চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রয়-মরগানের ইনজুরি শঙ্কায় সহজ জয়ও নীরস

রুটের শতকে ৮ উইকেটে জয় ইংল্যান্ডের

কাজ আগেই সহজ করে দিয়েছিলেন বোলাররা। বাকিটা ব্যাটসম্যানরা যেন আরও ভালোভাবে করলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সহজ জয় তুলে নিল ইংল্যান্ড, বলতে গেলে ব্যাট হাতে প্রায় একা হাতেই দলকে জয়ের রাস্তা দেখালেন জো রুট। তবে ওপেনার জেসন রয় ও অধিনায়ক ইয়ন মরগানের ইনজুরি শঙ্কায় সেই সহজ জয়ও নীরস হয়ে গেছে ইংল্যান্ডের কাছে। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে উঠে গেছে স্বাগতিকরা।

জেতা শুধু নয়, যাকে বলে দুরমুশ করে জেতা! ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে দিয়ে আরও দুই পয়েন্ট ঘরে তুলল ইংল্যান্ড। মাত্র ২১২ রানে ক্যারিবীয়রা অলআউট করার পর হেলায়ফেলায় রানটা তুলে নিয় মরগানের দল। তাও মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে এবং প্রায় ১৭ ওভার বাকী থাকতে।

বিজ্ঞাপন

ফিল্ডিংয়ের সময় আহত জেসন রয়ের জায়গায় ওপেন করতে নেমে দুর্দান্ত অপরাজিত সেঞ্চুরিতে হোল্ডারের দলকে দাঁড়াতেই দিলেন না জো রুট। তাকে সাহায্য করেন ৪৫ রান করা জনি বেয়ারস্টো ও ক্রিস ওকস।

অনেকটা সহজ টার্গেট পেয়ে ওপেনিংয়ে ৯৫ রান তুলে আউট হন বেয়ারস্টো। ম্যাচের আট ওভারের সময় আহত জেসন রয় ফিল্ডিং তো করতেই পারেননি, ব্যাটও করতে পারেননি। ওয়ানডাউনে নিয়মিত রুট ওপেন করেন। কিন্তু বেয়ারস্টো আউট হওয়ার পর নামার কথা ছিল মরগানের। কিন্তু তিনিও ব্যাট করতে পারেননি। তার জায়গায় ব্যাট হাতে ৪০ রান করে অলরাউন্ডার ওকস।

দুই সঙ্গীকে হারালেও বেন স্টোকসকে (অপরাজিত ১০) সঙ্গে নিয়ে কাজটা শেষ করে আসেন রুট। ৯৩ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ৯৪ বলে ঠিক ১০০ রানেই অপরাজিত থাকেন রুট। ১১টি চার মারলেও কোনো ছক্কা মারেননি ইংলিশদের টেস্ট অধিনায়ক। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে হারা ম্যাচেও তিন অঙ্ক স্পর্শ করেছিলেন রুট।

স্বাগতিকদের আউট হওয়া দুটি উইকেটই তুলে নিয়ে ক্যারিবীয়দের সফল বোলার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।

বিজ্ঞাপন

এর আগে সাউদাম্পটনে ইংলিশ বোলারদের তান্ডবে অল্প রানেই আটকে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। মিডলঅর্ডারে কিছুটা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নিকোলাস পুরান ও শিমরন হেটমেয়ার জুটি। কিন্তু দলের বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ২১২ রানের বেশি এগোতে পারেনি তারা। ৪৪.৪ ওভারেই শেষ হয় গেইল-রাসেল নিয়ে গড়া ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইনআপ।

টস জিতে এদিন প্রথমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। অধিনায়কের আস্থাকে মর্যাদা দিয়ে শুরু থেকেই বিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন ক্রিস ওকস, জফরা আর্চাররা। তৃতীয় ওভারে এভিন লুইসকে মাত্র ২ রানে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কাটা দেন ওকস। এরপর কিছুটা বিধ্বংসী হওয়ার চেষ্টা করেন গেইল। তবে ১৫ রানের মাথায় জীবন ফিরে পেলেও তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে ব্যর্থ ইউনিভার্স বস। দলীয় ৫৪ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৩৬ রানে লিয়াম প্লাঙ্কেটের শিকার হন তিনি।

এরপর শাই হোপ দ্রুত (১১) ফিরলে ক্যারিবীয় ইনিংসের হাল ধরেন নিকোলাস পুরান ও শিমরন হেটমেয়ার জুটি। চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটসম্যানের ৮৯ রানের পার্টনারশিপে কিছুটা পাল্টা দেয়ার চেষ্টা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু ৩৯ রানে হেটমেয়ার ফিরতেই ধস নামে উইন্ডিজ ব্যাটিং লাইনআপে। নিকোলাস পুরান অর্ধশতরান পূর্ণ করলেও বড় রানের পার্টনারশিপ গড়তে ব্যর্থ হন। পুরান ফেরেন ৬৯ রানে। রাসেল করেন ২১ রান, ব্রাথওয়েট ১৪ রানে ফেরেন।

খাতা খোলার আগে সাজঘরে ফেরেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ দুই ব্যাটসম্যান কর্টরেল ও গ্যাব্রিয়েল। মিডল অর্ডার কিছুটা হাল ধরলেও লেজের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ৪৪.৪ ওভারে মাত্র ২১২ রানেই শেষ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস।

৬.৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন মার্ক উড। ৩০ রান দিয়ে ৩ উইকেট ঝুলিতে ভরেন আর্চার। রুট পান ২টি উইকেট। ওকস এবং প্লাঙ্কেটের ঝুলিতে একটি করে উইকেট।

১৯ ম্যাচ শেষে সাত পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে নিউজিল্যান্ড। চার ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছে কিউরা। ভারতের বিপক্ষে পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচ থেকেও এক পয়েন্ট তারা। চার ম্যাচের তিনটিতে জয় ও এক হারে দ্বিতীয়স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ছয়। সমানসংখ্যক ম্যাচে সমানসংখ্যক জয়-পরাজয়ে ছয় পয়েন্ট অস্ট্রেলিয়ারও। কিন্তু রানরেটের হিসেবে পিছিয়ে অজিরা।

Bellow Post-Green View