চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জয়ার মতো অভিনেত্রী বাংলায় কেন, ভারতবর্ষেই নাই: শিবপ্রসাদ

মুখোমুখি: শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

আসছে শুক্রবার বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে জয়া আহসান অভিনীত শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের আলোচিত ছবি ‘কণ্ঠ’…

সাফটা চুক্তির ভিত্তিতে শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে জয়া আহসান ও পাওলি দাম অভিনীত শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের আলোচিত ছবি ‘কণ্ঠ’। বাংলাদেশে ছবিটির পরিবেশক ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। এই ছবির প্রচারণায় কোনো কমতি রাখছেন না জয়া। নিজের প্রযোজিত ও অভিনীত ‘দেবী’ চলচ্চিত্রটির মতোই দৌড়ঝাঁপ তার। কারণ এটি তার অভিনীত প্রথম কোনো ভারতীয় ছবি, যা মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে!

ছবিটির মুক্তির আগে সংবাদ সম্মেলন ও প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানেরও আয়োজন থাকছে। প্রিমিয়ার শো হবে বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর)। তার আগে চ্যানেল আইয়ের ছাদ বারান্দায় বুধবার (৬ নভেম্বর) আছে সংবাদ সম্মেলন। সেখানে উপস্থিত হতে বুধবার সকালের ফ্লাইটে ঢাকায় আসছেন নির্মাতা শিবপ্রসাদ ও নন্দিতা রায়সহ আরো অনেকেই। তার আগে সার্বিক বিষয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বললেন প্রাক্তন, বেলাশেষে, পোস্ত ও হামি’র মতো সুপার হিট ছবির নির্মাতা শিবপ্রসাদ…

কেমন আছেন, ঢাকায় কখন আসছেন?
ভালো আছি, এবং আমাদের ছবি ‘কণ্ঠ’ বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে এটা ভেবে ভীষণ উত্তেজীত এই মুহূর্তে। আর ঢাকায় আসছি বুধবার সকালের ফ্লাইটে।

বিজ্ঞাপন

শিবপ্রসাদ ও নন্দিতা রায়। ছবি: সংগৃহিত

‘কণ্ঠ’ ছবিটিতো ১০০ দিন পার করলো ভারতে। দর্শক সাড়াতো পেয়েছেনই, বক্স অফিসের সাড়া কেমন ছিলো?
হ্যাঁ, ভারতে কণ্ঠ ছবিটি মুক্তির ১০০ দিন পূর্ণ করেছে। বক্স অফিসের সাড়ার কথা যদি বলি, তাহলে এইটুকু তথ্য দিয়ে রাখি, ছবিটি মুক্তির মাত্র ১১ দিনে দুই কোটি রুপি আয় করার হিসেব আমরা বক্স অফিস থেকে পেয়েছি। শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, ছবিটি আমেরিকার ১৬টি শহরে দেখানো হয়েছে, লন্ডনে দেখানো হয়েছে, ভারতবর্ষের ব্যাঙ্গালোর, হায়দরাবাদসহ আরো বেশকিছু শহরে দেখানো হয়েছে। সব জায়গাতেই দর্শকের বিপুল ছাড়া আমরা পেয়েছি।

দক্ষিণ ভারতে ‘কণ্ঠ’ ছবিটির রিমেক করার খবরও শুনেছি?
হ্যাঁ, অফিসিয়ালি আমাদের ছবিটির কপি রাইট কিনে নিয়েছে ওরা। মালায়ালাম ভাষায় তৈরী হবে ছবিটি।

দক্ষিণ ভারতীয় তামিল, তেলেগু ছবি থেকে বাংলায় হুবুহু নকল বা কপি রাইট নিয়ে এতোদিন ছবি নির্মাণ করতে দেখেছি; কিন্তু এবার বাংলা সিনেমার গল্প থেকে কপি রাইট কিনে নিয়ে তারা ছবি করছেন এবং সেই ছবির নির্মাতা আপনি। কেমন বোধ হচ্ছে?
এটা আমার আর নন্দিতাদির (নন্দিতা রায়, যিনি ‘কণ্ঠ’র যৌথ পরিচালক) জন্য বিরাট পাওয়া। বিশেষ করে ‘কণ্ঠ’ ছবিটির ক্ষেত্রে। আমরা সম্মানিত। আপনি বিশ্বাস করবেন না, মালায়ালামের জন্য যারা সিনেমাটির কপিরাইট নিয়েছে তারা পুরো সিনেমাটি কিন্তু দেখেননি, শুধুমাত্র ট্রেলার দেখেই তারা ছবিটি রিমেক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ছবির কপি রাইট কিনে নিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য পুরো ফিল্ম ক্যারিয়ারে বিরাট পাওয়া।

পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে বিরাট একটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নাচ-গান নির্ভর ফর্মুলা ছবির চেয়ে গল্প প্রধান ছবিগুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এই পরিবর্তনটা কীভাবে সম্ভব হলো?
আমার মনে হয়, দর্শকের রুচির পরিবর্তনের কারণেই গল্প প্রধান ছবিগুলো ভালো একটা স্পেস করে নিতে পেরেছে। রুচির বিরাট একটা পরিবর্তন ঘটেছে গত কয়েক বছরে, এমনকি যারা ফর্মুলা ছবির দর্শক ছিলেন তাদের মধ্যেও রুচির বিরাট পরিবর্তন ঘটেছে। মূল কথা হচ্ছে, দর্শক এখন নিজের জীবন ঘনিষ্ঠ গল্প খুঁজে পর্দায়। নিজের গল্প দেখতে চায়। ধরুন আমার সিনেমা ‘বেলাশেষে’, এটি কিন্তু দর্শকের নিজের গল্প, ‘হামি’ কিংবা আমার ‘পোস্ত’ এগুলো দর্শকের নিজের গল্প। জীবন ঘনিষ্ঠ গল্প, একেবারে নিজের বাড়ির গল্প! ‘প্রাক্তন’ ছবিটা দেখে বাংলার দর্শক রিলেট করেছে যে, এটা আসলে তার নিজেরই একটি প্রেমের গল্প! ঠিক সেভাবেই ‘কণ্ঠ’ ছবিটিও যে এতো সাড়া পেল, কারণ এটিও মানুষের জীবন ঘনিষ্ঠ একটি গল্পের চিত্রায়ন। মানুষের সংগ্রাম, তার বেঁচে থাকার গল্পই কণ্ঠ। এটা কিন্তু শুধুমাত্র ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন রেডিও জকির গল্প নয়, কণ্ঠ আমাদের প্রতিটা মানুষ যারা বাঁচার জন্য লড়াই করছি, তার গল্প। এটা মানুষের জেতার গল্প। এজন্য বলবো যে, সিনেমা হিট হওয়ার পেছনে মূলত পর্দায় মানুষের জীবন ঘনিষ্ঠতা দেখানোই একটা বড় কারণ।

মানে জীবন ঘনিষ্ঠ গল্পের জোরেই সিনেমা হিট হচ্ছে?
আমার মনে হয় এরকম। শুধুমাত্র মানুষের জীবনের গল্প, জীবন ঘনিষ্ঠ গল্পগুলো আমরা আমাদের সিনেমায় দেখাচ্ছি বলেই দর্শক এগুলো খুব পছন্দ করছেন। নিজেদের গল্পের সাথে দর্শক সিনেমার পর্দার গল্পগুলোর মিল খুঁজে পাচ্ছেন। এই কারণেই আমার গত পাঁচ বছরে পাঁচটি ছবির সবগুলোই সুপার হিট। সবগুলো ছবিই প্রেক্ষাগৃহে ১০০ দিনের বেশি চলেছে। আমি জানিনা এরকম ঘটনা পৃথিবীর অন্য কোথাও ঘটেছে কিনা, এই রেকর্ড আছে কিনা! ইতোমধ্যে আমার আরেক ছবি ‘গোত্র’ ৭৫দিন পার করছে। এটি কন্টিনিউয়াস প্রসেস!

আপনার পরিচালিত প্রথম কোনো সিনেমায় অভিনয় করলেন বাংলাদেশের জয়া আহসান। তার সাথে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো, আর কেনোই বা তাকে ‘কণ্ঠ’র রমিলা চরিত্রটির জন্য আপনার পারফেক্ট মনে হয়েছিলো?
জয়া সম্পর্কে বলতে গেলে আমি একটা বড় কথা বলে ফেলি? ব্যক্তিগত মতামত যদিও। আমার মনে হয় বাংলা ভাষায় জয়া আহসানের মতো অভিনেত্রী এই উপমহাদেশে আর একটিও নেই। শুধু বাংলা ভাষায় কেন বলছি, মূলত জয়ার মতো অভিনেত্রী ভারতবর্ষে আর একটিও নেই। তার মতো এতো পারফেকশান, আমি কারো মধ্যে দেখিনি।

যেমন?
জয়ার সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা সেটা হচ্ছে, সে যেকোনো চরিত্রের ভেতর ঢুকে যেতে পারে এবং সেই চরিত্রের মানুষটাই সে হয়ে ওঠে মুহূর্তে! ‘কণ্ঠ’ ছবির জন্য যেদিন আমরা তাকে তার চরিত্রটা বলেছিলাম, খুবই কঠিন একটি চরিত্র। বক্তৃতা থেরাপিস্ট। যিনি খাদ্যনালীর দ্বারা ক্যানসার আক্রান্ত রোগীকে কথা বলা শেখান। তো প্রথমবার যখন জয়া ঢেকুর দিয়ে কথা বলার প্র্যাকটিস করছিলেন, তখন যখন ঢেকুর তুলে সেই কথাটা আমাদেরকে বলেছিলেন আমরা মুগ্ধ হয়ে তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম এও কী সম্ভব! একটা মানুষ কী করে এত দ্রুত সমস্ত কিছু আত্মস্থ করে নিলো! জয়ার এই অসাধারণ ক্ষমতায় উপস্থিত থেরাপিস্ট ও ডাক্তাররাও আশ্চর্য হয়েছিলেন! তো এই বিষয়টা এতো দ্রুত অন্য কারো দ্বারা হতো না বলেই আমার মনে হয়, এতো ডেডিকেটেড সে! পৃথিবীতে সিনেমায় কিছু চরিত্র থাকে, যেগুলি স্পেসিফিক মানুষের জন্যই তৈরি হয়ে থাকে, সেটা কীভাবে কীভাবে যেনো সেই উপযুক্ত মানুষটাকেই চরিত্র খুঁজে নেয়। কণ্ঠ’র রমিলা চরিত্রটি জয়া আহসান ছাড়া আর কেউ করতে পারতো না। রমিলা চরিত্রটিই আসলে জয়াকে খুঁজে নিয়েছে।

কণ্ঠের পর ‘গোত্র’ ছবিটিও প্রেক্ষাগৃহে ৭৫ দিন পার করছে। এরপর সামনে আর কী পরিকল্পনা?
এর আগে আমরা শুধু নিজেদের ছবি করতাম, এখন নিজেদের ছবি বাদ দিয়ে অন্যের ছবিও প্রডিউস করতে শুরু করেছি। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের পরবর্তী ছবিটি আমরা প্রডিউস করছি, সিনেমাটার নাম ‘লক্ষ্মী ছেলে’। এটা বাংলায় আজ অব্দি খুব একটা হয়নি যে, একজন ডিরেক্টর আরেকজন ডিরেক্টরের জন্য ছবি প্রডিউস করছেন। এটা একটা নতুন ব্যতিক্রম। আমার মনে হল যে ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে গেলে সবাই মিলেমিশে একসাথে কাজ করার বিকল্প নেই। এরকম আরো নতুন ব্যতিক্রম ঘটানোই আসলে আমাদের মিশন, চলচ্চিত্রে নতুন একটা পথ তৈরি করা আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। কন্টিনিউয়াসলি সিনেমার মধ্য দিয়ে বাংলার দর্শককে আবার সিনেমা হলমুখী করে ফেলতে হবে, এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এটা আমাদের অনেকের কাছেই একটা গোল, আন্দোলনের মতো একটা ব্যাপার।

নতুনরাও কি ঠিকঠাক সুযোগ পাচ্ছে?
অবশ্যই। প্রত্যেক বছরে অন্তত ১/২ জন করে নতুন ছেলে-মেয়ে যারা সিনেমা করতে চায় তাদের ছবিও আমরা প্রডিউস করার প্ল্যান করছি। আর আমরাতো এটা শুরু থেকেই করে আসছি। নতুন অভিনেতা, অভিনেত্রী কিংবা মিউজিক ডিরেক্টর কিংবা অন্যান্য সেক্টরেও আমরা একবারে নতুন মুখ গুলোকে তুলে আনছি আমাদের সিনেমায়। এইতো গত বছর আমরা একটা সিনেমা করেছিলাম ‘মুখার্জী বাড়ির বউ’, সেটাও ব্লকবাস্টার ছিল। সেটা পরিচালনা করতে দিয়েছিলাম একেবারে নতুন ডিরেক্টর অরিত্র মুখার্জীকে। ওই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল নারী দিবস উপলক্ষে। আসছে নারী দিবস উপলক্ষে আমরা আরেকটা সিনেমার প্ল্যান করছি। সেটাও নতুন কেউ করবেন।

নিজের পরিচালনায় সামনে নতুন কী কাজ?
সামনের বছর ‘বেলা শেষে’র পরের ধাপ আসছে। সেটার নাম হবে ‘বেলা শুরু’।

Bellow Post-Green View