চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলে ঐতিহ্যবাহী বার তীর্থের পূণ্যস্নান ও বউমেলা শুরু

৪’শ বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলে বার তীর্থের দীঘিকে ঘিরে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের দু’দিন ব্যাপি পূণ্যস্নান ও বউমেলা শুরু হয়েছে।

শনিবার সকালে মধুপুরের শোলাকুড়িতে বার তীর্থের দীঘি প্রদক্ষিণ, কীর্তন ও পূজা শেষে বিকেল পর্যন্ত পূণ্যস্নান করেছেন পূণ্যার্থীরা। রীতি অনুযায়ি আজ রোববার অনুষ্ঠিত হবে বউমেলা।

বার তীর্থের জলে পূণ্যস্নান ও আরোগ্য লাভের আশায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য হিন্দু নর-নারী আসেন এখানে। জনসমাগম রূপ নেয় মেলায়। এই মেলা এখন ঐতিহ্যে রুপান্তরিত হয়েছে। গ্রামীন জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির হরেক রকম বাহারী পণ্যের জমজমাট বেচা-কেনা চলে এখানে। হাজার হাজার মানুষ এই মেলায় সংসারের বাৎসরিক কেনাকাটা করেন।

রেওয়াজ অনুযায়ী মেলার ২য় দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শুধু নারীরা কেনাকাটা করেন। সেদিন কোন পুরুষ বউমেলায় প্রবেশ করতে পারেন না।

Advertisement

শচীন্দ্র বর্মণ (৯০) নামের স্থানীয় একজন বলেন, ‘এটি আমাদের ধর্মীয় আচারেরই একটি অংশ। গত কয়েক প্রজন্ম ধরে আমরা এই আচার অনুষ্ঠান পালন করে আসছি’।

স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা তাহমিনা মল্লিক জানান, এই অঞ্চলের মানুষদের কাছে ঈদের আনন্দের মতোই উপভোগ্য এই দিনটি। বার তীর্থের এই উপলক্ষ্যে ছোটদের সালামি, মিষ্টিমুখ করানো, বিবাহিত মেয়েকে শ্বশুড়বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে ‘নাইওর’ আনা হয়।

ঐতিহ্যবাহী এই উপলক্ষ্য সম্পর্কে শোলাকুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী বলেন, ‘বাপ দাদারা দেখেছেন, আমরাও দেখছি। শুনেছি মোগল আমলেরও অনেক আগে থেকে চলে আসছে এই রীতি’।

এলাকাবাসীর মধ্যে বার তীর্থের দীঘি’র ‘পূণ্যস্নান’ নিয়ে কিংবদন্তী চালু আছে। জনশ্রুতি অনুযায়ি,এ অঞ্চলের গহীণ অরণ্যে বাস করতেন রাজা ভগদত্ত। মাতৃভক্ত এই রাজার মা একবার ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বপ্নে পাওয়া দৈববাণীতে মায়ের চিকিৎসার উপায় পেয়ে যান ভগদত্ত। দৈববাণীতে বলা হয়,বৈশাখের অমাবশ্যা তীথিতে বার তীর্থের জল দিয়ে স্নান করলে আরোগ্য লাভ করবেন রাজার মা। মাতৃভক্ত রাজা ভগদত্ত বারটি ঘোড়ায় বার জনকে পাঠিয়ে দেন বার তীর্থের জল আনতে।

ওই বার জন ঘোড়সোয়ারি বৃন্দাবন, মথুরা, প্রয়াগ, গয়া, কাশি এরকম বার তীর্থ থেকে জল নিয়ে আসেন শোলাকুড়িতে। প্রজাদের আরোগ্য লাভ ও বার তীর্থের জল সংরক্ষণের জন্য সেখানেই দীঘি খনন করা হয়। সেই থেকে ওই দীঘিতে বৈশাখের অমাবশ্যা তীথিতে পূণ্যস্নানের রীতি চালু হয়।