চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Group

জয়পুরহাটে ধান কাটা-মাড়াইয়ে দ্বিগুণ খরচ, দুশ্চিন্তায় কৃষক

বিজ্ঞাপন

জয়পুরহাটে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শুরু হলেও চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক না পাওয়ায় দেখা দিয়েছে সংকট। স্থানীয়ভাবে কিছু শ্রমিক পাওয়া গেলেও মজুরি বেশ চড়া। জমির দূরত্ব অনুপাতে আগে বিঘা প্রতি ধান কাটা- মাড়াইয়ে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে চার থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত। ফলে কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে জমিতে ন্যুয়ে পড়া ধান ঘরে তোলা নিয়ে ব্যাপক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষে তাদের বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১৩-১৪ হাজার টাকা। সেখানে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী প্রতি বিঘায় উৎপাদিত ধান বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা। এরমধ্যে কয়েক মাসের পরিশ্রম যোগ করলে কৃষকের আয়-ব্যয় হবে সমান সমান। ফলে ধানের বর্তমান বাজার মূল্য না বাড়লে লোকসানের মুখে পড়বেন কৃষকরা।

pap-punno

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, জেলায় চলতি ২০২১-২০২২ রবি ফসল উৎপাদন মৌসুমে ৬৯ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৬৯ হাজার ৪২৫ হেক্টর। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে ২ হাজার ১৩ হেক্টর বোরো ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৮৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত জেলায় ৩৬ শতাংশ ধান কাটা-মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।

Bkash May Banner

পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর গ্রামের সাজ্জাদুল, আটাপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ, কালাই উপজেলার সড়াইল গ্রামের শহিদুল ইসলাম, ক্ষেতলাল উপজেলার হাটশহর গ্রামের ধোধা শাহ, মোলামগাড়ীর মোহসিন আলী, আক্কেলপুর উপজেলার রাজকান্দা গ্রামের সানোয়ার হোসেন, সদর উপজেলার বড় তাজপুর গ্রামের রুহুল আমিনসহ একাধিক ধানচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি কালবৈশাখীর প্রভাবে পাকা এবং আধাপাকা ধানের গাছ জমিতে ন্যুয়ে পড়েছে। কিছু কিছু নিচু জমিতে এখনও পানি জমে আছে। তাই ধান কেটে নিতে হচ্ছে চড়া দামে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে প্রতি বিঘা ধান কাটা যেত ২ থেকে আড়াই হাজার টাকায়। এখন সেই ধান কাটতে হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। প্রতি বিঘা ধান কেটে নিতে ব্যয় হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা।

কালাই উপজেলার আওড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল শাহ, কালিমুহর গ্রামের রানা ও ধাপ গ্রামের হাসান আলী জানান, তাদের নিজের তেমন জমি না থাকায় বর্গা এবং এক বছরের জন্য জমি ভাড়া নিয়ে নিজেরা পরিশ্রম করে মাত্র দুই আড়াই বিঘা জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করেছেন। ধানের চারা রোপণ, সেচ, কীটনাশকসহ সব মিলে তাদের বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১১-১২ হাজার টাকা। এর সঙ্গে জমির ভাড়া ৫ হাজার ধরলে খরচ পড়ে প্রায় ১৬-১৭ হাজার টাকা। এখন বাজারে মোটা ধানের বাজারদর মণ প্রতি ৭০০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত এবং চিকন ধানের বাজার দর মণ প্রতি ৮০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা। এ অবস্থায় নিজের পারিশ্রমিকের মূল্য বাদ দিলে কোনো রকম চাষাবাদের খরচ টাকা আসলেও কোন লাভ থাকবে না।

কৃষি শ্রমিক, ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা গ্রামের আবুল, কালাই উপজেলার পূর্ব সড়াইল গ্রামের বুলু মিয়া, সদর উপজেলার মহুরুল গ্রামের নইমুদ্দিন জানান, জমিতে ধান শুয়ে পড়ায় ও পানি জমে থাকায় অধিক শ্রম দিতে হয়, কষ্টও বেশি, তার উপর সব জিনিসপত্রের দাম বেশি তাই অন্যবারের চেয়ে এবার ধান কাটা-মাড়াইয়ে আমরাও বেশি দাম নিচ্ছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, ঝড় বৃষ্টিতে ধানের কিছুটা ক্ষতি হলেও এবার ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদন লক্ষমাত্রায় কোন প্রভাব পড়বেনা। ধানের দাম বাড়লে কৃষক লাভবান হবে।

 

বিজ্ঞাপন

Bellow Post-Green View
Bkash May offer