চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চাকরির চেয়ে জীবন বড়, মুনাফার চেয়ে দেশ

করোনাভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে আবারও লকডাউন ভেঙে রাস্তায় নামতে বাধ্য করা হলো গার্মেন্টস শ্রমিকদের। গতকালকের মতো আজও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ঢাকা-গাজীপুরের দিকে ছুটেছে তারা। শ্রমিকদের দাবি, কারাখানা থেকে ফোন করে বলে দেওয়া হয়েছে, ২৬ এপ্রিল কাজে যোগ না দিলে, চাকরি থাকবে না। এমন হুমকির পর কোন শ্রমিকের সাধ্য বাড়িতে থাকে?

গত ৪ এপ্রিলও আমরা একই দৃশ্য দেখেছিলাম। গণপরিবহণ বন্ধ থাকার পরও লাখ লাখ শ্রমিক সেদিন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, রিকশা কিংবা ঠেলা ভ্যানে কর্মস্থলের দিকে ছুটেছিলেন। এমনকি অনেকেই মাইলের পর মাইল পথ পায়ে হেঁটেই পৌঁছেছিলেন গন্তব্যে। তবে পরিতাপের বিষয় সেই রাতেই আবার তাদেরকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু পোশাক শ্রমিকদের জীবন নিয়ে এভাবে দিনের পর দিন, বছরের পর কিংবা যুগের পর যুগ খেলে যাওয়া খেলোয়াড়রা জবাবদিহিতা, আইন-কানুনের বাইরেই থেকে যাবে? এই তো সেদিন সরকার কয়েকদফা সময় বাড়িয়ে ২০ এপ্রিলের মধ্যে মার্চ মাসের বেতন দিতে বললেন। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো বহু কারখানা মালিক সরকারের নির্দেশ অমান্য করে আজ পর্যন্তও সেই বেতন পরিশোধ করেনি।

বিজ্ঞাপন

এভাবে অসংখ্যবার আইন ভাঙার অপরাধে তাদের যেমন কিছুই হয়নি। আজকেও হাবে না- সেটা নিশ্চিত। ৪ এপ্রিলের ঘটনার পর সেদিন প্রায় মধ্যরাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ কারখানার বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। একইভাবে গতকালও বলা হলো, কারখানা খোলার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জোর করে যেন শ্রমিকদের গ্রাম থেকে ঢাকায় না আনার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

আমরা জানি, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ১ মাসেরও বেশি সময় বলতে গেলে দেশের প্রায় সবকিছুই বন্ধ রয়েছে। এতে খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে সব পেশার মানুষই নানান সংকটে পড়েছেন। যার যার অবস্থান থেকে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার চেষ্টা করছেন। তাতে শুধু পোশাক কারখানার মালিকরাই নন, বেশিরভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠানই ক্ষতির সম্মুখীন।

সর্বশেষ ৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার বলেছে, কঠোরভাবে স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে কিছু কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করা যেতে পারে। এর পরপরই কারখানা মালিকরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যেভাবে শ্রমিকদের আনতে শুরু করলেন, তাতে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি না কমে আরও বেড়ে গেছে।

এমনিতেই নানা কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন পোশাক শ্রমিকরা। এ জন্যই কি তাদের জীবনের কোনো দাম নেই? কেন তাদেরকে চাকরিচ্যুতির হুমকি দিয়ে, সরকারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কারাখানা চালু রাখতে হবে? দেশ-জাতি-পৃথিবীর এই দুর্যোগেও কি মালিকরা শুধু নিজেদের মুনাফাই দেখবেন? ব্যবসা তো সারাবছরই করেন তারা, এই সময়টায় একটু মানবিক হওয়া যায় না?

আমরা মনে করি, এখন মুনাফা অর্জনের সময় নয়, দেশ ও জাতিকে বাঁচানোর সময়। যেভাবে সারাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে শতভাগ নিরাপত্তা না দিয়ে পোশাক কারাখানা খোলা উচিৎ হবে না বলে আমরা মনে করি। আর বলতে গেলে যারা কোনো কিছুই মানেন না, তারা যে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করবেন- সেই নিশ্চয়তা দেবে কে?