চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

থানায় নির্যাতনের চিত্রে আমরা বিস্মিত

যশোরের এক যুবককে থানার দুই টেবিলের মাঝে অভিনব কায়দায় ঝুলিয়ে পুলিশ ঘুষের জন্য নির্যাতন করেছে। একটি জাতীয় দৈনিকে এরকম সংবাদ ও ছবি প্রকাশের পরে জনমনে ক্ষোভ ও পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশের সূত্র দিয়ে সংবাদে প্রকাশ, আবু সাঈদ নামের ওই যুবককে যশোরের কোতোয়ালি থানার এসআই নাজমুল ও এএসআই হাদিবুর রহমান বুধবার রাতে আটক করেন। পরে তার কাছে ‘দুই লাখ টাকা ঘুষ’ দাবি করেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় আবু সাঈদকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানার মধ্যে দুই টেবিলের মাঝে গাছের মোটা ডালের সঙ্গে বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানো হয়। সংবাদে বলা হয়েছে, পরে ‘৫০ হাজার টাকা’ দিয়ে ছাড়া পান আবু সাঈদ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি জানেন না বলে বক্তব্য দিয়েছেন, আবার অভিযুক্তরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলেও জানিয়েছেন। বিষয়টি যেনো এমন যে, এমন ঘটনা ঘটেইনি আর কেউ নির্যাতিত হয়নি। প্রকাশিত ছবিতে সোয়েটার পরা কোমরে ওয়াকিটকি রাখা একজনকে দেখা গেছে আর ওই নির্যাতনের সময়ে থানার ভেতরের কেউই হয়তো ছবি তুলেছেন। অল্প একটু তদন্ত করলেই জড়িতদের পরিচয় বের হয়ে আসবে। সংবাদের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক মাধ্যমে অনেকে মত প্রকাশ করেছেন এই বলে যে, এমন ঘটনা সারাদেশ জুড়ে সব সময়ই ঘটছে। পত্রিকায় এই ঘটনা (যশোরের) প্রকাশের পরে আলোচনা হচ্ছে, অবস্থা আসলে এরচেয়েও অনেক খারাপ। বাংলাদেশ পুলিশ সর্ম্পকে এ ধরণের ধারণা নতুন নয়। নানা ঘটনার মধ্যে দিয়ে পুলিশের এ নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। তবে সময়ের সাথে সাথে অনেক বদলে যাচ্ছে দেশের পুলিশ বাহিনী। জাতিসংঘ শান্তি মিশন থেকে শুরু করে দেশের জঙ্গি দমনে পুলিশের যে কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকা, তা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। কাজেই যশোরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাকে যদি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা বলেও ধরে নেই আর যদি মেনেও নেই পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িত নয়, তবু এ ধরণের ঘটনার তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন। কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে  মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি যেনো প্রশ্নের মুখে না পড়ে, তার জন্য সংশ্লিষ্টমহল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশা করি।

Bellow Post-Green View