চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পাকিস্তানের ভরাডুবিতে কে কী বলছেন?

দলকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ১০০% দিতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কিন্তু ম্যাচে চরমপতন। যাদের ঘিরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখা হচ্ছিল, তারাই এখন কাঠগড়ায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে লজ্জার হার হারতে হয়েছে পাকিস্তানকে। মাত্র ১০৫ রানে অলআউট হয়ে প্রশ্নের মুখে ব্যাটিং লাইনআপ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ক্রিকেট ভক্তরা। মুখ খুলেছেন সেদেশের সাবেকরাও।

একজন ভক্ত লিখেছেন, ‘আজকের ম্যাচের ঠিক ৩৮ দিন আগে ইংল্যান্ডে পা রেখেছিল পাকিস্তান। ৩৮ মিনিট আগে নয়।’

বিজ্ঞাপন

আরেক ক্রিকেটপ্রেমীর বক্তব্য, ‘পাকিস্তানের এমন ছোট্ট ইনিংস এবার জিআইএফ করে আপলোড করবে আইসিসি এবং স্টার স্পোর্টস।’

সরফরাজ আহমেদদের হারের পর পুরো পাকিস্তান উত্তাল। ওটেস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ১০৫ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে টিমের। পেস বোলিংয়ের বিরুদ্ধে দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সাবেক গতিদানব শোয়েব আখতার দলের এমন হারে ব্যথিত। তিনি নিজের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মাত্র এক শব্দে। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস শুধু লিখেছেন, ‘ভাষাহীন (স্পেসলেস)’।

ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা বাজে করলেও বল হাতে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে ঠিকই আলো কেড়েছেন মোহাম্মদ আমির। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আউট হওয়া তিনটি উইকেটই নিয়েছেন তিনি। গেইল তাণ্ডবের মধ্যে ৬ ওভারে আবার রান দিয়েছেন কেবল ২৬।

এমন বোলিং করার পরও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে আমিরকে। তার সমালোচনা করেছেন সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক। ম্যাচ শেষে ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর বিশ্লেষণে অংশ নিয়ে আমিরের সমালোচনা করেন মিসবাহ।

তিনি বলেন, ‘ সবাই বলছে, এই বিপর্যয়ে একটা ইতিবাচক দিক আমিরের উইকেট পাওয়া। কিন্তু আমির তিন উইকেট পেলেও তার বোলিং গতি ছিল ৮০-এর কাছাকাছি। দলের এত অল্প পুঁজি সামনে রেখে ওপেনিং বোলারের এই গতি দিয়ে কীভাবে কী হবে। যেখানে হাসান আলি গড় ৮৮ গতিতে বল করেছেন।’

বিশ্বকাপে হার দিয়ে শুরুর সঙ্গে হারের জার্নিও লম্বা পাকিস্তানের। এই নিয়ে পর পর ১১টি ম্যাচ হারল পাকিস্তান। নিজেদেরই হারের রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে পাকিস্তান। এর আগে টানা ১০ ম্যাচ হেরে রেকর্ড করেছিল পাকিস্তান। সেই রেকর্ডই ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে সরফরাজ আহমেদের দল।

দলের সমালোচনা করেছেন সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরামও। একইসঙ্গে দল ঘুরে দাঁড়াবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন বিশ্বকাপজয়ী তারকা।

বিজ্ঞাপন

আকরাম বলেন, ‘গত বেশ কয়েক বছর ধরেই শারজাহ ও দুবাইতে আমাদের পাটা পিচে খেলতে হচ্ছে। এই কারণেই আজ ভুক্ত হল। বিশেষ করে শর্ট বলে। ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়ে গেছে। এখন সবাই জানে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের কোথায় বল করতে হবে।’

‘যেভাবে শর্ট বলের সামনে আত্মসমর্পণ করেছে, তাতে মনেই হচ্ছিল না এরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছে। টেল এন্ডাররা এই রকম খেললে মানা যেত। ব্যাটসম্যানরা এই রকম পারফর্ম করবে?’

১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ওয়াসিমের আরও যোগ করেন, ‘প্রথম দুটি উইকেট হারানোর পর ব্যাটসম্যানদের ক্রিজে বেশি সময় থাকতে হত। কিন্তু তারা সেটা পারেনি। তাদের অবশ্যই ক্রিজে থাকা শিখতে হবে। এই ধরনের কন্ডিশনে আপনাকে প্রথমদিকের ওভারগুলোতে টিকে থাকতে হবে।’

এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ে লোয়ারঅর্ডারকে দোষারোপ করা যায় না। তারপরও হাসান আলির আউটের সমালোচনা করেন আকরাম।

এই বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে পাকিস্তানকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে বলেও জানান আকরাম, ‘এটা লম্বা টুর্নামেন্ট। দল ঘুরে দাঁড়াতেই পারে। আমি আশা করি, এটা তারা করবে তাদের নিজের জন্য ও ভক্তদের জন্য। তবে ঘুরে দাঁড়াতে হলেও তাদের কঠিন পরিশ্রম করতে হবে, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে এবং সেটা ঠিক যোদ্ধাদের মতো। তাহলেই তারা সাফল্য পেতে পারে।’

দলের হার এবং মিসবাহ সমালোচনা করলেও আমির উইকেট পাওয়ায় খুশি আকরাম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জঘন্য ব্যাটিংয়ের জন্য টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদেরই দায়ী করা হচ্ছে। অধিনায়ক সরফরাজ বলেছেন, ‘টস হারের পরে শুরুতেই পরপর উইকেট হারালে ফিরে আসা কঠিন হয়ে যায়। উইকেট আদৌ খারাপ ছিল না। কিন্তু আমরা কেউই ব্যাট করতে পারিনি। বিশেষ করে শর্ট বলের বিরুদ্ধে।’

বিশ্বকাপের কারণে সরফরাজের উপর ব্যাপক চাপ। পাকিস্তান যদি কিছু করতে না পারে, তা হলে অধিনায়কত্ব যাবে তার। দলের খারাপ পারফরম্যান্সের দিন আমিরকে নিয়ে সন্তুষ্ট সরফরাজ। ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। সরফরাজ বলেছেন, ‘আমরা কার্যত কিছুই করতে পারিনি। তবে এখান থেকে দল ঘুরে দাঁড়াবেই।’

তবে সমালোচনার সময় ঠিকই দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন শহিদ আফ্রিদি। যখন সবাই ধরে নিয়েছে পাকিস্তান এই বিশ্বকাপে কিছুই করতে পারবে না, তখন টুইটারে সাবেক অধিনায়ক লিখেছেন, ‘দেশবাসী, বিশ্বাস হারানোর সময় এখনো আসেনি।’

৩ জুন ইংল্যান্ডের সঙ্গে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে পাকিস্তান।

Bellow Post-Green View