চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চঞ্চল-সিয়াম আগামিতে ইন্ডাস্ট্রি লিড করবে: আফসানা মিমি

বহুবছর পর সিনেমাতে অভিনয় করেছেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী আফসানা মিমি। ২০ মে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘পাপ পুণ্য’-তে এই তারকা ‘পারুল বানু’ নামে গুরুত্বপূর্ণ এক চরিত্রে অভিনয় করেন।

‘মনপুরা’ খ্যাত নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় এ ছবিতে থাকতে পেরে চমৎকার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন বলে জানিয়েছেন আফসানা মিমি।

Reneta June

সেই সঙ্গে দাপুটে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও হালের ব্যস্ততম নায়ক সিয়াম আহমেদের প্রতি মুগ্ধতার কথাও জানালেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

চ্যানেল আই অনলাইনকে আফসানা মিমি বলেন, চঞ্চলের সঙ্গে এই প্রথম কাজ হলো। সিয়ামকেও অন্যভাবে পেয়েছি। শুটিংয়ের ফাঁকে আমরা প্রচুর গল্প করতাম। আমাদের আলাপে বিভিন্ন বিষয় উঠতে আসতো। অভিনেতা পরিচয়ের বাইরে এই দুজনকে আমি নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে চঞ্চল-সিয়াম আগামিতে ইন্ডাস্ট্রি লিড করবে।

‘পাপ পুণ্য’ প্রসঙ্গ টেনে আফসানা মিমি বলেন, সেলিম আমার খুব ভালো বন্ধু। ওর প্রথম লেখা ও পরিচালনায় আমি কাজ করি। পাপ পুণ্যের মাধ্যমে এই প্রথম তার পরিচালিত সিনেমায় কাজ করলাম। সিরিয়াস হয়ে ভাবছিলাম সিনেমা করবো কিনা, তখন সেলিম আমাকে সিনেমাটি করতে বলেন। অনেকটা মনিকাঞ্চন যোগ হওয়ার মতো। পরে আলাপ করে বুঝলাম সুন্দর একটি কাজ। শুটিংয়ে পূর্ণ মনযোগ দিয়ে কাজ করেছি। কাজ করতে গিয়ে নতুন একটি টিম ও ভালো কিছু মানুষকে পেয়েছি।

পাপ পুণ্যের বেশীরভাগ শুটিং হয়েছে চাঁদপুর। সেখানে শুটিংয়ে অংশ নেয়ার আগেই সহশিল্পী চঞ্চল চৌধুরী ও সিয়ামের আন্তরিকতায় মন গলে যায় আফসানা মিমির। সেই গল্পটা ছোট করে আফসানা মিমি এভাবে বললেন, রাত ২টার দিকে চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটে গিয়ে নামি। ভেবেছিলাম প্রডাকশন ম্যানেজার আমাকে নিতে আসবে। কিন্তু লঞ্চ ঘাটে গিয়ে দেখি ওই রাতে চঞ্চল, সিয়াম এবং সেলিম আমাকে নিতে এসেছে। তখনই আমার ভিতরে ইতিবাচক ধারণা হয়। মনে হচ্ছিল নতুন পরিবার পেয়েছি।

ছোট পর্দায় অভিনয় দিয়ে নব্বই দশকের দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছিলেন আফসানা মিমি। ১৯৯২ সালে ‘ছুটির ঘণ্টা’-খ্যাত নির্মাতা আজিজুর রহমানের ‘দিল’ নামে একটি ছবিতে কাজ করেছিলেন তিনি। সহশিল্পী ছিলেন নাঈম-শাবনাজ। আফসানা মিমি ‘দ্বিতীয় নায়িকা’র চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে একাধিক বাণিজ্যিক ছবির প্রস্তাব পেলেও আফসানা মিমি আর করেননি।

আফসানা মিমি মনে করেন, তিনি কখনই বাণিজ্যিক ছবির নায়িকাদের মতো ছিলেন না। কারণ তার নাচ, ফাইটিং জানা ছিল না। বলেন, নায়িকা হতে গেলে শরীরে আলাদা রিদম লাগে। আমার সেটা কখনই ছিল না। তাছাড়া আমি সবসময় থিয়েটার ও টিভি নাটকে ফোকাস ছিলাম। সবসময় নিজেকে অভিনেত্রী ভেবেছি। আজও তাই ভাবি। তাই তখন সিনেমা ফিরিয়ে দিয়ে কখনই আফসোস হয় না। কারণ টিভি মিডিয়াতে আমি সেইসময় যেভাবে চেয়েছি সেভাবে কাজ পেয়েছি এবং করেছি।

আফসানা মিমি বলেন, আমার ফেসবুক নেই। এখনকার ছোট বাচ্চারা আমার ৯০ দশকের কাজগুলো নিয়ে কথা বলে। তখন আমি তাদের জিজ্ঞেস করি, আমাকে চেনো কীভাবে? আমি তো এখন সেভাবে কাজ করি না। তারা বলে, ইউটিউব থেকে আমার কাজগুলো দেখে এবং তাদের কাছে এসব কাজ খুব ভালো লাগে। এখনকার জেনারেশন সেই ৩০ বছর আগের কাজগুলো দেখে, আজও আমার কাজগুলো নিয়ে মানুষ কথা বলে।

বড়পর্দায় প্রিয়তমেষু, চিত্রা নদীর পাড়ের মতো ভিন্ন ধারার সিনেমা করেছেন আফসানা মিমি। পরে নূর ইমরান মিঠুর পরিচালনায় ‘পাতালঘর’ নামে আরেকটি ছবি করেছেন। সেই ছবিটি মুক্তি অপেক্ষায়। এবার করলেন ‘পাপ পুণ্য’।

শুধু বাংলাদেশ নয়, আমেরিকা ও কানাডায় একযোগে মুক্তি পাচ্ছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘পাপপুণ্য’। আন্তর্জাতিকভাবে সিনেমাটির পরিবেশক স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো। জানা যায়, উত্তর আমেরিকার ১১২ টির মতো সিনেমা হলে এই সিনেমাটি মুক্তি পাবে।