চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারত থেকে বিশ্বকাপ সরিয়ে নেয়ার হুমকি আইসিসির

পুরনো বিরোধ যেন নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দুইমাস ধরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ‘নোংরা’ ই-মেইল যুদ্ধের পর ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি ঘোষণা দিয়েছে, ভারতীয় সরকারের থেকে কর রেয়াত না করতে পারলে ২০২১ বিশ্বকাপ সরিয়ে নেয়া হবে!

বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আইসিসির এ দ্বন্দ্ব বেশ পুরনোই। ২০১৬ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে ভারতের থেকে ২৩ মিলিয়ন ডলার ট্যাক্স পাওয়ার কথা ছিল সংস্থাটির। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে কর মওকুফ করানো যায়নি, এই যুক্তিতে সেই পাওনা পরিশোধ করেনি বিসিসিআই।

বিজ্ঞাপন

সেই ঘটনার জের ধরে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইসিসি বিসিসিআইকে হুঁশিয়ারিতে জানিয়ে দেয়, যদি সরকারের থেকে কর মওকুফ করতে ব্যর্থ হয় ভারতীয় বোর্ড তবে ২০২১ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপ সরিয়ে নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প খোলা থাকবে না!

বিজ্ঞাপন

২০১৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে ২০-৩০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে দাবি করে আইসিসির ভবিষ্যৎবাণী, একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজন করে ১০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি গুণতে হতে পারে তাদের।

বিজ্ঞাপন

প্রায় দুমাস ধরে ই-মেইল চালাচালির পর বিসিসিআইকে কর মওকুফের ব্যাপারে ‘শর্তহীন নিশ্চয়তা’ চেয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য ১৮মে পর্যন্ত সময় বেধে দেয় আইসিসি। ২৯ এপ্রিল এবিষয়ে এক মেইলে আইসিসির উপদেষ্টা জোনাথন হল লিখেছেন, ‘আমরা বিসিসিআইয়ের সঙ্গে ২০.১ ধারায় আয়োজক চুক্তি করতে চাচ্ছি। কিন্তু আইসিসির ব্যবসায়িক কমিটি (আইবিসি) সেটি ভাঙতে চাইছে। কারণ, বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আলোচনা মতে ১৮মের আগে পূর্বের বকেয়া ট্যাক্স সমাধান হওয়ার কথা ছিল। সেটি এখনও সমাধান হয়নি।’

জবাবে করোনাভাইরাসের কারণে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বর্ধিত করার আবেদন করে বিসিসিআই। যে আবেদন আগেই নাকচ করে জোনাথন হল মনে করিয়ে দিয়েছেন, সমস্যা সমাধানে ১৮ মাস পর্যন্ত সময় পেয়েছিল বিসিসিআই। এরমধ্যে সমাধান করতে না পারায় আর কোনো সময় দেয়া হবে না তাদের।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির হুঁশিয়ারির পর ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছিল বিসিসিআই। সেই সময়ে সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হওয়ার পর সময় ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হলেও ২৪ মার্চ থেকে ভারতে লকডাউন শুরু হয়ে যায়, যা চলবে অন্তত ৩১মে পর্যন্ত।

‘বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সব চেষ্টাই করা হয়েছে, কিন্তু বর্তমান অবস্থায় পরিস্থিতি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আইবিসিকে জানানো হয়েছে, অন্তত ৩০ জুন অথবা লকডাউন উঠে যাওয়ার পর ৩০ দিন পর্যন্ত যেন সময় বর্ধিত করা হয়।’ ভারতীয় বোর্ডের এখনকার চাওয়া এমন।