চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীই উহানে করোনা ছড়িয়েছে: চীন

করোনা নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাকযুদ্ধ

চীনের উহানে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এ ভাইরাস ছড়িয়েছে, এমন দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি চীন।

শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান এক টুইটে এ দাবি করেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা করোনা ভাইরাসকে ‘উহান ভাইরাস’ ও ‘চাইনিজ ভাইরাস’ হিসেবে উল্লেখ করে পরিস্থিতি মোকাবেলায় চীনের সমালোচনা করেন।

কানাডাভিত্তিক এক ওয়েবসাইটের বরাতে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর সেখান থেকে গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরে করোনা ভাইরাস প্রথম ছড়িয়েছে। ধারণা করা হয়, স্থানীয় সি-ফুড মার্কেট থেকে এ ভাইরাসটি ছড়িয়েছে।

টুইটে ঝাও লিজিয়ান বলেন: ‘যুক্তরাষ্ট্রে কখন প্রথম রোগী শনাক্ত হলো? ক’জন আক্রান্ত হয়েছে? হাসপাতালগুলোর নাম কী? হতে পারে, মার্কিন সামরিক বাহিনীই এ মহামারী উহানে এনেছে। স্বচ্ছ হন! নিজেদের তথ্য প্রকাশ করুন। যুক্তরাষ্ট্রকে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে হবে!’

টুইটারে ঝাও লিজিয়ানের প্রায় ২ লাখ ৮৭ হাজার ফলোয়ার থাকলেও ওই বার্তা পৌছে যায় প্রায় ৪৭ লাখ মানুষের কাছে। শুক্রবার মার্কিন বাহিনীকে দায়ী করে দেয়া তার ওই টুইট মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ঝাও লিজিয়ানের ওই মন্তব্যর পর বেইজিংয়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি বলে জানিয়েছে চীনের সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’।

বিজ্ঞাপন

এর আগে উহানে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের তথ্য নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে যথেষ্ট স্বচ্ছ না হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এ অভিযোগে বিরক্ত হয়েছে চীন।

যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে করোনা ভাইরাস কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিতে উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করেছেন অনেকে।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কয়েকদিন আগে জানানো হয়, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের গতি কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাকে ‘বিদেশি ভাইরাস’ বলে অভিহিত করেন। মার্কিন সেক্রেটারি পোম্পেও এবং রিপাবলিকান নেতারা করোনাকে ‘উহান ভাইরাস’ এবং ‘চাইনিজ ভাইরাস’ বলে অভিহিত করেন।

গত সপ্তাহে ঝাও লিজিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন: করোনার উৎপত্তি নিয়ে এখনও কোনো সমাধান হয়নি। তবে এর সাথে চীনের সাথে নাম জড়ানোর উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে।

এরপর গত বুধবার মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন: করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর চীন যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তাতে বিশ্বের দু’মাস নষ্ট হলো। ওই দু’মাসে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া রোধে প্রস্তুতি নেওয়া যেত।

এর জবাবে বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক মুখপাত্র গেং শুয়াং করোনা ভাইরাস বিশ্ব মহামারী হওয়ায় বেইজিংকে দোষারোপ করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে বলেন: তাদের বক্তব্য অনৈতিক ও দায়িত্বহীন। আমরা আশা করি, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা চীনকে দোষারোপ করার পেছনে তাদের শক্তি ব্যয় না করে ভাইরাস মোকাবেলা ও সহযোগিতায় মনোযোগ দেবে।

করোনা ভাইরাস এখন পর্যন্ত ১৩০টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন প্রায় ৪ হাজার ৯শ’ জন।

বিজ্ঞাপন