চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি কৃষি ঋণ আদায়ের উপায় কী?

ব্যাংকিং খাতে বড় ঋণের পাশাপাশি কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণেও খেলাপি বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ কৃষি ও পল্লী ঋণ বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, এ খাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় মোট ঋণের প্রায় ৯৫ শতাংশ।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি ঋণ বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের জোর তৎপরতার কারণে এ খাতে স্বাভাবিকভাবেই ঋণ বিতরণ বাড়ছে। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন, বন্যা, নদী ভাঙনসহ নানা কারণে ঋণ সঠিক সময়ে আদায় হচ্ছে না। ফলে ঋণ খেলাপি বাড়ছে। তবে কৃষি ঋণে যেহেতু কোনো ধরণের জামানত নেয়া হয় না, তাই গ্রাহকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ ধরণের ঋণের অর্থ আদায় করা সম্ভব।

অগ্রণী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ আলী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: বহু আগে থেকেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য কৃষি ঋণ বিতরণ ব্যবস্থা চালু করা হয়। এই ধরণের ঋণে কোনো জামানত নেয়া হয় না। কৃষকদের সাথে ব্যাংকের সম্পর্কের ভিত্তিতেই ঋণ দেয়া হয়।

কৃষিতে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কম উল্লেখ করে তিনি বলেন: এই ঋণ আদায়ে কৃষকদের সাথে সম্পর্ক রাখতে হয়, তাদের দ্বারে দ্বারে যেতে হয়। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মাঝে প্রকাশ্যে কৃষি ঋণ বিতরণ ও কৃষি মেলার মাধ্যমে একদিকে যেমন ঋণ বিতরণ করা যায়, তেমনি ঋণ আদায়ও করা যায়।

‘কিন্তু ভাবনার বিষয় হলো, এসব কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর শাখায় পর্যাপ্ত সংখ্যক জনবল নেই। ফলে ঋণ আদায় হয় না। এ কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।’

তবে কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এই ঋণ আদায় সম্ভব বলে মনে করেন অগ্রণী ব্যাংকের এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা।

অগ্রণী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ আলী

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ২১ হাজার ৮শ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে প্রথম ৩ মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিতরণ হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭৪২ কোটি টাকা কম। গত অর্থবছর এ সময় ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছিল ৪ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুয়াযী, চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর শেষে কৃষি খাতে মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হওয়া ৫ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা মোট ঋণের ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আলোচ্য সময় পর্যন্ত সরকারি ব্যাংকগুলোর ২৯ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে খেলাপি রয়েছে ৫ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৯৫ শতাংশ; যা ব্যাংকগুলোর কৃষি ঋণ স্থিতির ১৮ দশমিক ২৩ শতাংশ।

তবে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ তুলনামূলক অনেক কম। মোট ৯ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকার কৃষি ঋণের বিপরীতে খেলাপি হয়েছে মাত্র ২৪৫ কোটি টাকা।

কৃষি ঋণের খেলাপি ঋণের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ২ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকে ১ হাজার ৫৭৭ কোটি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ৮৯৩ কোটি, জনতা ব্যাংকে ৪৭৭ কোটি এবং অগ্রণী ব্যাংকের ২১২ কোটি টাকার ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণের শীর্ষে রয়েছে উত্তরা ব্যাংক। এ ব্যাংকের ৩০ কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে। এ ছাড়া এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ১২ কোটি, ন্যাশনালের ৬ কোটি ৯৪ লাখ, ঢাকা ব্যাংকের ৬ কোটি ৮৫ লাখ, এবি ব্যাংকের ৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এখন খেলাপি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের ২ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণ পল্লী অঞ্চলে বিতরণ করতে হবে। পল্লী অঞ্চলে অর্থ সরবারহের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা ও খাদ্য নিরাপত্তা সৃষ্টিতে সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা জারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৯ সাল থেকে এই ঋণ বিতরণের কার্যক্রম চালু করে।

শেয়ার করুন: