চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘বাংলাদেশে ভালো চলচ্চিত্রের পৃষ্ঠপোষক নেই’

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা চলচ্চিত্র এবং সেরা পরিচালকসহ ১৭ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে নেয় ইমপ্রেসের চলচ্চিত্র ‘মৃত্তিকা মায়া’। আর এবার সার্ক চলচ্চিত্র উৎসবে দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে রৌপ্য পদক জয়।

সোমবার চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন গুণী এই পরিচালক। তিনি জানালেন তার প্রথম চলচ্চিত্রের এমন সাফল্য নিয়ে আনন্দের অনুভূতি আর বাংলা চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক হাল নিয়ে কিছু হতাশার কথা।

‘মৃত্তিকা মায়া’ তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র। যদিও এর আগে কিছু টেলিভিশন নাটক এবং একটি শর্টফিল্ম তৈরি করেছেন গাজী রাকায়েত। তবে প্রথম চলচ্চিত্রের এমন সাফল্যে খুবই গর্বিত তিনি।

দর্শকদের ভালোবাসা, বিচারকদের বিশ্লেষণে তার চলচ্চিত্রের এতো প্রশংসা তাকে ভবিষ্যতে আরো ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রেরণা দিচ্ছে। এমনকি সার্ক চলচ্চিত্র উৎসবে এক বিচারক তার চলচ্চিত্রকে ‘ইটস দ্যা বেস্ট ফিল্ম’ বলে যে স্বীকিৃতি দিয়েছেন তাকে পাথেয় মনে করছেন তিনি।

জীবন ঘনিষ্ঠ ‘মৃত্তিকা মায়া’র কাহিনী তার নিজেরই লেখা। এমন লেখার প্রেরণা কিভাবে পেলেন? জবাবে রাকায়েত বললেন, যখন লেখেন, তখন দেশের মাটি এবং মানুষের কথাই তার মনকে আস্তরিত করে রাখে। দেশের মাটিকে ভালোবাসেন এবং জীবনের এই অনুভূতিগুলোকে শিল্পে রূপ দিতে তার ভালো লাগে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, প্রত্যেক চলচ্চিত্রকারের একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত। তা হলে কার চলচ্চিত্র তাকে প্রেরণা? উত্তরে বললেন, সত্যজিৎ রায়। তার ছবি দেখে মুগ্ধ হন।

কিন্তু নিজের চলচ্চিত্র তার নিজের মতো করেই বানাতে চান। সত্যজিতের :পথের পাঁচালি’ তার প্রিয় চলচ্চিত্র। আরো প্রিয় আকিরা কুরোশাওয়া’র ‘রেড বিয়ার্ড’।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র বানাতে চান কিন্তু আবার ভয়ও পান। কারণ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র বানালে বঙ্গবন্ধু’র বিষয় এমনিতেই এসে যাবে। ওই চলচ্চিত্র পাঁচ বছর চলবে এক সরকারের সময়, আবার আরেক সরকার আসলে তা ব্যান্ড করে দেবে।

গাজী রাকায়েত বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একটা বিপ্লব দরকার যেমনটা হয়েছে ইরানি চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ভালো চলচ্চিত্রের জন্য পৃষ্ঠপোষক নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা প্রথাবিরোধী চলচ্চিত্র বানাবেন কী করে? বাংলাদেশেতো এর কোনো পৃষ্ঠপোষকই নেই। আর দর্শকদের বরাবর যেভাবে সস্তা জিনিস দিয়ে মূর্খ করে রাখা হয়েছে, তাতে তারা তার সিনেমা দেখবেনই না।

রাকায়েত বলেন, অনেক কষ্ট লাগে যখন দেখেন জীবনঘনিষ্ঠ সিনেমায়ও দর্শক টানার জন্য সস্তা উপাদানের ব্যবহার করা হয়।

বিজ্ঞাপন