চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘পাকিস্তানি এজেন্ট জিয়া, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন না’

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য বীর উত্তম খেতাব পাওয়া প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানি এজেন্ট উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতা বলেছেন, তিনি (জিয়া) কখনই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন না। বরং স্বাধীন বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে নেপথ্যে ষড়যন্ত্র করেছেন।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তারা বলেছেন, জিয়াউর রহমান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেন কিন্তু রণাঙ্গনে কোথাও তার সাহসীকতার বর্ণনা ইতিহাসে নেই।

বিজ্ঞাপন

‘১৫ই আগষ্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড: নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন দলের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।

‘আসুন আইনের শাসন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিবেকবোধ জাগ্রত করি। বঙ্গবন্ধু’সহ পনেরই আগষ্টের শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করি।’ এমন শ্লোগানের ওই আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন: স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ভারত জুজু ভীতি দেখিয়ে একটি রাজনীতি শুরু হয়। এ সংকটটা ছিল প্রকট এবং বিরাট। এর নেপথ্যের নায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান ষড়যন্ত্রটা পাকাপোক্ত করেন।’

‘‘সেসময় মুক্তিযুদ্ধের শক্তির ভিতরেও ছিল একটি বিভেদ। জাতির পিতাকে হত্যায় সেটা কেউ কাজে লাগানো হয়েছে। ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পর তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়। এটা পাকিস্তান বানানোর একটি ষড়যন্ত্র। সেই থেকে দীর্ঘ ২১ বছর এ ষড়যন্ত্র চলেছে।’’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক

তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্টের ওই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ থেকে বিদেশে থাকায় সেদিন বেঁচে যান আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহেনা৷ জীবনের ঝুঁকিকে উপেক্ষা করে তিনি দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের-ই শুধু দায়িত্ব নেননি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ফিরিয়ে এনেছেন। জিয়াউর রহমান এবং তার দোসরা আগের ২১ বছরে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুখে দিয়ে পাকিস্তানি ভাবধারার রাষ্ট্রে কায়েমের চেষ্টা চালিয়েছিলো সে ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

সেসময় ৭৫-এ জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যার ঘটনায় জিয়াউর রহমানের নেপথ্য এবং সরাসরি ষড়যন্ত্রের নানা দিক ইতিহাসের আলোকে তুলে ধরেন নানক৷

আলোচনায় অংশ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং বঙ্গবন্ধুর সরকারকে উৎখাতের জন্য যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদেরকে জিয়াউর রহমান সব সময় উৎসাহ দিয়েছে, মদদ দিয়েছে। পঁচাত্তরের আত্মস্বীকৃত খুনিরা পরবর্তীতে নানা সময়ে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, জিয়াউর রহমান তাদের সব সময় বলেছেন; ”তোমরা যদি কিছু করতে পারো করো, আমি আছি- তবে ব্যর্থ হলে আমার নামটা নিও না”।’

‘‘এভাবে নেপথ্যে থেকে ষড়যন্ত্রকারীদের উৎসাহ দিয়েছে এবং নিজেও ষড়যন্ত্র করেছেন জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন না। এটা আজ দিবালোকের মত সত্য। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং নেপথ্যে থেকে কাজ করেছে, এটা দিবালোকের মত সত্য।’’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ

তিনি অভিযোগ করেন: জিয়াউর রহমান ৭৫’র হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর সব থেকে বড় প্রমাণ তিনি খুনিদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছেন এবং পুরস্কৃত করেছে। জিয়াউর রহমান যদি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না থাকতো, তাহলে খুনিরা পুরস্কৃত হতো না; রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেত না। জিয়াউর রহমান এই হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করে প্রমাণ করেছিলেন তাদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা।

‘‘জিয়াউর রহমান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেন, কিন্তু ইতিহাসের কোথাও আমরা পাই নাই- তিনি রণাঙ্গনে কোনও সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের একজন এজেন্ট। এটা তিনি তার কর্মকাণ্ডে প্রমাণ করেছেন।’’

আলোচনা সভায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন: সিনিয়র সাংবাদিক পার্থ চট্টোপাধ্যায়, লেখক ও সাংবাদিক আবেদ খান, ভাষাতাত্ত্বিক ও শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর নাসরিন আহমেদ, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর হারুন-অর-রশিদ প্রমুখ।