চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের একমাত্র ছবি খিজির হায়াতের ‘জাগো’

১২ জুলাই চ্যানেল আইয়ের পর্দায় আসছে ‘জাগো’

চলছে ফুটবলের ভর মওসুম। চারদিকে এখন শুধু ফুটবল নিয়েই আলোচনা। তর্ক, বিতর্ক। বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবল নিয়ে এই আলোচনা শেষ হবে আগামী ১৫ জুলাই। এদিন ফাইনাল খেলা দিয়েই আগামী চার বছরের জন্য ফুটবল প্রেমীদের এমন উন্মাদনার ইতি ঘটবে। ফুটবল নিয়ে এখন বেশ উত্তেজিত বাংলাদেশের মানুষও। ফুটবলের এই উত্তেজনা সময়ে চ্যানেল আইয়ের পর্দায় প্রথম বারের মতো আসছে ফুটবল নিয়ে প্রথম ও একমাত্র চলচ্চিত্র ‘জাগো’।

শুধু ফুটবল নিয়েই নয়, খিজির হায়াত খান পরিচালিত ‘জাগো’ বাংলাদেশের একমাত্র স্পোর্টস নির্ভর চলচ্চিত্র। শুধু খেলাকে প্রাধান্য দিয়ে এর আগে ও পরে এখন পর্যন্ত আর কোনো চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়নি। যেহেতু এখন ফুটবলের ভর মওসুম চলছে, সবার মনে ফুটবল জায়গা করে নিয়েছে তাই ছোট পর্দার দর্শকদের ‘জাগো’ সিনেমাটি দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চ্যানেল আই। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আগামী ১২ জুলাই দুপুর সাড়ে ৩টায় চ্যানেল আইয়ের পর্দায় দেখানো হবে তারকাবহুল চলচ্চিত্র ‘জাগো’।

বিজ্ঞাপন

হলিউড কিংবা পাশের দেশ ভারতেও স্পোর্টস নিয়ে অহরহ সিনেমা তৈরি হয়। ফুটবল নিয়েও কম চলচ্চিত্র হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে স্পোর্টস কেন্দ্রিক কোনো ছবিই এখনো তৈরি হয়নি। ফুটবল নিয়েতো আরো নেই! অথচ ২০১০ সালে ডিজিটাল ফরম্যাটে ফুটবল নিয়ে সাড়া জাগানো ছবি নির্মাণ করেছিলেন নির্মাতা খিজির হায়াত খান।

ফুটবলকে ঘিরেই ‘জাগো’র আবতর্ন। ফুটবল নিয়ে টান টান উত্তেজনাপূর্ণ ছবিতে মূল কোচের ভূমিকায় দেখা যায় দাপুটে অভিনেতা তারিক আনামকে। এছাড়া ছবিতে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস, বিন্দু, আরিফিন শুভ, রওনক হাসান এবং এফএস নাঈমসহ আরো বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ।

কোন ভাবনা থেকে ‘জাগো’ নির্মাণ করেছিলেন?-এমন প্রশ্নে চ্যানেল আই অনলাইনকে সোমবার দুপুরে খিজির হায়াত জানান, প্রতিটা মানুষ স্পোর্টসকে ভালোবাসে। ব্যক্তিগত ভাবে আমিও তাই। প্রথমে আমি চেয়েছিলাম স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল নিয়ে ছবিটি করবো। তাদের যে গৌরবপূর্ণ সময়টা তুলে ধরবো। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখলাম এটা নিয়ে কাজ করা খুব কঠিন। এমনিতেই স্পোর্টস নিয়ে ছবি করলে বিশাল অ্যারেঞ্জমেন্টের দরকার, তার উপর এমন স্ক্রিপ্টে সিনেমা করলে আমাদের পুরো টিমকে অবশ্যই ইন্ডিয়ায় শুটিং করতে হতো। সব দিক বিবেচনায় এবং আমাদের সাধ্যের কথা চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বর্তমান গল্পে ‘জাগো’ নির্মাণ করলাম। ২০০৯ সালে ছবির শুটিং শুরু করি। ২০১০ সালের ১৫ জানুয়ারি ছবিটি মুক্তি পায়।

ছবি মুক্তি নিয়েও রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়েছে জানিয়েছেন নির্মাতা। বলেন, আমি ডিজিটাল ফরম্যাটে ছবি করেছি সেই ২০১০ সালে। অথচ সেসময় এই ছবি দেখানোর জন্য আমাদের হলগুলো ফিট ছিলো না। প্রদর্শনীর উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় গুটি কয়েক প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি চালানো হয়েছিলো। রাজধানী শহরে এখন বেশ কিছু সিনেপ্লেক্স তৈরি হয়েছে, কিন্তু তখন শুধু বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্স ছিলো। আর এই সিনেপ্লেক্সে টানা তিনমাস ‘জাগো’ ছবিটি চালানো হয়। আমি বারবার বলি, আমরা যদি ঠিকঠাক অয়েতে ছবি দেখানোর সুযোগ পাই, দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারি তাহলে ভালো কন্টেন্ট নিয়মিতই তৈরি হবে। আর সিনেমা প্রদর্শনীর জন্য সিনেপ্লেক্সের কোনো বিকল্প নেই।

ভবিষ্যতে স্পোর্টস নিয়ে আরো কোনো সিনেমা করার ইচ্ছে আছে কিনা?-এমন প্রশ্নে খিজির হায়াত একটু ভেবে বলেন, আপাতত আমার কাছে স্পোর্টস নিয়ে স্ক্রিপ্ট নেই। ভাবছিও না। কারণ, স্পোর্টস নিয়ে সিনেমা করতে গেলে ব্যাপক অ্যারেঞ্জমেন্ট লাগে। বিরাট টিমের প্রয়োজন। বাজেটের প্রয়োজন। ধরুন, আমি যখন ‘জাগো’ নির্মাণ করি তখন শুটিংয়ের আগে এক মাসের একটা ফুটবল ক্যাম্প করেছিলাম। কিন্তু এখন এটা কি সম্ভব? আর্টিস্টরা কি শুটিংয়ের আগে আমাকে এতো দীর্ঘ সময় দিবেন? এখনতো সবার প্রচুর ব্যস্ততা। আর সময় যদি তারা দেনও তবু কি আমরা তাদের প্রাপ্য রিমুনারেশন দিতে পারবো? সব মিলিয়ে ইচ্ছে থাকলেও আপাতত স্পোর্টস নিয়ে সিনেমা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আশা রাখি, ভবিষ্যতে ভালো বাজেট পেলে আর সব মিলে গেলে স্পোর্টস নিয়ে সিনেমা করতেও পারি।

কথায় কথায় বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে কথা বললেন ‘জাগো’ নির্মাতা। ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ নামের ছবিটি নিয়ে এখন ব্যস্ত আছেন তিনি। ছবিটির শুটিং শেষ করেছেন আগেই। পোস্ট প্রোডাকশনও শেষের দিকে। আগামীতে সেন্সরে জমা দিবেন। আর সেন্সর ছাড়পত্র পেলেই ছবি মুক্তির ঘোষণা দিবেন তিনি।

ছবি: খিজির হায়াতের ফেসবুক থেকে সংগৃহিত

Bellow Post-Green View