চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘৫-১০টি সুপারহিট কনটেন্ট দিতে পারলেই জনপ্রিয় হবে ওটিটি’

টেলিভিশনের পর গত কয়েক বছরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ইউটিউব। এ প্লাটফর্ম দর্শক চাহিদার শীর্ষে। সময়ের পরিবর্তনে এসেছে ওটিটি মাধ্যম। অন্যান্য দেশে মাধ্যমটি ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে এখনো ওটিটিতে সেই অর্থে অভ্যস্ত হয়নি দর্শক।

তবে অচিরেই মাধ্যমটি ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ান।

বিজ্ঞাপন

জনপ্রিয় এ নির্মাতা মনে করেন, বছরে ৫-১০ টি ‘ম্যাসিভ সুপারহিট’ কনটেন্ট নিয়ে আসতে পারলেই ইউটিউবের মতো যে কোনো ওটিটি প্লাটফর্মও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

২০১৭ সালে ‘বড় ছেলে’ নাটক বানিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেন আরিয়ান। ইউটিউবে প্রচার হওয়ার পর নাটকটি এখন পর্যন্ত ৩ কোটির বেশি দর্শক দেখেছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দেশে ইউটিউবেও যে ভালো কনটেন্ট পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে আরিয়ানের ‘বড় ছেলে’ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যেখানে অভিনয় করেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব এবং মেহজাবীন চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার রাতে চ্যানেল আই অনলাইনকে মিজানুর রহমান আরিয়ান বলেন: কয়েক বছর আগে ইউটিউব সম্পর্কে মানুষ বেশি জানতো না। টিভিতেই বেশি নাটক দেখতো। এখনো টিভিতে দেখে কিন্তু ইউটিউবে তুলনামূলক বেশি দেখে।

তিনি বলেন, নাম বলতে চাইনা, কিন্তু আমারও কিছু কনটেন্ট দেশে ইউটিউবে যে নাটক দেখা যায় সেটা দর্শকদের বোঝাতে সাহায্য করেছে। আমার বিশ্বাস, ওটিটিও মানুষ চিনবে তখনই, যখন ম্যাসিভ আকারে ৫-১০টি কনটেন্ট সুপারহিট হবে। ম্যাসিভ হিট কনটেন্ট ইউটিউবে পাওয়া যায়। ওটিটির কনটেন্ট ম্যাসিভ সুপারহিট হলে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে যাবে। ওটিটি আরও বেশি পরিচিতি পাবে।

বার বার জোর দিয়ে এই নির্মাতা বলেন, ওটিটিতে বছরে ৫-১০টি ম্যাসিভ সুপারহিট কনটেন্ট লাগবে। কনটেন্ট যেমন ভালো হতে হবে এবং তেমনি ম্যাসিভ সুপারহিট হতে হবে। তিনি বলেন, মানুষ এ মাধ্যমে কন্টেন্ট  টাকা দিয়ে দেখবে। তাই পরিচালক, প্রযোজক , শিল্পীদের দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে। এই মাধ্যমের জন্য পৃষ্ঠপোষকদের পাশাপাশি দর্শকদেরও সাপোর্ট প্রয়োজন। এগুলো হলেই ইউটিউবের মতো ওটিটিও মানুষ চিনবে।

শুধু ‘বড় ছেলে’ নয়, ভালোবাসার গল্পকথক হিসেবে দর্শকদের কাছে আস্থার নাম মিজানুর রহমান আরিয়ান। ভালোবাসার গল্পগুলো নানা ঢঙে তিনি তার নাটকে উপস্থাপন করে নির্মাতা হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। নতুন খবর হচ্ছে, এবারই প্রথম ওটিটির জন্য ওয়েব ফিল্ম বানালেন মিজানুর রহমান আরিয়ান।

নতুন ওটিটি মাধ্যম চরকি’র পৃষ্ঠপোষকতায় আরিয়ানের ওয়েব ফিল্মটির নাম ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’। যেখানে অভিনয় করেছেন শরিফুল রাজ, ইয়াশ রোহান খাইরুল বাশার, জোনায়েদ বোগদাদী, নাজিফা তুষি, অর্শা, তাসনিয়া ফারিণ, তাসনুভা তিশাসহ আরও অনেকে।

মিজানুর রহমান আরিয়ান সবসময় চেয়েছেন, একটি সুন্দর গল্প দর্শকদের উপহার দিতে। ওয়েব ফিল্মের মাধ্যমে সেই চেষ্টা করেছেন। তবে এবার গল্পটা বড় পরিসরে বলতে পেরেছেন বলেও তিনি জানান।

ওয়েব প্লাটফর্মের জন্য নির্মিতব্য ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ নিয়ে আরিয়ান বলেন, এটি বন্ধুত্বের গল্প। ঢাকা, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিনসহ অনেকগুলো লোকেশনে শুটিং করা হয়েছে। কোভিড কিছুটা কম থাকাকালীন ১৬ দিনে শুটিং করেছি। বর্তমানে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। চিত্রনাট্যসহ সবমিলিয়ে কাজটির জন্য গত ৬ মাস সময় দিতে হয়েছে। তবে আরও ৩ বছর আগে যখন সিনেমা নিয়ে ভেবেছি তখন থেকেই গল্পটা ঠিক করে রাখি।

মিজানুর রহমান আরিয়ান  | ছবি: সংগৃহীত

মিজানুর রহমান আরিয়ান বলেন, কোভিড না থাকলে পৃথিবী আগের মতো সুস্থ থাকলে এ গল্প হতো সিনেমা হলের জন্য বানানো গল্প এবং প্রথম সিনেমার গল্প। এটা সেই গল্প যেটা দিয়ে আমি প্রথম সিনেমা বানাতে চেয়েছিলাম। আমি আমার কষ্ট ও চেষ্টার সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজটি করেছি। কষ্ট যেহেতু প্রচণ্ড করেছি, আশা করছি ফলাফল সুখের হবে। যখন বিহাইন্ড দ্য সিন প্রকাশ হবে তখন বোঝা যাবে আমি এবং পুরো টিম কত কষ্ট করেছি। কনটেন্ট দেখলেও মানুষ বুঝবে কোথায় কোথায় শুটিং করেছি।

তিনি বলেন, সবসময় কনটেন্ট বানাই যাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছায় এই চিন্তা মাথায় রেখে। মানুষ দেখবে প্রশংসা করবে এ টার্গেট নিয়ে বানিয়েছি। পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ করতে গিয়ে মনে হচ্ছে, এটি মুক্তির পর দর্শকদের কাছ থেকে ভালো রেজাল্ট পাবো।

আরিয়ানের ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ ওয়েব ফিল্মে থাকবে তিনটি গান। দুটি গান লিখেছেন সোমেশ্বর অলি এবং সুর সংগীত সাজিদ সরকারের। আরেকটি গান লিখেছেন ও সুর সংগীত করেছেন সন্ধি।

বিজ্ঞাপন