নর্থ কোরিয়াকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে সাউথ কোরিয়া। আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় তিন দেশের অংশগ্রহণে ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।
আজ ২৮ আগস্ট শুক্রবার সাউথ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এই মহড়া চলবে। নর্থ কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি মোকাবেলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই প্রতিবছর এই প্রতিরক্ষামূলক মহড়ার আয়োজন করা হয়।
মহড়ায় সমুদ্রপথে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, আকাশ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সাবমেরিনবিরোধী অভিযান এবং সাইবার প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের মতো বিভিন্ন অনুশীলন থাকতে পারে। ২০২৩ সালে ক্যাম্প ডেভিড সম্মেলনে তিন দেশের নেতাদের মধ্যে সমঝোতার পর ২০২৪ সালের জুনে প্রথমবারের মতো ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
সাউথ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ক্লোয়ি মরগান বলেছেন, এই ধরনের বহুমাত্রিক মহড়া তিন দেশের অভিন্ন মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করবে এবং পারস্পরিক সমন্বয় ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে।
তবে এই ঘোষণার সময়ই যুক্তরাষ্ট্র ও সাউথ কোরিয়ার নিয়মিত সামরিক মহড়ার পরিধি কমানো হয়েছে। চলতি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার সময় ১১ দিন থেকে কমিয়ে পাঁচ দিন করার নির্দেশ দেন। ওয়াশিংটন নর্থ কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও পিয়ংইয়ং এখনও তাতে সাড়া দেয়নি। বরং নর্থ কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পাশাপাশি কমানো সামরিক মহড়ারও সমালোচনা করেছে।
এদিকে সাউথ কোরিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত আরেকটি যৌথ সামরিক মহড়া ‘সাংইয়ং’ বাতিল করেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে মার্কিন সেনাদের মোতায়েন সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।







