চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

৩০ নভেম্বরের পর রিটার্ন জমা দেয়া যাবে না

জানালেন এনবিআর চেয়ারম্যান

আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাবে জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেছেন, এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সে সময় করোনা সংক্রমণের কারণে বিশেষ বিবেচনায় আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানো হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, ‘৩০ নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হবে। এই সময়ের কেউ জমা দিতে না পারলে আইনি উপায়ে পরবর্তী সময়ে জমা দিতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে জরিমানাসহ জমা দিতে হবে।’

‘‘এনবিআর ২০০৮ সাল থেকে জাতীয় আয়কর দিবস এবং ২০১০ সাল থেকে আয়কর মেলার আয়োজন করে আসছে। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলা হচ্ছে না। তবে আয়কর অফিসগুলোতে সব ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে।’’

তিনি জানান, নভেম্বর মাসব্যাপী করদাতারা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সেবা দেয়া হচ্ছে। দেশের সব কর অঞ্চলের কার্যালয়ে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন গ্রহণ, টিআইএন প্রদান, কর তথ্যসেবা প্রদান করা হবে। রিটার্ন জমা দেওয়ার পর করদাতাদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্রও দেয়া হচ্ছে।

ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের বাস্তবায়নের বিষয়ে আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী মাসে শেষ হতে চললেও প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।’

বিজ্ঞাপন

এর পেছনে জনবলের ঘাটতি এবং বিদেশি কোম্পানির ব্যর্থতাকে দায়ী করেন তিনি।

জনবল সংকট এবং অটোমেশন কার্যত ব্যর্থ হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘অটোমেশনের নামে বাইরের প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা বেড়ে গেছে। নিজেদের লোকবল তৈরির চেয়ে যন্ত্রপাতি কেনায় অগ্রগামী হয়ে গেছি। এর দায় কার, তা নির্ধারণে অন্য একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া দরকার। এনবিআরের দায় কি আমি নেব নাকি? সেটা ওই সংস্থা নির্ধারণ করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাজস্ব আদায় বেড়েছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আদায় কম হয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

গত চার মাসে ৮৭ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।

এর কারণ হিসেবে আবু হেনা মোহাম্মদ রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘করোনার কারণে রাজস্ব আদায়ের গতি কমে গেছে।’

তবে অর্থবছরের বাকি সময়ে আদায়ের পরিমাণ বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।