চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যার যার সংকট তাকেই দেখতে হবে: চঞ্চল চৌধুরী

শিল্পীদের পেশাদারিত্বের সংকট নিয়ে কথা বললেন চঞ্চল চৌধুরী

দেশে টিভি নাটকের ঐতিহ্য এখন কি সোনালী অতীত?

‘আমি যদি একটা কোয়ালিটিফুল কাজ না দিতে পারি, তাহলে আমি আমার জায়গায় দাঁড়াতে পারবো না। আমার বর্তমান অবস্থানের জায়গা থেকে হয়তো অনেকে ভাবতে পারেন এসব কথা বলা খুব সহজ। অনেকের মতো সংকটে হয়তো আমি নেই, কিন্তু মূল কথাতো সেটা না। যার যার সংকট তাকেই দেখতে হবে একত্রিত হয়ে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে নিজেদের কাজটি করতে হবে। ফাঁক ফোকরের ভেতর দিয়ে অন্যভাবে হাত মিলিয়ে যার যার সুবিধা আদায় করলাম, তাহলে আমাদের অভিনয় শিল্পী সংঘ বাঁচবে না এবং আমাদের শিল্পীও বাঁচবে না। একত্র হতে পারলেই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।’

দেশে টিভি নাটকের ঐতিহ্য এখন কি সোনালী অতীত?-এমন জিজ্ঞাসাকে সামনে রেখে ‘অভিনয় শিল্পী সংঘ’ আয়োজন করে ‘পেশাদারিত্বের সংকটে দেশের টেলিভিশন নাটক ও অভিনয় শিল্প’ নামের একটি মুক্ত আলোচনা। যেখানে নিজের আলোচনায় পেশাদারিত্ব নিয়ে এভাবেই সকলকে একত্রিত হয়ে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে কাজের আহ্বান জানান ‘দেবী’ খ্যাত তারকা অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে দেশের টিভি নাটকের পটভূমিত ছোট হয়ে আসছে, গল্পের চরিত্র কমে যাচ্ছে। শত শত অভিনয় শিল্পী কর্মহীন হয়ে পড়ছে এবং দর্শক প্রিয়তা হারাচ্ছে আমাদের টিভি নাটক। এর উত্তরণের উপায় খুঁজতে শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এক সেমিনারের। যেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিনয় শিল্প সংঘের সভাপতি ও অভিনেতা শহীদুল আলম সাচ্চু, সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব নাসিম, হিল্লোল,আজাদ আবুল কালাম, চয়নিকা চৌধুরী, সুইটি, চিত্রলেখা গুহ, মোহন খান, তানিয়া আহমেদ, সুমন আনোয়ারউর্মিলা শ্রাবন্তী কর, জাকিয়া বারী মম, শামিমা তুষ্টি, রওনক হাসান,আহমেদ রুবেল, মাজনুন মিজান, বৃন্দাবন দাস, এস এ হক অলিক, সনি রহমান, কে এস ফিরোজ, মৌটুসি বিশ্বাস, লুতফুর রহমান জর্জ, এজাজ মুন্না, মোস্তফা মনন, সাজিন হাসান বাবু সহ অনেক নাট্যকার, নির্মাতা, শিল্পী।

প্রবীন অভিনেতা ও নাট্য নির্মাতাদের মধ্যে ছিলেন মামুনুর রশিদ,ড. এনামুল হক, আবুল হায়াত,দিলারা জামান, মাসুম আজিজ, আফরোজা বানুসহ অনেকে।

কীভাবে নাটকের পেশাদারিত্ব সংকট দূর করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনার আয়োজন করে অভিনয় শিল্পী সংঘ। এর সাথে নাট্যকার সংঘ, ডিরেক্টর গিল্ড, প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন একাত্মতা প্রকাশ করে তারাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দশটি বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

১. টেলিভিশন ও টেলিভিশন নাটকে শিল্প ঘোষণা করা ২. সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাব ৩. নাটকের মান নিয়ন্ত্রণে অধিকাংশ টেলিভিশন চ্যানেলের ব্যর্থতা কিংবা উদাসিনতা ৪. নাটকে কতিপয় মধ্যস্বত্ব ভোগীদের হস্তক্ষেপ ৫. নাটকের মূল্য কমে যাওয়া ৬. চরিত্রাভিনেতাদের হারিয়ে যাওয়া ৭. বিজ্ঞাপন বাজিন্য এবং তথাকথিত টিআরপি ৮.ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়া (২০১৭ সালের জুলাইয়ে চুক্তি হয়েছিল) ৯. নাট্য নির্মাণে বহুমুখী নিম্ন প্রতি্যোগিতা ১০. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব

মুক্ত আলোচনায় পেশাদারিত্ব সংকট নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। তিনি মনে করেন, পেশাদারিত্ব মনোভাব ঠিকঠাক ভাবে তৈরি করতে হবে নিজেদের গুণগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই।

আয়নাবাজি খ্যাত এই অভিনেতার মতে, আজকে আমি এখানে পেশাদারিত্বের সংকটের জায়গাগুলো নিয়ে কথা বলতে চাই। পেশাদারিত্ব বলতে সহজ কথায় আমি যা বুঝি সেটা হলো, যে কাজটি করে আমি বাঁচতে চাই। কাজটি করে বাঁচার জন্য অভিনয় শিল্পী সংঘে যে নয়শো জন শিল্পী আছেন, প্রতেক্যের যার যার দায়িত্ব কিন্তু তাকেই নিতে হবে। আমাদের এখানে নানা ধরনের সংকটতো আছেই, কিন্তু সেই সাথে সাথে নিজের কাজের গ্রহণযোগ্যতাটা বাড়ানো খুব জরুরী। আমরা দাবী করতেই পারি যে পেশাদারিত্বের জায়গায় যেতে চাই, কিন্তু তার আগে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে আমরা যে কাজটি করছি সেটা আসলে পেশাদারিত্বের মতো যাওয়ার কাজ কিনা!

সংকট সমাধানে সংঘ যা সিদ্ধান্ত নিবে সেভাবেই কাজ করার আহ্বান জানিয়ে চঞ্চল আরো বলেন, সংকট সমাধানে দেশের চ্যানেলগুলোর সাথে কথা বলা যেতে পারে, বিভিন্ন সংগঠন আছে তাদের সাথে কথা বলে একটা সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে। সংগঠন যে সিদ্ধান্ত নিবে সেভাবেই আমরা চলতে রাজি আছি। সংগঠন যদি মনে করে যে দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাজ করবো না, একটি মানুষও আমরা কাজ করবো না। প্রমাণ করবো যে শিল্পী সংঘে আমরা যারা আছি তারাও আসলে মানুষ।

নাটকের সঙ্গে জড়িত সবাইকে নিজের শিরদাঁড়া টান করে একত্রিত হয়ে কাজ করারও আহ্বান জানান এই অভিনেতা।

ছবি: নাহিয়ান ইমন

Bellow Post-Green View