব একটু তৎপরতা দেখাতে পারলে ফায়দা লুটতে পারতেন। দিনের ষষ্ট ওভারে মিরাজকে উইকেট ছেড়ে এসে তুলে মেরেছিলেন দিমুথ করুনারত্নে। কাভারের উপর দিয়ে পাঠাতে চেয়েছিলেন। শর্ট কাভারে সাকিব লাফিয়ে বল প্রায় ধরেই ফেলেন। কিন্তু বলে হাত জমাতে ব্যর্থ হন। ৭ রানে বেঁচে যান করুনারত্নে।
মিরাজ পরে দুইজনকে ফেরান। সাকিবও ফিরিয়েছেন দুইজনকে। তাসকিন একজনকে। মোস্তাফিজও একজনকে।
শ্রীলঙ্কা সবকটি উইকেট হারিয়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪৯৪ রান করে। ওই ইনিংসে বাংলাদেশের সফল বোলার বলতে এক মিরাজ। ২২ ওভার বল করে ১১৩ রান দিয়ে চার উইকেট নেন তরুণ স্পিনার। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা মোস্তাফিজ ২৫ ওভারে দুই উইকেট নেন। রান দেন ৬৮। সবচেয়ে বেশি হাত ঘুরিয়েছেন সাকিব আল হাসান। ৩২ ওভারে ১০০ রান খরচায় এক উইকেট তার। শুভাশিস আর তাসকিন একটি করে উইকেট নেন।
লঙ্কানরা বড় স্কোর গড়ে কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে ভর করে। প্রথম দিন শুভাশিসের বলে শূন্য রানে জীবন পাওয়া এই ব্যাটসম্যান একাই করেন ১৯৪। আসিলা গুনারত্নে মিডলঅর্ডারে ৮৫ করে তাকে সঙ্গ দেন। নিরোশান ডিকেওয়াল্লা করেন ৭৫। অর্ধশতক পেয়েছেন দিলরুয়ান পেরেরাও (৫১)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে দারুণ শুরু করেছিল। সৌম্য-তামিম ১১৮ রানের জুটি গড়েছিলেন। এরপরই মূলত শুরু হয় ভাঙন। মিডলঅর্ডারে মুশফিক ৮৫ আর মিরাজ ৪১ রান করে পরিস্থিতি সামাল দেন। সৌম্য ওই ইনিংসে করেছিলেন ৭১। তামিম ৫৭। সৌম্য দ্বিতীয় ইনিংসে এসেও অর্ধশতকের দেখা পেলেন। ৪৭ বল খেলে ৫৩ রানে অপরাজিত আছেন। অবাক করার বিষয় হলো এই সময়ে তামিম ৪৪ বল খেলে মাত্র ১৩ রান করেছেন।







