চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

লকডাউনের ঈদেও এত মৃত্যু!

করোনাভাইরাস মহামারি প্রতিরোধে চলমান লকডাউনের মধ্যেই উদযাপন হয়েছে এবারের ঈদ। সেজন্য ঈদুল ফিতরে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ ছিল। এরমধ্যেও আশঙ্কার খবর হলো: বিধিনিষেধের ঈদযাত্রায়ও সড়কে ৩১৪ জনের প্রাণ গেছে।

চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা যায়: ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৪ দিনে অর্থাৎ ৭ মে থেকে ২০ মে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৩৯টি। নিহত ৩১৪ জন এবং আহত ২৯১ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৪৩, শিশু ২৮জন। এছাড়াও ১২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৩৪ জন, যা মোট নিহতের ৪২.৬৭ শতাংশ।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৫০.৬২ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৭৬ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ২৪.২০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৩৭ জন, অর্থাৎ ১১.৭৮ শতাংশ। এই সময়ে ৪টি নৌ দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হয়েছে। ১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত হয়েছে।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৪ জন (৪২.৬৭%), বাস যাত্রী ৪ জন (১.২৭%), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি যাত্রী ১৭ জন (৫.৪১%), মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার যাত্রী ২৯ জন (৯.২৩%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (সিএনজি-ইজিবাইক-অটোরিকশা-টেম্পু) ৩৩ জন (১০.৫০%), নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-চান্দের গাড়ি যাত্রী ১৬ জন (৫.০৯%), প্যাডেল রিকশা, বাইসাইকেল আরোহী ৫ জন (১.৫৯%) নিহত হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

লকডাউনে চলমান বিধিনিষেধের মধ্যেও এত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি শঙ্কার। এতে আমাদের সড়কের নিরাপত্তাহীনতা ও অসচেতনতার ভয়াল চিত্র উঠে এসেছে। ঈদে বিধিনিষেধের কারণে যানবাহন চলাচল তেমন না থাকায় ফাঁকা সড়কে বেপরোয়া চলাচলের কারণে এমনটা হতে পারে। এক্ষেত্রে সচেতনতা জরুরি।

আমরা মনে করি, দক্ষ চালক তৈরির যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে। এছাড়া চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে। এছাড়া পথচারীদের সচেতনতা বাড়ানোর কর্মসূচিও লক্ষ্যণীয় নয়।

মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ না করাও এ সমস্যা দূরীভূত না হওয়ার অন্যতম কারণ। এক্ষেত্রে স্বল্প গতির যানবাহনের জন্য আলাদা পার্শ্বরাস্তা (সার্ভিস লেন) তৈরি করা যেতে পারে। পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ এবং বিশেষ করে গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করলে দুর্ঘটনার হার অনেকটাই কমে আসবে। সড়কপথে দুর্ঘটনার হার যেহেতু অনেক বেশি সেজন্য রেল ও নৌপথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের উপর চাপ কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

সর্বোপির দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন