চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নিজের জীবন দিয়ে বন্ধুদের বাঁচালেন কলোরাডো’র শিক্ষার্থী

সহপাঠী আগ্নেয়াস্ত্র বের করে বাকিদের দিকে তাক করছে, চোখের সামনে তা দেখে সহ্য করতে পারেননি কেনড্রিক ক্যাস্টিলো। আশপাশে ঘিরে থাকা নিজের পরিবারের মতো বন্ধুরা সবাই প্রাণের ঝুঁকিতে।

সেই বন্ধুদের বাঁচাতে তাই সাতপাঁচ না ভেবে বন্দুকধারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন স্টেম স্কুল হাইল্যান্ডস র‌্যাঞ্চের এই শিক্ষার্থী, যেন বাকিরা পালিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সময় পায়। সেই ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে গুলি লেগে মারা যান কেনড্রিক।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো রাজ্যের ওই স্কুলে দুই বন্দুকধারীর হামলার ঘটনার পর কেনড্রিকের কয়েকজন সহপাঠী এ কথা জানান।

১৮ বছর বয়সী কেনড্রিকের বাবা জন ক্যাস্টিলো গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি জানি আসলেই এমনটা ঘটেছে। কারণ ওর এই সাহসিকতার কারণেই বাকিরা আজ বেঁচে আছে এবং আমি ঈশ্বরকে সেজন্য ধন্যবাদ জানাই। আমি ওকে ভালোবাসি। সে একজন বীর এবং চিরকাল তাই থাকবে। ও মানুষকে ভীষণ ভালোবাসত।’

বিজ্ঞাপন

সহপাঠীদের সঙ্গে কেনড্রিক মঙ্গলবার ব্রিটিশ সাহিত্যের ক্লাসে ‘দ্য প্রিন্সেস ব্রাইড’ চলচ্চিত্রটি দেখার সময় হঠাৎই সহপাঠীদের একজন অস্ত্র বের করে চিৎকার করে সবাইকে নড়াচড়া করতে নিষেধ করে। ঠিক ওই সময় বন্দুকধারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন কেনড্রিক। তার সঙ্গে আরও তিনজন শিক্ষার্থী বন্দুকধারীকে ধরে আটকে রাখার চেষ্টা করে যেন বাকিরা ক্লাস থেকে ততক্ষণে বেরিয়ে যেতে পারে।কলোরাডো-স্কুলে হামলা-কেনড্রিক ক্যাস্টিলো

কেনড্রিক ক্যাস্টিলো ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। কিন্তু সেই ছোটবেলা থেকেই এই সহপাঠীরা ছিল তার আপন ভাইবোনের মতোই। ক্রিসমাসসহ যে কোনো আয়োজন ছাড়াও সবসময়ই তাদের কেনড্রিকের বাড়িতে তাদের আসা-যাওয়া ছিল।

‘আমার ছেলে ছিল নিঃস্বার্থ। আর এই মানসিকতার কারণেই সে আজ প্রাণ হারালো। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে সে বাকিদের জীবন বাঁচিয়ে দিয়ে গেছে,’ বলেন তার বাবা।

শেয়ার করুন: