চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জানা আছে মোবাইল ব্যাংকিং এর এখনকার অবস্থা?

হঠাৎ করে এক মাসের ব্যবধানে কমে গেছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন। কমে যাওয়া লেনদেনের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা।

চলতি বছরের জুন মাসে দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৩১ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা মে মাসের চেয়ে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ কম। মে মাসে লেনদেন হয়েছিল ৪২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে মানুষ টাকা লেনদেন করে। তাই ঈদের আগে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেন বেশি হয়। ফলে মে মাসে লেনদেন বেশি হয়েছিল। পরের মাস জুনে লেনদেন কিছুটা কমেছে। সামনে কোরবানির ঈদ। এ সময় আবারও লেনদেন বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুন মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন কমলেও গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, টানা ৩ মাস একবারও লেনদেন না করলে তাদের হিসাবকে নিষ্ক্রিয় হিসাব বলে গণ্য করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই হিসাবে জুন শেষে সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ ৫৮ হাজার।

বিজ্ঞাপন

তথ্য অনুযায়ী, এমএফএসে গত জুনে প্রতিদিন গড়ে ৬৬ লাখ ৫১ হাজার লেনদেন হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে আদান-প্রদান হয়েছে ১ হাজার ৫৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। জুনে মোট লেনদেন হয়েছে ৩১ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা; যা আগের মাসের চেয়ে ১০ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা বা ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ কম। গত মে মাসে লেনদেন হয়েছিল ৪২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৪ হাজার ১৯৫।

শুধু লেনদেন নয়, বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন সেবা। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স পাঠানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দেয়া হচ্ছে। জুনে সব ধরনের সেবায় লেনদেন কমলেও রেমিট্যান্স পাঠানো কমেনি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, আলোচ্য মাসে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে টাকা জমা পড়েছে ১১ হাজার ৭২ কোটি টাকা, যা আগের মাসের চেয়ে ৩২ শতাংশ কম। উত্তোলন করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা; যা মে মাসের তুলনায় সাড়ে ২৪ শতাংশ কম। এমএফএসে রেমিট্যান্স এসেছে ২৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ৭ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ প্রায় ৫৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩৭ কোটি টাকায়,। আগের মাসে যা ছিল ১ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৪৪৫ কোটি টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৩৮৬ কোটি টাকা। সরকারি পরিশোধ ১৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৫৮৪ কোটি টাকা।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়। এর পরপরই ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমএফএস লেনদেনের সর্বশেষ ১৯ মে’র নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক তার অ্যাকাউন্টে দিনে ৫ বারে ৩০ হাজার টাকা ক্যাশ-ইন বা জমা করতে পারবেন। মাসে ২৫ বারে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ক্যাশ-ইন করা যায়। আগে প্রতিদিন ২ বারে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা জমা করতে পারতেন একজন গ্রাহক। মাসে ২০ বারে ১ লাখ টাকা ক্যাশ-ইন করা যেত।

চলতি বছরের জুন শেষে এমএফএসে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ২০ লাখ ৫৪ হাজারে. যা মে মাসে ছিল ৭ কোটি ৪ লাখ ৫৬ হাজার। অর্থাৎ এক মাসে গ্রাহক বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

Bellow Post-Green View