চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে গতি বাড়ায় এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আয় বেড়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে কনটেইনার ও জাহাজ হ্যান্ডলিং বেড়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে কনটেইনারবাহী জাহাজের অপেক্ষার সময়ে, যা প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ২ হাজার ৯৪৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৪৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে রাজস্ব আয় বেড়েছে ৯৯৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বা ৩৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।
একই সময়ে বন্দরের রাজস্ব ব্যয়ও কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব ব্যয় ছিল ১ হাজার ৪৪৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে হয়েছে ১ হাজার ৩৯১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যয় কমেছে ৫৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
চলতি বছরের ১১ আগস্ট পর্যন্ত কনটেইনার হ্যান্ডলিংও বেড়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে ২ দশমিক ৪১ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হলেও চলতি বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ১৪৪ লাখ টিইইউএসে। একই সময়ে জাহাজ হ্যান্ডলিং ২ হাজার ৫৮৮টি থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৬৩৫টি।
তবে বন্দরের কার্যক্রমে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে জাহাজের অপেক্ষার সময়ে। ২০২৫ সালে একটি কনটেইনার জাহাজকে বন্দরে প্রবেশের জন্য গড়ে ৪ দশমিক ০৮ দিন অপেক্ষা করতে হতো। চলতি বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৩ দিনে। অর্থাৎ অপেক্ষার সময় কমেছে ২ দশমিক ৮৫ দিন বা প্রায় ৭০ শতাংশ।
এ ছাড়া জাহাজের গড় টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম ২ দশমিক ৬০ দিন থেকে কমে ২ দশমিক ২৮ দিনে দাঁড়িয়েছে। তবে আমদানি করা কনটেইনারের গড় অবস্থানকাল প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
কনটেইনার ও জাহাজ হ্যান্ডলিং বাড়লেও মোট কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে সামান্য পতন হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত ৮৪ দশমিক ২১ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছিল। চলতি বছরে তা কমে হয়েছে ৮৩ দশমিক ৫১ মিলিয়ন মেট্রিক টন।
এর মধ্যেই রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজীকরণে নতুন রেকর্ড করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। গত ১২ আগস্ট ‘মারস্ক বিন্টুলু’ জাহাজে ৯৩৩ বক্স বা ১ হাজার ৭৮৪ টিইইউএস রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজীকরণ করা হয়। এক জাহাজে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজীকরণের ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, গত ছয় মাসে বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও রাজস্ব আয় বেড়েছে। পুরো বছরেই এই অগ্রগতি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।










