চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মানবপাচার মামলার ৩ আসামি নিহত

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার মামলার আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৩ পাচারকারী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের ৩ সদস্যও আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র ও গুলি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার গভীর রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালিয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

নিহতরা হলো: টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের গোলাপাড়ার আব্দুর শুক্কুরের ছেলে কুরবান আলী (৩০), টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়ার আলী হোসেনের ছেলে আব্দুল কাদের (২৫) এবং একই এলাকার সুলতান আহমদের ছেলে আব্দুর রহমান (৩০)।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলো, এএসআই মোহাম্মদ সায়েফ, কনস্টেবল মং বাবু ও মোহাম্মদ শুক্কুর।

পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত মাস দেড়েক আগে টেকনাফের সাগরপথে ১৫ জন রোহিঙ্গাকে মালয়েশিয়া পাচারের সময় পুলিশ উদ্ধার করে। এতে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের স্বীকারোক্তিতে পাচারকাজে জড়িত অভিযোগে কুরবান আলী, আব্দুল কাদের ও আব্দুর রহমানকে আসামি করা হয়। এরপর থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রাখে।

বিজ্ঞাপন

ওসি প্রদীপ জানান, সোমবার গভীর রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালিয়া পাড়ায় মানবপাচার মামলার ৩ জন আসামি অবস্থান করছে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদেরকে লক্ষ্য করে মানবপাচারকারী চক্রের সংঘবদ্ধ সদস্যরা অতর্কিত গুলি ছুড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে।

ওসি বলেন, ‘এক পর্যায়ে গুলি ছুড়তে ছুড়তে মানবপাচারকারীরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থলে ৩ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এতে পুলিশের ৩ সদস্যও আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় দেশীয় তৈরি ৩টি বন্দুক, ১৫টি গুলি ও ২০টি গুলির খালি খোসা।’

‘পরে গুলিবিদ্ধ ও আহতদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে গুলিবিদ্ধদের অবস্থা আশংকাজনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।’

প্রদীপ বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে গুলিবিদ্ধ ৩ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হয়। এ সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।’

‘নিহত ৩ জনই সাগরপথে ১৫ জন রোহিঙ্গাকে মালয়েশিয়া পাচারের চেষ্টা মামলার আসামি। অন্তত মাস দেড়েক আগে এসব রোহিঙ্গাকে মালয়েশিয়া পাচারের চেষ্টার সময় উদ্ধার করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের স্বীকারোক্তিতে ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এই ৩ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছিল,’ বলেন টেকনাফের ওসি।

নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Bellow Post-Green View