চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘হাওয়া’ মুক্তির আগে ওটিটিতে কোনো কাজ নয়: সুমন

এখন ওটিটির যুগ। নবীন-প্রবীণ নির্মাতারা প্রবলভাবে ঝোঁকছেন ওটিটির জন্য কন্টেন্ট নির্মাণে। দেশী প্লাটফর্মের বাইরে ভারতীয় জনপ্রিয় প্লাটফর্মগুলোতেও কাজ করছেন অনেকেই। সাড়াও ফেলছে কিছু কিছু কন্টেন্ট। তবে ওটিটির হাওয়ায় আপাতত গাঁ ভাসাতে নারাজ ‘তারপরও আঙ্গুরলতা নন্দকে ভালোবাসে’র নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন।

নিজের প্রথম সিনেমা, এই সময়ের নির্মাণ হালচাল নিয়ে আলাপের এক পর্যায়ে ওটিটি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিস্কার করলেন সুমন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সমকালীন নির্মাতাদের অনেকেই ওটিটিতে কাজ করছেন। নতুন প্লাটফর্মে নির্মাণের সুযোগ আসলেও এই মুহূর্তে এই মাধ্যমে কাজ নিয়ে কোনো পরিকল্পনাই নেই বলে জানালেন ‘দক্ষিণের জানালাটা খোলা, আলো আসে-আলো ফিরে যায়’এর নির্মাতা। বললেন, ওটিটির জন্য কাজের কথা আমি ভাবছিই না। অন্তত এই সময়েতো নই ই। আপাতত আমার প্রথম ছবি ‘হাওয়া’র কাজ পুরোপুরি শেষ করতে আমি বেশী আগ্রহী।

সুমন পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘হাওয়া’। ২০১৯ সালের শেষ দিকে হয়েছে শুটিং। বঙ্গোপসাগরের একেবারে মধ্যখানে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ছিলো শুটিং লোকেশন। টানা প্রায় মাস খানেক হয়েছে শুটিং। তার আগে দীর্ঘ সময় নিয়ে হয়েছে গ্রুমিং। এই ছবির শুটিংয়ের সময়ই পুরো বহর নিয়ে মাঝ সাগরে নির্মাতাকে মুখোমুখি হতে হয়েছিলো ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের!

বর্তমানে ছবিটি কোন পর্যায়ে, কিংবা দর্শকের সামনেই বা কবে আসবে? এমন প্রশ্নে নির্মাতা বলেন, শুটিং সম্পন্ন হওয়ার পর ছবিটির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শুরু হয়েছে দেশের বাইরে। গত বছরেই শুরু হয়েছিলো, কিন্তু মহামারীর কারণে গেল বছর থেকেই কাজ আটকে আছে। মাস খানেকের মধ্যে আবার কাজ শুরু হবে। পোস্টের কাজ শেষ হলে আমরা মুক্তির পরিকল্পনা করবো।

এই সময়ে যে কোনো নতুন ছবির মুক্তির ক্ষেত্রে একটাই প্রশ্ন, হল নাকি ওটিটি? নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন জানান, অবশ্যই সিনেমা হলে মুক্তি দিবো। এরপর হয়তো অন্য মাধ্যমে ভাববো। তবে এসব কিছুই এখনও চূড়ান্ত নয়, আগে সিনেমাটি পুরোপুরি তৈরী হোক। সে অপেক্ষায় আছি।

বিজ্ঞাপন

‘হাওয়া’ ফেস্টিভালগুলোতে দেয়ার ইচ্ছে আছে কিনা? সুমন বলেন, এরকমটাই ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু মহামারীর কারণে সমস্ত পরিকল্পনাইতো ভেস্তে গেলো। তাই আগাম কিছু বলছি না।

ফেস্টিভাল প্রসঙ্গে সুমন কথা বলেন কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথমবার বাংলাদেশ থেকে অফিশিয়ালি নির্বাচিত সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ এর নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদকে নিয়ে।

কানের ‘আনসার্টেন রিগার্ড’ (ভিন্ন দৃষ্টিকোণ) বিভাগে বাংলাদেশের সিনেমা জায়গা করে নেয়ার খবরে উচ্ছ্বাস, আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দেশের সাধারণ সিনেমা প্রেমী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা! ক’দিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই উচ্ছ্বাসে ঠিকরে পড়ছে!

প্রায় সকলেই ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ এর এই অর্জনকে বাংলাদেশের জন্য সম্মান আর গৌরবের বলেও আখ্যা দেন। সেই সুরেই কণ্ঠ মেলালেন ‘তারপরও আঙ্গুরলতা নন্দকে ভালোবাসে’র মতো বেশকিছু দর্শকনন্দিত ফিকশন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন।

নির্মাণের প্রতি সাদের একাগ্রতা ও নিজস্ব ক্যারিশমার ভূয়সী প্রশংসা করেন সুমন। বললেন, ‘২০১১ সালের দিকে সাদের সাথে আমার পরিচয়। তখনই ওর কাজের ধরন দেখে ওকে চিনতে ভুল হয়নি। বুঝেছিলাম সাদ অনেক দূর যাবে।’

কানের অফিশিয়াল সিলেকশনে স্থান করে নেয়ার বিষয়ে নিজের অভিমত জানিয়ে সুমন বলেন, সাদ আমাদের খুব কাছের মানুষ। ওর ছবি যে এরকম জায়গায় যাবে, এটা আমরা জানতাম। কারণ তার কাজের প্রসেসই আলাদা। নির্মাণে এতো নিষ্ঠা খুব কম নির্মাতার মধ্যে পাওয়া যায়। আমি বিশ্বাস করি, এটা কেবল সাদের শুরু। এরকম আরো বড় বড় অর্জন সে কন্টিনিউ করবে। তার ছবি আরো দারুণ দারুণ প্লাটফর্মে যাবে।

সুমন মনে করেন, এটা শুধু সাদের একার অর্জন নয়। এটা কেবল বাংলাদেশের নির্মাতাদের জন্য একটা দ্বার উন্মোচনের সূচনা। বাংলাদেশের সিনেমা নিয়ে একটা অভিযোগ শোনা যায় যে, রূপরেখা তৈরী হয় না। সেই অভিযোগটিও ঘুচালেন সাদ। আগামীতে আমাদের আরো অনেক নির্মাতাদের এমন দারুণসব অর্জন বয়ে আনার রাস্তা দেখালো।