চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জাবিতে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ

বিশ্বে বাঙালি সংস্কৃতি বিশেষ মর্যাদায় স্থান লাভ করেছে: জাবি উপাচার্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে(জাবি) নানা অানুষ্ঠানিকতায়, মহাসমারোহে বর্ষবরণ ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে। বর্ষবরণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের আয়োজনে চলছে ‘পহেলা বৈশাখ মেলা-১৪২৫’। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের ক্যাফেটেরিয়া চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে বৈশাখী মেলা উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

নববর্ষ উপলক্ষে আজ সকাল ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম ক্যাম্পাসবাসীর সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উপাচার্য বাসভবনে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে উপাচার্য সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে উপাচার্য বলেন, বাংলা নববর্ষ উৎসব একটা আনুষ্ঠানিকতা। অনানুষ্ঠানিকভাবে এর প্রচলন সুদীর্ঘকালের। আবহমান গ্রাম বাংলায় আজও বাংলা মাস ও দিন-তারিখ অধিক প্রচলিত। বাঙালির বাঙালিত্বে বাংলা নববর্ষের উৎসব অনন্য স্থান দখল করে আছে। বিশ্বে এখন বাঙালি সংস্কৃতি বিশেষ মর্যাদায় স্থান লাভ করেছে। উপাচার্য বাংলা নববর্ষে সবার জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও কল্যাণময় হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Advertisement

সকাল ১০টায় প্রশাসনের উদ্যোগে উপাচার্যের নেতৃত্বে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে পুরাতন কলাভবনে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মনজুরুল হক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্টার, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অফিসার, কর্মচারী, মহিলা ক্লাবের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিবারের মতো এবারও মঙ্গল শোভাযাত্রায় হরেক রঙের মুখোশ, হাতি, বাঘ, ফুল, পাখির প্রতিকৃতি ছিল। যার মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্যকে। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নারীরা পরেছেন লাল, সাদা শাড়ি। হাত ভর্তি কাচের চুড়ি। চুলে বেলি ফুল। শিশুরাও সেজেছে লাল, সাদার সাজে। পুরুষদের সাজও তাই। বাংলার চিরায়ত সাজে নববর্ষ বরণ করছে সবাই।

শোভাযাত্রা শেষে বেলা সাড়ে ১০টায় পুরাতন কলা ভবনের সামনে মৃৎ মঞ্চে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। বেলা সাড়ে ১১টায় শহীদ মিনার চত্বরে মহুয়াতলায় বাংলা বিভাগের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এসময় উপাচার্যসহ কলা ও মানবিকী অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ বাংলা বিভাগের অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ ও আবাসিক হলসমূহের আয়োজনে পৃথক পৃথকভাবে বর্ষবরণ উৎসব পালন করা হয়। দিনশেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের আয়োজনে লোকগান, বাউল সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।