চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ব্যথা সারাতে সাইফউদ্দিনকে ইংল্যান্ড পাঠাবে বিসিবি

বাংলাদেশ দলে চোটের মিছিল বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই। এখনও চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন অনেকে। কার চোট কত বড়, সে প্রশ্নে দলের অন্যদের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকবেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেই চোট বয়ে বেড়ানো এই পেস অলরাউন্ডারের কোমরের ব্যথা সারাতে যেতে হচ্ছে ইংল্যান্ড। অস্ত্রোপচার করাতে হবে না, এই খবরটাই এখন তরুণ এ ক্রিকেটারের জন্য একমাত্র সাত্ত্বনার।

শনিবার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম কার্যালয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কয়েকজন পরিচালক সাইফউদ্দিনকে ডেকে নিয়ে সামনাসামনি কথা বলেছেন। জেনেছেন কোমরের অবস্থা সম্পর্কে। উন্নত চিকিৎসার জন্য সাইফউদ্দিনকে ইংল্যান্ড পাঠানোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন তারা। আবার বিলেতে যেতে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন জাতীয় দলের নবীন এই ক্রিকেটারকে।

বিজ্ঞাপন

বিসিবি চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরি আশ্বস্ত করেছেন ইংল্যান্ড পাঠানো হলেও অস্ত্রোপচার দরকার হবে না  সাইফউদ্দিনের। কীভাবে চিকিৎসা হতে পারে সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারবেন রোববার।

‘আমি ঢাকার বাইরে আছি। তবে খবর পেয়েছি। রোববার অফিসে (বিসিবি) গিয়ে কথা বললে বুঝতে পারব। এখন পুরোপুরি নিশ্চিত নই কোথায়, কীভাবে পাঠানো হবে। তবে একটা পরিকল্পনা ছিল সাইফউদ্দিনকে ইংল্যান্ডে পাঠানোর। আজ মনে হয় আলোচনায় হয়েছে বোর্ড পরিচালকের মধ্যে। সার্জারি লাগবে না, এটা নিশ্চিত। ইংল্যান্ডে চিকিৎসা কীভাবে হতে পারে সেটি নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না। অনেক পন্থাই অবলম্বন করা যেতে পারে…। যেহেতু অস্ত্রোপচার লাগবে না, সুস্থ হতে দীর্ঘসময় লাগার কথা নয়।’

আট বছর আগের চোটই ভোগাচ্ছে

বিশ্বকাপ চলাকালীন সাইফউদ্দিনের চোট নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল তা পরিষ্কার হয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ থেকে এই ক্রিকেটার ছিটকে যাওয়ার ঘটনায়। চোট বলতে পুরণো ব্যথাটাই। যার শুরুটা আট-নয় বছর আগে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে খেলার সময়। সাইফউদ্দিন বলেন, ‘কোমরের নির্দিষ্ট একটা জায়গায় ব্যথা হয়। এই ব্যথাটা আট-নয় বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছি। যখন অনূর্ধ্ব-১৫ তে খেলি তখন থেকেই। ডক্টর বলেছে ফ্যাসেল জয়েন্টের পেইন এটা। ভাল হয় আবার যখন বেশি খেলা হয়ে যায় চাপ পড়ে, পেইনটা ফিরে আসে।’

বিশ্বকাপে ইনজেকশন, পেইন কিলারই ছিল ভরসা  

বিজ্ঞাপন

আয়ারল্যান্ড ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে গিয়ে হঠাৎ কোমরে ফিরে আসে পুরণো ব্যথা। বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে জাগে অনিশ্চয়তা। সিরিজ শুরুর আগেই ব্যথা প্রশমনে দেয়া হয় ইনজেকশন। লন্ডনে এসে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে আরও একটি ইনজেকশন পুশ করা হয় শরীরে। তারপর খেলেন টানা চার ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ফিরে আসা ব্যথা। যে কারণে খেলতে পারেননি পরদিন। সতীর্থদের কেউ কেউ অবশ্য ধারণা করে নেন, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া বলেই ভয়ে খেলতে চাচ্ছেন না সাইফউদ্দিন!

‘আমি যখন আয়ারল্যান্ড সিরিজে খেলি তখনই চোট পাই। বোলিং করতে গিয়ে লাগেনি হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে অনুভব করছিলাম এবং সেটি প্রথম ম্যাচের আগেই। ব্যথাটা হঠাৎ আসছিল এমন না যে বোলিংয়ের সময় বা প্র্যাকটিসের সময়, ঘুম থেকে সকালে উঠে বুঝতে পারি সমস্যা হচ্ছে। তখন থেকে বোলিং করতে গেলে দেখি ব্যথাটা আসছে।’

অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে যে অবস্থায় ছিলেন সাইফউদ্দিন

‘ওই ম্যাচের আগে ব্যথাটা খুব বেশি ছিল। কে চাইবে না বিশ্বকাপের মতো জায়গায় ম্যাচ খেলতে? আর আমরা তো বোলার পাশাপাশি জুনিয়র খেলোয়াড়, চাইব তো অবশ্যই ম্যাচ খেলে নিজেদেরকে প্রমাণ করতে। নেগেটিভ যে ব্যাপারটা হয়েছিল আমাকে নিয়ে তা নিয়ে কিছু বলার নেই। যেহেতু দু’বার ইনজেকশন নিয়ে খেলেছিলাম। বিশ্বকাপেও একবার নিয়েছিলাম। আয়ারল্যান্ড সিরিজ শেষ করে লন্ডনে এসে নিয়েছিলাম। কয়েকটা ম্যাচ খেলেছিলাম ব্যথাহীন থেকে। এরপর আবার আস্তে আস্তে ব্যথা অনুভব করি তারপর পেইন কিলার খেয়ে খেলেছিলাম কয়েকটা ম্যাচ।’

প্রিমিয়ার লিগ থেকেই দুর্দশা

বিশ্বকাপ ঝুঁকিতে রেখে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে টানা ম্যাচ খেলতে হয়েছে সাইফউদ্দিনকে। তখনকার চোটটা ছিল টেনিস এলবো। কিছুটা সুস্থ থাকার দাওয়াই ছিল ইনজেকশন। বাংলাদেশ দলের কোচ, ফিজিওর তরফ থেকে ছিল সেরকমই নির্দেশনা। সেটি মেনে চলা যায়নি আবাহনীর টানা ম্যাচ থাকায়। আর বল হাতে দলের সেরা পারফর্মার যেহেতু সাইফউদ্দিনই। ইনজেকশন দিলে পরের তিন সপ্তাহ খেলানো যাবে না। তাই আকাশী-নীল শিবির বিশ্রামের সুযোগটা করে দেয়নি সাইফউদ্দিনকে। টানা খেলার ধকলে শেষমেষ ফিরে আসে পুরণো কোমরের চোট।

মিরপুরে আবাহনীর অনুশীলনে ব্যাটিং করতে গিয়ে কোমরে চোট পেয়ে একাডেমি ভবনে ফেরেন হুইলচেয়ারে করে। ক’দিন পর চোট কাটিয়ে ফিরে করেন বারুদে বোলিং। আড়ালে চলে যায় চোটের খবরাখবর। সাইফউদ্দিনের ক্ষেত্রে ‘ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট’ সঠিকভাবে পালন করা হয়েছে কিনা; সে প্রশ্ন জাগতে পারে এখন। এই ক্রিকেটার অবশ্য কারও দায় দেখছেন না। কীভাবে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া যায় তাকিয়ে সেদিকেই। ২২ বছর বয়সী টাইগার পেস-অলরাউন্ডারকে বিলেতে যেতে হতে পারে কোরবানির ঈদের আগেই। দেশের বাইরে ঈদ করতে হবে সেটি মনকে মানিয়েই অপেক্ষায় এখন সাইফউদ্দিন।  এমন সময়ে চোটে পড়েছেন তাতে দ্রুত চিকিৎসার তাড়ণা থাকা স্বাভাবিকও। সামনেই বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফট!

Bellow Post-Green View