চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সনির পর আবরার

২০০২ সালের পরে ২০১৯ সাল, সনির পর এবার আবরার। ১৭ বছরের ব্যবধানে আবারও রক্তাক্ত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

১৭ বছর আগে ৮ জুন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে টেন্ডার নিয়ে বিরোধের ঘটনায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে প্রাণ হারান কেমিকৌশল বিভাগের (৯৯ ব্যাচ) লেভেল ২, টার্ম ২–এর মেধাবী ছাত্রী সাবেকুন নাহার সনি। ঘটনাটি বিরাট আলোড়ন তুলেছিল ছাত্র রাজনীতিতে।

বিজ্ঞাপন

সেই বুয়েটেই রোববার দিবাগত রাতে ‘শিবিরকর্মী’ সন্দেহে মারধরের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ। ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে অভিযোগের তীর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের দিকে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণ।

১৭ বছর আগে সনি হত্যাকাণ্ডের পর উৎতপ্ত হয়ে ওঠে উঠেছিলো বুয়েট। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ লড়াইয়ের এক ছাতার নিচে এসেছিল ছাত্র সমাজ। টানা ৬৩ দিন বন্ধ রেখেও বিচারের দাবি করা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দমানো যায়নি। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলনের একপর্যায়ে গঠিত হয় ‘সন্ত্রাস বিরোধী বুয়েট ছাত্র ঐক্য’।

যার ফলে প্রথমবারে মতো কোন ক্যাম্পাস হত্যাকাণ্ডে বিচার পায় ছাত্রসমাজ। শুরুর দিকে বিএনপি-জামায়াত অপরাধীদের প্রতি নির্লিপ্ত থেকে বিচার দাবি করা ছাত্রদের প্রতি কঠোর হলেও শেষ পর্যন্ত নতি শিকার করে। সনি হত্যাকাণ্ড মামলার দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি হয়।

বিজ্ঞাপন

হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মুকি, টগরসহ তিনজনের ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। মুকি পালিয়ে দেশ ছাড়তে সমর্থ হলেও বাকী দু’জন গ্রেফতার হয়। তবে শেষ পর্যন্ত টগরদের ফাঁসি হয়নি। উচ্চ আদালতের রায়ে ফাঁসির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারদণ্ড দেওয়া হয়।

আর আজ আবরার ফাহাদ হত্যায় একাধিক ছাত্রলীগ নেতার নাম উঠে এসেছে। ছাত্রলীগ নেতারা গণমাধ্যমের কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে আছেন বুয়েট ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, উপ দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা এবং সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু।

আবরার ফাহাদ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রোববার সন্ধ্যার পরে তাকে রুম থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছে তার সহপাঠীরা। এরপরে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয়তলা থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

আবরার ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন, ১০১১ নম্বর রুমে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া।

আবরার হত্যাকাণ্ডে হলের সিসিটিভি ফুটেজসহ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বুয়েটের ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদকসহ দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

Bellow Post-Green View