চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্থানীয় নির্বাচনে যে হযবরল অবস্থার অপেক্ষায় আওয়ামী লীগ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীকে হওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হলো। বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচনের ইতিহাসে এটি একটি নতুন সূচনা। পৃথিবীর অনেক দেশেই দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের নজির রয়েছে। কিন্তু সেসব দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সমপর্যায়ের নয়। দলীয় আনুগত্য, আদর্শিক ঐক্য, দেশাত্ববোধ,পরমত ও পরনেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা মনোভাবের মারাত্মক অভাব রয়েছে আমাদের দেশে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলনিষ্ঠ, নিবেদিত প্রাণ ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়া যেমন দেখা যায় তেমনই দেখা যায় দল মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘটনাও। যার দরুণ দেশব্যাপী শুরু হয় উপদলীয় কোন্দল। সেই কোন্দল নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলো চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। যার ফলে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অনেক দলীয় নেতা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়ে যান। অনেক ক্ষেত্রে দলীয় প্রার্থী হেরেও যান আর স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেও যান।

Reneta June

জেলা, উপজেলা পেরিয়ে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বনাম এমপির আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব দৃশ্যমান। অনেক জায়গায় দুই কমিটির সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে এমপির সাথে দলের সভাপতি, সম্পাদকের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। আর ১৪ দল শরীকরাতো হিসাবের মধ্যেই নেই। অথচ ১৪ দলীয় জোটের লড়াই সংগ্রাম ও সমন্বিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই এ সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দেশব্যাপী উপদলীয় ক্ষুব্ধতায় ও শরীক দলের ক্ষুব্ধতার মাঝে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত করার কতোটা ইতিবাচক ফল দেবে তা প্রশ্নবিদ্ধ। এক আওয়ামী লীগের দুই কমিটি গঠনের মতো যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দুই প্রার্থী হওয়ার ঘটনা ঘটে, তখন কী হবে?

পরিস্থিতিগত কারণে যে এরকমটি ঘটবে তা প্রায় নিশ্চিত। দেশব্যাপী একক দলীয় প্রার্থী নির্বাচন কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন জোটবদ্ধভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও কি সেরকমভাবে হচ্ছে? প্রার্থী নির্বাচন দল ও জোটের সমন্বয়ে হবে নাকি নিজ নিজ দলের?

আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকে দাঁড়াবেন, ওয়ার্কাস পার্টি হাতুড়ি প্রতীকে, জাসদ মশাল ও জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে দাঁড়াবেন, বিষয়টা কি এরকম হবে নাকি জোটের সর্বসম্মত প্রতীক থাকবে? এই বিষয়গুলোও জাতির সামনে পরিস্কার করা উচিত।

চলমান উপদলীয় কোন্দল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন মাত্রা পাবে বলে আশংকা করছেন দলীয় নীতি নির্ধারকরা। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান সুসম্পন্ন করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বনাম এমপির আওয়ামী লীগ দ্বন্দ্বের অবসান জরুরি। দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীক দলে সীমাবদ্ধ থাকলে এর দায়দায়িত্ব দলের হাতে ছেড়ে দেয়া হোক আর ১৪ দলে বিস্তৃত হলে জোট শরীকদের যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা প্রয়োগের যৌক্তিক পন্থা অবলম্বন করা হোক। প্রার্থী মনোনয়নে এমপি নয়, দলের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করা হোক।

লিটন ও বদির মতো অনেক এমপি সরকার ও দলের ভাবমূর্তি নষ্টে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে উপদলীয় কর্মকাণ্ড বিস্তৃততর হয়ে নতুন মাত্রা পেলে নির্বাচনের ফলাফল বিএনপির পক্ষে যাবে (যদি তারা নির্বাচনে অংশ নেয়)। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট যদি একক প্রার্থিতা দেয় জামাত নির্বাচনে না এলেও তাদের ভোট সে প্রার্থীর দিকেই যাবে।

অন্যদিকে ১৪ দল শরীকরা যদি জোটবদ্ধ প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হয় ও প্রত্যেকেই নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে ও আওয়ামী লীগে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকে তখন যে  হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হবে তখন কারা লাভবান হবে তা সহজেই অনুমেয়। এটা কি সরকারের জন্য বিব্রতকর হবে না? সরকারের করা আইনে সরকার বিব্রত হলে তা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত হবে। তা এড়ানোর কৌশল সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)