চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তাজিন যখন সাংবাদিক ছিলেন

শুধু অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, সাংবাদিক হিসেবেও সমানভাবে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ।

সাংবাদিকতার জীবনে তাকে সঙ্গে পেয়েছেন বেশ কিছু গণমাধ্যমকর্মী। কেমন ছিলো অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের সাংবাদিক জীবন? তাজিন আহমেদের মৃত্যুর পরে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন সংবাদকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

ডিবিসি নিউজের এডিটর জায়েদুল আহসান পিন্টু চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমি তার খুব ছোট বয়সে তাকে দেখেছিলাম সাংবাদিকতায়। সেই সময়ে একজনের মধ্যে যে প্রাণোদ্যম আর আগ্রহ থাকে, তার পুরোটাই তার মধ্যে ছিল। তখন তার বয়স ছিলো ২০ বা ২২। এরপর বড় হলো, অভিনয়ে এলো, উপস্থাপনায় এলো।

‘সঞ্জীব চৌধুরীর পাতায় সে কাজ করতো। প্রাণচঞ্চল তাজিন ফিচারে কাজ করলেও মাঝে মাঝে আগ্রহ দেখাতো হার্ড রিপোর্টিং নিয়েও,’ বলে জানান জায়েদুল আহসান।

এটিএন বাংলার চিফ এক্সিকিউটিভ এডিটর জ. ই. মামুন ফেসবুকে লিখেছেন: তাজিন আমার একসময়ের সহকর্মী, প্রিয় ছোট বোন। নব্বই এর দশকের মাঝামাঝি আমরা যখন ভোরের কাগজের রিপোর্টার, তাজিনরা তখন আরেক অকালপ্রয়াত বন্ধু, শিল্পী সঞ্জীব চৌধুরীর সাথে ফিচারে কাজ করতো। তারপর একসময় তাজিন অভিনয় শুরু করে, তারকা খ্যাতি পায়। মাঝে মাঝে দেখা হলে সেই ভোরের কাগজের আমলের মতোই মায়াবী আবদার করত, আমার চোখেও ওকে সেই কলেজ পড়ুয়া ফিচার লেখকই মনে হতো।

‘কিন্তু এমন অসময়ে সবাইকে ছেড়ে ও চলে যাবে, ভাবতেই পারছি না, মানতেও পারছি না। এটা কি হলো তাজিন?’

ফেসবুকেই এক পোস্টে এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ প্রভাষ আমিন লিখেছেন: অভিনেত্রী হিসেবে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে ‘টিফিনের ফাঁকে’ নামে একটা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন, যেটি এনটিভিতে প্রচার হতো। তবে এত সেলিব্রেটি হওয়ার আগে তাজিন আহমেদ আমাদের সহকর্মী ছিলেন।

ভোরের কাগজের সময়ের কথা উল্লেখ করে প্রভাষ আমিন বলেন, ভোরের কাগজের বাংলা মোটরের অফিসের চারতলায় সঞ্জীব চৌধুরীর নেতৃত্বে যে কচিকাঁচার মেলা বসতো, যারা মাতিয়ে রাখতো আমাদের অফিস, তাজিন তাদেরই একজন। ভোরের কাগজের পর প্রথম আলোতেও ছিল তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি। তারপর অভিনয়-উপস্থাপনার ঝলমলে জগত।

‘সব এখন অতীত। তাজিন এখন দূর আকাশের তারা।’

ডিবিসি নিউজের সম্পাদক এবং তাজিন আহমেদের সেই সময়ের সহকর্মী নবনীতা চৌধুরী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সঞ্জীব চৌধুরীর অধীনে ফিচার পাতায় কাজ করতাম।  তাজিন আপাও কাজ করতেন সেখানে। আমার সঙ্গে খুবই হৃদ্যতা ছিলো। সঞ্জীব চৌধুরীর কাছেই কাজ শিখেছেন তিনি। তাজিন আপা পড়াশোনাও করেছেন সাংবাদিকতায়। খুবই উৎসাহী একটি মেয়ে ছিলেন তিনি। ছিলেন প্রচণ্ড হাসিখুশি মেয়ে। পুরো অফিসটা সবসময় মাতিয়ে রাখতেন তিনি। লিখতেনও খুব ভালো।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উত্তরার বাসাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তাজিন আহমেদ। উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের রিজেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে থেকে বিকাল চারটা ৩৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বহু গুণের এই টিভি অভিনেত্রী।

Bellow Post-Green View