চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় সিএসও অ্যালায়েন্স

সম্প্রতি দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপতৎপরতা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘর-বাড়িতে আগুন দেয়াসহ নানাবিধ সহিংসতার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে সিএসও অ্যালায়েন্স। 

সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপতৎপরতা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘর বাড়িতে আগুন দেওয়াসহ নানাবিধ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে যা অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দেশের অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার ওপর এটা একটা বড় আঘাত।

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র । উন্নয়নের নানা সূচকে আমাদের অব্যাহত অগ্রগতির দাবি সত্ত্বেও এ ধরনের অশুভ তৎপরতা ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমরা এসকল ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং তদন্ত প্রতিবেদনগুলো দ্রুত জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, এলাকার জনপ্রতিনিধিগণের উদ্যোগ ও পূর্বপ্রস্তুতি থাকার দাবি সত্ত্বেও শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে এ ধরনের ঘটনা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে তাদের দুর্বলতা ও সক্ষমতার অভাবকে দৃশ্যমান করে তুলেছে। এ ঘটনাগুলোর পরম্পরায় এটা স্পষ্ট যে, কিছু চিহ্নিত উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী অত্যন্ত সুকৌশলে ধর্মকে পুঁজি করে এ ঘটনাগুলো ঘটিয়ে চলেছে। আমরা চাই অতিসতুর এসব ধর্ম ব্যবসায়ী উ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে কঠোর হস্তে দমন করা হোক।

নাগরিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত জোট সিএসও অ্যালায়েন্স, যা টেকসই উন্নয়নের লক্ষমাত্রা অর্জনে সরকার ও অন্যান্য অংশীজনের সহায়ক হিসাবে কাজ করছে, এর পক্ষ থেকে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদেও প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা ও গভীর একাত্মতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধে রাষ্ট্র সরকার, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনকে সকল ধরনের জরুরি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে সিএসও অ্যালায়েন্স এর পক্ষ থেকে আমরা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস নিচ্ছি।

আমরা সকলের অংশগ্রহণে সকল জনগোষ্ঠীর অধিকারভিত্তিক সহাবস্থানে, ধর্ম-বর্ণ এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আমাদের সংবিধান কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিক অধিকার সমুন্নত দেখে এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সকল অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল শক্তি, বাকির সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।

বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন তারা হলেন- সিএসও অ্যালায়েন্সের আহবায়ক রাশেদা কে চৌধূরী, বাপার প্রেসিডেন্ট সুলতানা কামাল, ওয়াটারএইডের রিজিওনাল ডিরেক্টর খায়রুল ইসলাম, দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক দিবালোক সিংহ, আদিবাসী ফোরামের জেনারেল সেক্রেটারি সঞ্জীব দ্রং, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্, নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশি কবির, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের নির্বাহী পরিচালক এহসানুর রহমান, এ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, সেন্টার ফর ডিজ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক এ এইচ এম নোমান খান, স্বাবলম্বী, নেত্রকোনার নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া বেগম, ক্রেডিট এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (সিডিএফ) চেয়ারপারসন মোরশেদ সরকার, বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, এফএনবির চেয়ারপারসন জাকির হোসেন, সাজেদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এস এন কৈরী, এডিডি ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শফিকুল ইসলাম, জাগো ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক করভী রাখসান্দ, প্রতিবন্ধী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মনসুর আহমেদ চৌধুরী, এসকেএস, গাইবান্ধার নির্বাহী পরিচালক রাসেল আহম্মেদ লিটন, সুশীলন, গাইবান্ধার নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা নুরুজ্জামান, বিওয়াইএলসির নির্বাহী পরিচালক ইজাজ আহমেদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা হোসেন।

বিজ্ঞাপন